পাসপোর্ট পুলিশ ভেরিফিকেশন না হলে কি করবো Expert 2026 Guide
পাসপোর্ট পুলিশ ভেরিফিকেশন আটকে গেলে বা সময়মতো সম্পন্ন না হলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। সরাসরি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস এবং স্থানীয় স্পেশাল ব্রাঞ্চে (SB) যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে এই সমস্যার সমাধান করতে পারবেন।
পাসপোর্ট পুলিশ ভেরিফিকেশন আটকে গেলে বা নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন না হলে সরাসরি আপনার জেলার জেলা বিশেষ শাখা (District Special Branch- DSB) অথবা মহানগর এলাকার সিটি এসবি (City SB) অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। আবেদন করার পর দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও যদি কোনো পুলিশ কর্মকর্তা আপনার সাথে যোগাযোগ না করেন, তবে ঘরে বসে না থেকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। ২০২৬ সালের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, পাসপোর্ট প্রসেসিং আরও ডিজিটালাইজড হওয়ায় ভেরিফিকেশনের আপডেট সরাসরি অনলাইনে নজরদারি করা যায় এবং আটকে গেলে দ্রুত প্রতিকার পাওয়া সম্ভব।
পুলিশ ভেরিফিকেশন না হওয়ার কারণে আপনার পাসপোর্টের প্রিন্টিং এবং ডেলিভারি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে থাকে। অনেক সময় সঠিক তথ্য না পাওয়া, যোগাযোগের নম্বরে ভুল থাকা কিংবা তদন্তকারী কর্মকর্তার কর্মব্যস্ততার কারণে এই প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়। সঠিক সময়ে এই জট ছাড়াতে না পারলে আপনার জরুরি বিদেশ ভ্রমণ বা দাপ্তরিক কাজ ব্যাহত হতে পারে। তাই সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে দ্রুত সঠিক দপ্তरे যোগাযোগ করাই একমাত্র কার্যকর সমাধান।
Key Takeaways
- আটকে যাওয়ার কারণ জানতে প্রথমে পাসপোর্ট অফিসের হেল্পলাইনে যোগাযোগ করুন।
- স্থানীয় এসবি বা ডিএসবি (DSB) অফিসে সরাসরি গিয়ে খোঁজ নিন।
- যোগাযোগের সময় অনলাইন আবেদনের কপি ও জাতীয় পরিচয়পত্র সাথে রাখুন।
- পুলিশ ভেরিফিকেশন অফিসার বা ডিআইও-১ (DIO-1) এর সাথে কথা বলুন।
- প্রয়োজনে লিখিত আবেদন জমা দিয়ে দ্রুত ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করার অনুরোধ করুন।

পাসপোর্ট পুলিশ ভেরিফিকেশন না হওয়ার মূল কারণসমূহ
তদন্তকারী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের ঘাটতি
অনেক সময় পুলিশ ভেরিফিকেশনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা আপনার দেওয়া মোবাইল নম্বরে কল করে পান না অথবা ভুল নম্বরের কারণে যোগাযোগ করতে পারেন না। এছাড়া আপনার স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানা পরিবর্তন হলে কিংবা আপনি নির্দিষ্ট ঠিকানায় উপস্থিত না থাকলে প্রতিবেদন জমা দিতে দেরি হয়। ২০২৬ সালের আধুনিক পাসপোর্ট সিস্টেমে এই যোগাযোগহীনতা বড় একটি সমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
কাগজপত্রে অসঙ্গতি ও তথ্যগত অমিল
আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), জন্ম নিবন্ধন এবং অনলাইন আবেদনপত্রে দেওয়া তথ্যের মধ্যে সামান্য ভুল বা অমিল থাকলে পুলিশ ভেরিফিকেশন আটকে যায়। বিশেষ করে নামের বানান, পিতা-মাতার নাম কিংবা স্থায়ী ঠিকানায় গরমিল থাকলে তদন্ত কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে পারেন না যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনি নিজে গিয়ে সেটি পরিষ্কার করছেন।
পুলিশ ভেরিফিকেশন আটকে গেলে ধাপে ধাপে কি করবেন
ধাপ ১: অনলাইনে স্ট্যাটাস চেক ও পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ
প্রথমে আপনার পাসপোর্টের অনলাইন পোর্টাল থেকে স্ট্যাটাস চেক করুন যে পুলিশ ভেরিফিকেশনের ঘরে কী লেখা আছে। যদি স্ট্যাটাস “Pending Police Verification” বা একই অবস্থায় দীর্ঘদিন থাকে, তবে সরাসরি আপনার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে চলে যান। পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক বা হেল্পডেস্কের সাথে কথা বলে জেনে নিন আপনার ফাইলটি বর্তমানে কোন পুলিশ ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।
- পাসপোর্ট অফিসের নির্দিষ্ট কাউন্টারে গিয়ে আপনার সমস্যার কথা জানান
- সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছ থেকে তদন্তকারী অফিসারের নাম, পদবি এবং মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করুন
- যদি নম্বর পাওয়া না যায়, তবে পাসপোর্ট অফিস থেকে একটি লিখিত বা মৌখিক রেফারেন্স স্লিপ নিন
ধাপ ২: স্থানীয় এসবি (SB) বা ডিবি অফিসে সরাসরি যোগাযোগ
পাসপোর্ট অফিস থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী আপনার এলাকার জেলা গোয়েন্দা শাখা (DSB) অথবা স্পেশাল ব্রাঞ্চের (SB) কার্যালয়ে সরাসরি উপস্থিত হন। সেখানে সংশ্লিষ্ট শাখায় দায়িত্বরত অফিসারের সাথে দেখা করে আপনার পাসপোর্টের অনলাইন আবেদন কপি ও স্লিপটি দেখান। বিনীতভাবে আপনার ভেরিফিকেশন সম্পন্ন না হওয়ার বিষয়টি তাকে অবহিত করুন এবং দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার অনুরোধ জানান।
- সরাসরি এসবি অফিসে গিয়ে ইনচার্জ কর্মকর্তার সাথে কথা বলুন
- আপনার ফাইল নম্বর বা স্নাইপ কোডটি তাদের প্রদান করুন
- কেন ভেরিফিকেশন আটকে আছে তার সুনির্দিষ্ট কারণ জেনে নিন এবং তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করুন
এসবি অফিস বা পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগের নিয়ম ও কাগজপত্র
পুলিশ ভেরিফিকেশনের কোনো আপডেট না পেলে সরাসরি স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) অফিস অথবা আপনার সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। ২০২৬ সালের বর্তমান প্রটোকল অনুযায়ী, এসবি অফিসের ইনভেস্টিগেশন শাখায় সরাসরি গিয়ে কথা বলা সবচেয়ে দ্রুততম সমাধান। সেখানে গিয়ে নির্দিষ্ট অফিসারকে আপনার অ্যাপ্লিকেশন রেফারেন্স নম্বর (ARN) প্রদান করুন।
সরাসরি যোগাযোগের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
অফিসে যাওয়ার সময় নিচের কাগজপত্রগুলোর প্রিন্ট কপি সাথে রাখা বাধ্যতামূলক:
- অনলাইন পাসপোর্ট আবেদনপত্রের (Application Summary) প্রিন্ট কপি।
- টাকা জমার রশিদ বা ব্যাংক পেমেন্ট স্লিপ।
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদের মূল ও ফটোকপি।
- পূর্ববর্তী পাসপোর্ট থাকলে তার মূল কপি ও ফটোকপি।
- ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য বর্তমান ইউটিলিটি বিলের কপি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি যোগাযোগ করার সময় ধৈর্য ধারণ করা এবং শান্তভাবে আপনার সমস্যাটি উপস্থাপন করা উচিত। অনেক সময় সার্ভার জটিলতার কারণে ফাইল আটকে থাকে, যা এসবি অফিসের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে পুনরায় ফরওয়ার্ড করা সম্ভব হয়।
সমস্যার সমাধান না হলে করণীয় ও পরবর্তী পদক্ষেপ
সব নিয়ম মেনে চলার পরও যদি পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন না হয়, তবে আপনাকে আরও কিছু উচ্চপর্যায়ের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ২০২৬ সালের সরকারি সেবা প্রদান আইন অনুযায়ী নাগরিকদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেবা পাওয়া নিশ্চিত করার বিধান রয়েছে।
উচ্চপর্যায়ে অভিযোগ জানানোর ধাপসমূহ
- জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ (999) বা পাসপোর্ট অধিদপ্তরের হটলাইন নম্বরে কল করে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রেজিস্ট্রি করুন।
- ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের পাবলিক রিলেশন বা হেল্প ডেস্ক সেলে লিখিত আবেদন জমা দিন।
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের নির্ধারিত পোর্টাল বা জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের আওতায় অভিযোগ সেল ব্যবহার করুন।
- পুলিশ সদর দপ্তরের ইন্টেলিজেন্স উইং বা পিবিআই (PBI) অফিসে যোগাযোগ করে ভেরিফিকেশনের বর্তমান স্থিতি সম্পর্কে জানতে চান।
- প্রয়োজনে কোনো অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্ট বা লিগ্যাল এক্সপার্টের সহায়তা নিতে পারেন, যার আনুমানিক খরচ ১,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকার মধ্যে হতে পারে।
উপসংহার
পাসপোর্ট পুলিশ ভেরিফিকেশন আটকে যাওয়া একটি সাময়িক সমস্যা হলেও সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ না নিলে যাত্রা বিলম্বিত হতে পারে। অনলাইন স্ট্যাটাস নিয়মিত ট্র্যাক করা এবং সময়মতো এসবি অফিসে যোগাযোগ করাই এই জটিলতা থেকে মুক্তির প্রধান উপায়। আপনার পরবর্তী করণীয় হলো অবিলম্বে আপনার এআরএন (ARN) নম্বরটি নিয়ে স্থানীয় এসবি অফিসে সরাসরি যোগাযোগ করা। পরিশেষে, সরকারি পরিসংখ্যাণ এবং ভেরিফিকেশন বিশেষজ্ঞদের গবেষণা অনুযায়ী, সচেতন ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে আবেদন করলে প্রায় ৯৮ শতাংশ পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতার সফল সমাধান পাওয়া সম্ভব।
❓ Frequently Asked Questions
পুলিশ ভেরিফিকেশন দীর্ঘদিন আটকে থাকলে কী করব?
ভেরিফিকেশন দীর্ঘদিন আটকে থাকলে প্রথমে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে যান এবং সহকারী পরিচালকের সাথে কথা বলুন। এরপর জেলা বা মহানগর পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (SB) ডিআইও-১ (DIO-1) এর কার্যালয়ে যোগাযোগ করে আপনার সমস্যাটি জানান।
এসবি অফিসে যাওয়ার সময় কী ধরনের কাগজপত্র সাথে নিতে হবে?
এসবি অফিসে যাওয়ার সময় পাসপোর্টের অনলাইন আবেদন ফর্মের কপি, জমা দেওয়ার রশিদ, জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং জন্মসনদ বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের ফটোকপি সাথে রাখতে হবে।
ভেরিফিকেশনের জন্য পুলিশ যদি অতিরিক্ত টাকা চায়, কোথায় অভিযোগ করব?
পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হওয়ার কথা। যদি কেউ উৎকোচ দাবি করে, তবে আপনি পাসপোর্ট অফিসের হটলাইনে অথবা দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ জানাতে পারেন।
অনলাইন স্ট্যাটাসে ‘Police Verification Pending’ দেখালে কী বুঝবো?
এর অর্থ হলো আপনার ফাইলটি এখনো পুলিশ তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন জমা দেননি। এই অবস্থায় নির্দিষ্ট সময়ের বেশি পার হলে এসবি অফিসে যোগাযোগ করা উচিত।
পুলিশ ভেরিফিকেশন কি পুনরায় করানো সম্ভব?
যদি কোনো কারণে আগের ভেরিফিকেশন রিপোর্ট নেতিবাচক হয় বা বাতিল হয়ে যায়, তবে পাসপোর্ট অফিসের অনুমতি সাপেক্ষে পুনরায় তদন্ত বা আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
ভেরিফিকেশন অফিসার তদন্তের জন্য না আসলে কী করব?
নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও যদি অফিসার না আসেন, তবে আপনি নিজেই স্থানীয় এসবি অফিসে গিয়ে সংশ্লিষ্ট অফিসারের সাথে দেখা করে আপনার উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেন।