ট্রেড লাইসেন্স কিভাবে করবেন | ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ গাইড ২০২৬
বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য, দোকান, প্রতিষ্ঠান বা যে কোনো ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হলে আইনত একটি বাধ্যতামূলক নথি হলো ট্রেড লাইসেন্স। এটি মূলত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ, প্রদত্ত একটি সরকারি অনুমতিপত্র, যা প্রমাণ করে যে আপনি নির্দিষ্ট এলাকায় বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
ট্রেড লাইসেন্স ব্যবসার পরিচয়, নিয়ন্ত্রণ এবং সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ব্যবসা নিবন্ধন, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, টিন/ই-টিন করা, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম, সরকারি বা বেসরকারি টেন্ডার অংশগ্রহণ,এসব ক্ষেত্রেই ট্রেড লাইসেন্স অপরিহার্য। অনেক সময় সাধারণ মানুষ ভুলভাবে মনে করেন শুধুমাত্র বড় ব্যবসার জন্য এটি প্রয়োজন; বাস্তবে ক্ষুদ্র দোকান, অনলাইন ব্যবসা, ফ্রিল্যান্স অফিস, ছোট স্টুডিও থেকে শুরু করে প্রায় সকল ধরনের ব্যবসার জন্যই এটি বাধ্যতামূলক।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, ট্রেড লাইসেন্স না থাকলে স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী জরিমানার পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতাও কর্তৃপক্ষ রাখে। তাই ব্যবসায় আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এটি একটি প্রাথমিক ও মৌলিক ধাপ।
এই গাইডে আমরা আলোচনা করবো, ট্রেড লাইসেন্স কী, কোন আইন অনুযায়ী ইস্যু করা হয়, কীভাবে আবেদন করবেন, কত ফি লাগে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কী, এবং আবেদন থেকে নবায়ন পর্যন্ত সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া।
আপনি যদি প্রথমবার ব্যবসা শুরু করেন, অথবা বিদ্যমান ব্যবসার জন্য ট্রেড লাইসেন্স নিতে চান, এই আর্টিকেল আপনাকে সঠিক ও প্রমাণভিত্তিক পথ দেখাবে।
আইনি কাঠামো ও মূল ধারা – ট্রেড লাইসেন্সের আইনগত ভিত্তি
বাংলাদেশে ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও পরিচালনার বিষয়টি স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের অধীনে পরিচালিত হয়। এটি কোনো একক কেন্দ্রীয় আইনের মাধ্যমে নয়; বরং বিভিন্ন স্থানীয় সরকার আইন ও বিধিমালার সম্মিলনে পরিচালিত একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। নিচে এর প্রধান আইনি ভিত্তিগুলো ব্যাখ্যা করা হলো:
স্থানীয় সরকার আইন (City Corporation / Municipality / Union Parishad Laws)
বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার অনুমতি প্রদানের ক্ষমতা স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষকে প্রদান করা হয়েছে নিম্নলিখিত আইনের মাধ্যমেঃ
(ক) সিটি করপোরেশন আইন, ২০০৯
এই আইনের অধীনে সিটি করপোরেশন তাদের এলাকার বাণিজ্যিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও লাইসেন্স প্রদানের ক্ষমতা রাখে।
- আইনের বিভিন্ন ধারায় (যেমন: ধারা 78, 82 ইত্যাদি) উল্লেখ আছে যে করপোরেশন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে রেজিস্টার করা, লাইসেন্স দেওয়া, নবায়ন করা এবং নিয়ম ভঙ্গ করলে জরিমানা আরোপ করতে পারবে।
(খ) পৌরসভা আইন, ২০০৯
পৌরসভা এলাকায় ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স ইস্যুর ক্ষমতা এই আইনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট করা হয়েছে।
- পৌরসভা তার অঞ্চলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেওয়া, ফি নির্ধারণ এবং অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার রাখে।
(গ) ইউনিয়ন পরিষদ আইন, ২০০৯
গ্রামাঞ্চল বা ইউনিয়ন পর্যায়ে ব্যবসা করলে ইউনিয়ন পরিষদ ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করে।পরিষদ এলাকার ব্যবসা নিয়ন্ত্রিত রাখতে লাইসেন্স প্রদান একটি বাধ্যতামূলক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হিসেবে নির্দেশিত।
বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (BNBC) ও অন্যান্য বিধিমালা
কিছু ব্যবসার ক্ষেত্রে (যেমন: কারখানা, রেস্টুরেন্ট, গুদামঘর) ট্রেড লাইসেন্স প্রদানের আগে BNBC অনুযায়ী ভবনের সেফটি, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যঝুঁকি ইত্যাদি বিবেচনা করা হয়।
- সিটি করপোরেশন/পৌরসভা চাইলে ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর বা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা থেকে পরিদর্শন রিপোর্টও চাইতে পারে।
আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ – টিআইএন/ই-টিআইএন বাধ্যতামূলকতা
অনেক ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্সের আবেদন করতে টিআইএন বা ই-টিআইএন থাকা আবশ্যক।
- বিশেষ করে লিমিটেড কোম্পানি, বড় ব্যবসা বা ভ্যাট নিবন্ধন-সংশ্লিষ্ট ব্যবসার ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক।
ভ্যাট আইন, ২০১২ – ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন (BIN) সংযুক্তি
যেসব ব্যবসার ভ্যাট বাধ্যতামূলক (সাধারণত বার্ষিক টার্নওভার নির্দিষ্ট সীমার বেশি), সেক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স নিতে বা নবায়ন করতে BIN (Business Identification Number) দিতে হয়।
লাইসেন্স নবায়ন ও ফি নির্ধারণের বিধিমালা
লাইসেন্সের ফি, জরিমানা, পরিকল্পনা ফি, সাইনবোর্ড ট্যাক্স ইত্যাদি প্রতিটি স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ নিজস্ব উপ-আইন (By-laws) অনুযায়ী নির্ধারণ করে।
তাই ঢাকায় লাইসেন্স ফি এক রকম, আবার ছোট পৌরসভায় বা ইউনিয়নে ভিন্ন হতে পারে।
সংক্ষেপে আইনি কাঠামো:
ট্রেড লাইসেন্স মূলত একটি প্রশাসনিক অনুমতিপত্র হলেও এর আইনি ভিত্তি রয়েছে:
- স্থানীয় সরকার আইন ২০০৯
- পৌরসভা আইন ২০০৯
- ইউনিয়ন পরিষদ আইন ২০০৯
- ট্যাক্স ও ভ্যাট সংশ্লিষ্ট আইন
- স্থানীয় সরকারের উপ-আইন/By-laws
- ভবন ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধিমালা (BNBC)
এসব আইন নিশ্চিত করে যে একটি ব্যবসা নির্দিষ্ট এলাকার ভৌগোলিক সীমানা ও প্রশাসনিক নিয়মকানুন মেনে পরিচালিত হচ্ছে।
ট্রেড লাইসেন্স সম্পর্কিত বিরোধ বা জটিলতা সাধারণত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, লাইসেন্স বাতিল, ব্যবসার ধরন পরিবর্তন, বা অনুমোদন না পাওয়া, এ ধরনের বিষয়কে কেন্দ্র করে দেখা যায়। যদিও এটি অপরাধমূলক নয় বরং প্রশাসনিক বিষয়, তারপরও বিভিন্ন মামলায় আদালত কিছু গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করেছেন। নিচে বাস্তব উদাহরণ ও বিচারিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হলো:
অনুমোদন ছাড়া ব্যবসা করলে প্রশাসনের ক্ষমতা
বাংলাদেশের সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা আইন অনুযায়ী কোনো ব্যবসা ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া পরিচালিত হলে প্রশাসন:
- জরিমানা করতে পারে
- প্রতিষ্ঠান সিলগালা করতে পারে
- অবৈধ সাইনবোর্ড অপসারণ করতে পারে
- নোটিস দিয়ে ব্যবসা বন্ধ রাখতে পারে
বাস্তব উদাহরণ:
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (DNCC) নিয়মিত অভিযানে লাইসেন্সহীন দোকান, রেস্টুরেন্ট ও গুদামঘর সিলগালা করে থাকে। এসব ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স না থাকা আইনগতভাবে ‘অবৈধ ব্যবসা’ হিসেবে গণ্য হয়।
লাইসেন্স বাতিল বা স্থগিত করার ক্ষেত্রে ন্যায্যতা (Natural Justice)
আদালত বিভিন্ন রায়ে বলেছেন,কেউ যদি যথাযথ প্রক্রিয়ায় লাইসেন্স গ্রহণ করে থাকে, তবে তা বাতিল করার আগে অবশ্যই তাকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিতে হবে।
আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি:
- কারণ ব্যতীত বা শুনানি ছাড়া কোনো প্রশাসনিক সংস্থা লাইসেন্স বাতিল করতে পারে না
- এটি সংবিধানের 31 ও 32 অনুচ্ছেদে প্রদত্ত প্রাকৃতিক ন্যায়সংগতির অধিকার (Right to Natural Justice) লঙ্ঘন করে
লাইসেন্স পেতে অযৌক্তিক বিলম্ব হলে করণীয়
অনেক সময় সিটি করপোরেশন বা পৌরসভায় লাইসেন্স অনুমোদনে অযৌক্তিক সময় নেয়।
এই ক্ষেত্রে আদালত বলেছে, যে কোনো প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষকে যৌক্তিক সময়ে সিদ্ধান্ত দিতে হবে।
বাস্তব পরিস্থিতি:
যদি আবেদনকারীর ডকুমেন্ট ঠিক থাকে, ফি পরিশোধ করা থাকে, এবং কোনো আইনি বাধা না থাকে, তবে ট্রেড লাইসেন্স ইস্যুতে অযৌক্তিক বিলম্ব করা প্রশাসনিক ব্যত্যয় হিসেবে গণ্য হবে। প্রয়োজনে হাইকোর্টে রিট দায়ের করে প্রতিকার পাওয়া সম্ভব।
বিশেষ ব্যবসার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা মানদণ্ড
রেস্টুরেন্ট, কারখানা, গুদামঘর, রিকশা গ্যারেজ ইত্যাদি ব্যবসায় আগুনের ঝুঁকি বেশি হওয়ায় সিটি করপোরেশন ফায়ার সার্ভিস সার্টিফিকেট বা স্বাস্থ্যবিভাগের রিপোর্ট চাইতে পারে।
আদালত এ বিষয়ে বলেছেন, এটি বৈধ ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট।
অনলাইন ব্যবসা ও হোম-বেইজড ব্যবসার লাইসেন্স
বিগত কয়েক বছরে অনলাইন ব্যবসা খুবই জনপ্রিয় হয়েছে। সিটি করপোরেশন স্পষ্ট করেছে”:
- অনলাইন ব্যবসাও ট্রেড লাইসেন্স-এর আওতায়
- বাসা থেকে ব্যবসা করলে “Home-based Business” হিসেবে লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক
আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী এটি বৈধ এবং ভোক্তার অধিকার রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয়।
সংক্ষেপে আদালতের অবস্থান:
- ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা আইনবিরোধী
- লাইসেন্স বাতিলের আগে নোটিস দিতে হবে
- অযৌক্তিক বিলম্ব প্রশাসনিক অবিচার
- ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসায় অতিরিক্ত সেফটি চাওয়া বৈধ
- অনলাইন ব্যবসাও লাইসেন্সের আওতায় আসবে
নাগরিকদের করণীয় ও পরামর্শ – কীভাবে ট্রেড লাইসেন্স করবেন (Step-by-Step Guide)
ট্রেড লাইসেন্স নেওয়ার প্রক্রিয়া সাধারণত সহজ, তবে সঠিক জায়গায় আবেদন করতে না জানলে অনেকেই সমস্যায় পড়েন। নিচে নাগরিকদের জন্য পরিপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হলো:
কোথায় এবং কার কাছে আবেদন করবেন
আপনার ব্যবসা যে এলাকার অন্তর্ভুক্ত, সেই অনুযায়ী লাইসেন্স ইস্যু করবে:
- সিটি করপোরেশন এলাকা: Trade License বিভাগ (Zone Office)
- পৌরসভা এলাকা: পৌরসভা কার্যালয়
- ইউনিয়ন এলাকা: ইউনিয়ন পরিষদ (U.P. Chairman Office)
ভিন্ন এলাকায় ব্যবসা করলে সেই এলাকা পরিবর্তন করলে লাইসেন্স নতুন করে নিতে হবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
যেকোনো ব্যবসার সাধারণ ট্রেড লাইসেন্সের জন্য প্রয়োজনঃ
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
- ১ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি
- ভাড়াটিয়া হলে: হালনাগাদ ভাড়া চুক্তিপত্র
- নিজস্ব জায়গা হলে: দলিল/দাখিলা/খাজনা রশিদ
- ব্যবসার নাম, ধরন ও ঠিকানা
- মোবাইল নম্বর ও ইমেইল
- পেশা কর পরিশোধের রশিদ (যদি প্রযোজ্য)
বিশেষ ব্যবসার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নথি লাগতে পারে:
- ফায়ার সার্ভিস সেফটি সনদ (রেস্টুরেন্ট/গুদাম)
- পরিবেশ ছাড়পত্র (কারখানা)
- ফুড লাইসেন্স (খাবারের দোকান)
- ভ্যাট নিবন্ধন/BIN (ভ্যাটযোগ্য ব্যবসা)
- টিআইএন/ই-টিআইএন
আবেদন প্রক্রিয়া (Step-by-Step)
Step 1: সঠিক অফিসে যোগাযোগ
নিকটস্থ সিটি করপোরেশন/পৌরসভা/ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্স/রাজস্ব বিভাগে যান।
Step 2: আবেদন ফর্ম সংগ্রহ
- অধিকাংশ সিটি করপোরেশন অনলাইনে ফর্ম সরবরাহ করে
- চাইলে জোন অফিস থেকেও ফর্ম পাওয়া যায়
Step 3: ফর্ম পূরণ ও কাগজপত্র জমা
বাণিজ্যের ধরন, মালিকের তথ্য, স্থানের ঠিকানা ও প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত করুন।
Step 4: সরকারি ফি পরিশোধ
ফি সাধারণত ব্যবসার ধরন ও আকার অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
এটি বাণিজ্যিক, শিল্প বা সার্ভিস ক্যাটাগরি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
Step 5: পরিদর্শন (যদি প্রয়োজন হয়)
অনেক ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসে যাচাই করেন।
Step 6: লাইসেন্স ইস্যু
সবকিছু ঠিক থাকলে ৩–৭ দিনের মধ্যে ট্রেড লাইসেন্স হাতে পাওয়া যায়।

ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন
- লাইসেন্স প্রতি বছর নবায়ন করতে হয়
- নবায়নের সময় সাধারণত শুধু ফি পরিশোধ করলেই হয়
- ব্যবসার ধরন পরিবর্তন হলে নতুন লাইসেন্স নিতে হয় বা সংশোধন করতে হয়
নাগরিকদের জন্য কার্যকর পরামর্শ
- আবেদন করার আগে এলাকার জোন অফিস সম্পর্কে নিশ্চিত হন
- ভাড়া চুক্তিপত্র বা খাজনা রশিদ আপডেট রাখুন
- সাইনবোর্ড ট্যাক্স আলাদা, এটি পরিশোধ করতে ভুলবেন না
- অনলাইন ব্যবসা হলেও বাসার ঠিকানায় হোম-বেইজড লাইসেন্স নিন
- ব্যবসার নাম এমন দিন যা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা বা ভবিষ্যৎ রেজিস্ট্রেশনে সুবিধা দেয়
- সব ফি সরকারি রসিদ ছাড়া পরিশোধ করবেন না
ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে সাধারণ নাগরিকদের সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত প্রশ্নগুলোর সংক্ষিপ্ত ও আইনভিত্তিক উত্তর নিচে তুলে ধরা হলো:
ট্রেড লাইসেন্স কি সবাইকে নিতে হয়?
উত্তর:হ্যাঁ। ছোট দোকান, অনলাইন ব্যবসা, অফিস, স্টুডিওসহ যে কোনো ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করলে ট্রেড লাইসেন্স বাধ্যতামূলক (স্থানীয় সরকার আইন, ২০০৯)।
বাসা থেকে অনলাইন ব্যবসা করলে কি ট্রেড লাইসেন্স লাগে?
উত্তর: হ্যাঁ। “Home-based Business” নামে সিটি করপোরেশন/পৌরসভা লাইসেন্স ইস্যু করে। অনলাইন ব্যবসাও বাণিজ্যিক কার্যক্রম হিসেবে গণ্য।
ট্রেড লাইসেন্স করতে কত টাকা লাগে?
উত্তর: ফি নির্ভর করে:
- ব্যবসার ধরন
- দোকান/অফিসের আকার
কোন সিটি করপোরেশন বা পৌরসভায় করছেন
ঢাকায় সাধারণ দোকানের লাইসেন্স ফি সাধারণত ১০০০–৩০০০ টাকার মধ্যে হয়, তবে এলাকা ও ক্যাটাগরি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
কতদিনে ট্রেড লাইসেন্স পাওয়া যায়?
উত্তর: সব নথি ঠিক থাকলে সাধারণত ৩–৭ দিনের মধ্যে পাওয়া যায়। কিছু ক্ষেত্রে পরিদর্শন থাকলে সময় একটু বাড়তে পারে।
ট্রেড লাইসেন্স প্রতি বছর নবায়ন করা কি বাধ্যতামূলক?
উত্তর: হ্যাঁ। ট্রেড লাইসেন্স প্রতি বছর নবায়ন করতে হয়। নবায়ন না করলে জরিমানা বা ব্যবসা সাময়িক বন্ধ হতে পারে।
ভাড়া চুক্তিপত্র না থাকলে কি লাইসেন্স পাওয়া যায়?
উত্তর: সাধারণত না। ভাড়াটিয়া ব্যবসার ক্ষেত্রে হালনাগাদ ভাড়া চুক্তিপত্র অপরিহার্য। নিজস্ব জায়গা হলে দলিল/খাজনা রশিদ প্রয়োজন।
ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করলে কী হয়?
উত্তর: সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা:
- জরিমানা করতে পারে
- ব্যবসা সিলগালা করতে পারে
- নোটিশ দিয়ে ব্যবসা বন্ধ রাখতে পারে
এটি আইনত অবৈধ ব্যবসা হিসেবে গণ্য।
ব্যবসার নাম পরিবর্তন করলে কি নতুন লাইসেন্স লাগবে?
উত্তর: হ্যাঁ। নাম, মালিকানা বা ব্যবসার ধরন পরিবর্তন হলে সংশোধন বা নতুন লাইসেন্স নিতে হয়।
উপসংহার
বাংলাদেশে যে কোনো ধরনের ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স একটি অপরিহার্য ও আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নথি। এটি শুধু ব্যবসাকে বৈধতা দেয় না, বরং কর, ভ্যাট, ব্যাংকিং, আমদানি-রপ্তানি, টেন্ডারসহ ভবিষ্যতের নানান বাণিজ্যিক প্রক্রিয়ায় আপনার ব্যবসাকে পরিচিতি ও নিরাপত্তা প্রদান করে।
ট্রেড লাইসেন্সের পুরো প্রক্রিয়া সঠিকভাবে অনুসরণ করলে এটি পাওয়া খুবই সহজ। সঠিক কাগজপত্র, সঠিক এলাকার অফিস এবং সঠিক ফি পরিশোধ করলে কয়েক দিনের মধ্যেই লাইসেন্স ইস্যু হয়ে যায়।
ব্যবসার স্বচ্ছতা, আইনি ঝামেলা এড়ানো এবং রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিক দায়িত্ব পালন, এই তিনটি কারণে ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সুতরাং, ব্যবসা শুরু করার আগেই ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া উচিত, আর পুরনো ব্যবসার ক্ষেত্রে নিয়মিত নবায়ন রাখা প্রয়োজন। এতে ব্যবসা আইনসম্মত ও ঝামেলামুক্তভাবে এগিয়ে যেতে পারে।