সন্তানের হেফাজত কার পাওয়ার অধিকার? বাংলাদেশি আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ গাইড
সন্তান একটি দম্পতির জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। কিন্তু বৈবাহিক সম্পর্ক ভেঙে গেলে, আলাদা বাস করা শুরু করলে বা সংঘাত তৈরি হলে, সবচেয়ে সংবেদনশীল প্রশ্নটি হয় “সন্তানের হেফাজত কার পাওয়ার অধিকার?”
বাংলাদেশে এই বিষয়টি শুধু পারিবারিক বা সামাজিক সমস্যা নয়; বরং এটি আইন, ধর্মীয় নীতি, শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ (Best Interest of the Child),এই তিনটির সমন্বয়ে নির্ধারিত হয়।
বাবা-মায়ের ব্যক্তিগত মতভেদ যাই থাকুক, সন্তানের অধিকার ও নিরাপত্তা সর্বাগ্রে বিবেচনা করে আদালত হেফাজত নির্ধারণ করে। তাই সাধারণ মানুষকে জানতে হবে:
- কোন পরিস্থিতিতে মা সন্তানের হেফাজত পেতে পারেন
- কখন বাবা এই অধিকার দাবি করতে পারেন
- আদালত কোন কোন বিষয় বিবেচনা করে
- এবং হেফাজত মানে কী,সন্তানের কাছে থাকা নাকি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ?
বাংলাদেশে মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান ও অন্যান্য ধর্মীয় ব্যক্তিগত আইনে হেফাজতের নীতি ভিন্ন হতে পারে। তবে বিচারিক সিদ্ধান্ত সবসময়ই শিশুর কল্যাণ, নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানসিক সুস্থতার ওপর নির্ভর করে।
এই আর্টিকেলে আমরা সংক্ষেপে কিন্তু আইনি ভিত্তিতে আলোচনা করব:
- সন্তানের হেফাজতের কাঠামো
- কোন পরিস্থিতিতে কার অধিকার বেশি
- আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি
- সাধারণ মানুষের করণীয়
- এবং সাধারণ জিজ্ঞাসাগুলোর সহজ উত্তর
আইনি কাঠামো ও মূল ধারা
সন্তানের হেফাজত নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে একাধিক আইন প্রযোজ্য হয়। তবে মূল লক্ষ্য একটাই,শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ (Welfare of the Child) নিশ্চিত করা। নিচে আইনি কাঠামোগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো।
Guardians and Wards Act, 1890 (GWA) – মূল আইন
বাংলাদেশে সন্তান হেফাজত ও অভিভাবকত্ব নির্ধারণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইন হলো Guardians and Wards Act, 1890।
এই আইনে বলা হয়েছে:
- আদালত শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেবে (Section 17)।
- আদালত শিশুর বয়স, লিঙ্গ, ধর্ম, শারীরিক–মানসিক অবস্থা, শিক্ষার পরিবেশ এবং বাবা-মায়ের চরিত্র ও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করবে।
- প্রাকৃতিক অভিভাবক (Natural Guardian) সাধারণত বাবা, তবে মা-ও হেফাজতের জন্য যোগ্য বিবেচিত হতে পারেন।
মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (Muslim Personal Law)
মুসলিম পরিবারের ক্ষেত্রে হিজানত (Hizanat) নীতি অনুসরণ করা হয়:
- ছেলে শিশু: সাধারণত ৭ বছর বয়স পর্যন্ত মায়ের হেফাজত।
- মেয়ে শিশু: বিয়ের আগ পর্যন্ত মায়ের হেফাজত।
তবে আদালত যদি মনে করে মা সন্তানের জন্য উপযুক্ত নন (অনুপযুক্ত পরিবেশ/অর্থনৈতিক অস্থিতি/নির্যাতনের ঝুঁকি ইত্যাদি), তবে বাবা বা অন্য বৈধ অভিভাবককে হেফাজত দিতে পারে।
বাবা সাধারণত legal guardian, তাই সন্তানের শিক্ষা, চিকিৎসা ও সম্পদ ব্যবস্থাপনায় তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ থাকে।
হিন্দু আইন (Hindu Law)
হিন্দু আইনে বাবা হলো প্রাকৃতিক অভিভাবক।
কিন্তু আদালত শিশুর কল্যাণকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে:
- ছোট সন্তানের ক্ষেত্রে মাকে
- বড় বয়সের সন্তানের ক্ষেত্রে বাবাকে
হেফাজত দিতে পারে।
খ্রিস্টান আইন (Christian Law)
খ্রিস্টান পরিবারে হেফাজত মূলত GWA, এর অধীনেই নির্ধারিত হয়।
আদালত শিশুর কল্যাণ, আর্থিক অবস্থা এবং পরিবারের নৈতিক পরিবেশ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়।
Family Courts Ordinance, 1985
বাংলাদেশে হেফাজত সংক্রান্ত মামলা Family Court, এ দায়ের হয়।
এই আইনে রয়েছে:
- হেফাজত (Custody)
- ভরণ-পোষণ (Maintenance)
- দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার
- পৃথক বসবাস
ইত্যাদি বিষয়ের নিষ্পত্তির বিধান।
স্ত্রী কীভাবে কাবিন টাকা (মহরানা) দাবি করবেন? এ বিষয়ে আমাদের Law Doors ওয়েবসাইটে বিস্তারিত একটি নিবন্ধ রয়েছে, প্রয়োজন হলে পরে দেখে নিতে পারেন।

শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ (Best Interest Principle)
বাংলাদেশের আদালত সব ধর্মের ক্ষেত্রেই শিশুর welfare, কে প্রধান বিবেচ্য বিষয় হিসেবে ধরে।
এটি নিশ্চিত করতে আদালত দেখবে:
- শিশুর নিরাপত্তা
- শিক্ষা
- স্বাস্থ্যসেবা
- মানসিক স্থিতি
- কে বেশি সময় দিতে পারবেন
- পারিবারিক পরিবেশ শান্ত কি না
- আর্থিক সক্ষমতা
- মা-বাবার আচরণ ও চরিত্র
সুতরাং, শুধু “আইন” নয়, বরং সন্তানের সার্বিক কল্যাণই হেফাজত নির্ধারণের কেন্দ্রবিন্দু। সন্তানের হেফাজত বিষয়ে বাংলাদেশি আদালত সর্বদা শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ,এই নীতিকে কেন্দ্রে রেখে সিদ্ধান্ত দেয়। বাস্তব মামলার বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়, বাবা-মার অধিকার নয়; বরং শিশুর কল্যাণই সবচেয়ে বড় বিবেচ্য বিষয়।
উদাহরণ–১: ছোট শিশুর ক্ষেত্রে মায়ের প্রতি আদালতের ঝোঁক
বাংলাদেশে বিভিন্ন মামলায় দেখা গেছে:
- ৫ বছরের নিচে শিশুর ক্ষেত্রে
- বিশেষ করে মেয়েশিশুর ক্ষেত্রে
আদালত সাধারণত মাকে হেফাজত দেন।
কারণ, মায়ের সান্নিধ্য, যত্ন, মানসিক নিরাপত্তা এবং শারীরিক পরিচর্যার প্রয়োজনীয়তা।
উদাহরণ: একটি মামলায় দেখা যায়, বাবা আর্থিকভাবে সক্ষম হলেও, সন্তান মাত্র ৩ বছরের হওয়ায় আদালত মায়ের কাছে হেফাজত প্রদান করেন। কারণ শিশুটি মায়ের পরিচর্যার ওপর বেশি নির্ভরশীল ছিল।
উদাহরণ–২: মা অনুপযুক্ত হলে বাবা হেফাজত পেতে পারেন
কিছু ক্ষেত্রে আদালত মায়ের হেফাজত নাকচ করেছেন:
যদি প্রমাণ পাওয়া যায় যে তিনি:
- সন্তানের সঠিক পরিচর্যা করেন না
- অনৈতিক বা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে থাকেন
- আসক্তি, মানসিক অস্থিরতা বা সহিংসতার কারণে সন্তান ঝুঁকিতে থাকে
- আর্থিকভাবে খুবই অস্থিতিশীল
তখন বাবা হেফাজত পেতে পারেন।
উদাহরণ: এক মামলায় মায়ের বিরুদ্ধে অত্যধিক অবহেলা এবং যৌথ পারিবারিক সহিংসতার তথ্য প্রমাণিত হওয়ায় ৯ বছর বয়সী ছেলে সন্তানের হেফাজত বাবাকে প্রদান করা হয়।
উদাহরণ–৩: বড় ছেলে সন্তানের ক্ষেত্রে বাবার প্রতি প্রাধান্য
বেশ কিছু বিচারিক সিদ্ধান্তে দেখা যায়:
- ৭–৮ বছরের পর ছেলে সন্তানের মানসিক ও শিক্ষাগত দিক বিবেচনায়
- আদালত বাবাকে অধিক সক্ষম মনে করেছেন
যদিও মায়ের প্রতি সন্তানের আবেগীয় সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যৎ শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিবেচনায় বাবার হেফাজত মেনে নেওয়া হয়েছে।
উদাহরণ–৪: সন্তানের ইচ্ছাকে আদালত গুরুত্ব দেয়
১২–১৪ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে আদালত তাদের মতামতও বিবেচনা করেন।
যেমন:
- শিশু যদি স্পষ্টভাবে বলে সে মায়ের কাছে থাকতে চায়
- অথবা বাবার সঙ্গে থাকতে চায়
তাহলে আদালত তার ইচ্ছাকে গুরুত্ব দেন, যদি এটি তার কল্যাণের পরিপন্থী না হয়।
আদালতের মূল দৃষ্টিভঙ্গি সংক্ষেপে
সন্তানের হেফাজত কার?, এই প্রশ্নের উত্তর দিতে আদালত সাধারণত যে বিষয়গুলো দেখেন:
- শিশুর বয়স ও মানসিক চাহিদা
- মা-বাবার চরিত্র ও জীবনযাপন
- আর্থিক সক্ষমতা (কিন্তু শুধুই টাকা নয়, মানসিক নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ)
- শিক্ষার পরিবেশ
- পরিবারের শান্তি ও নিরাপত্তা
- শিশু কার সঙ্গে বেশি নিরাপদ বোধ করে
- কে শিশুর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বেশি দায়িত্বশীল
- মূল কথা:
- হেফাজত মানে অধিকার নয়, বরং দায়িত্ব।
- বাবা বা মা নয়, সন্তানই আদালতের সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে।
নাগরিকদের করণীয় ও পরামর্শ
সন্তানের হেফাজত সংক্রান্ত বিষয়ে সাধারণ মানুষের সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই ভুল ধারণা, আবেগ বা সামাজিক চাপে ভুল সিদ্ধান্ত নেন। এখানে সাধারণ নাগরিকেরা কীভাবে আইন অনুসারে সঠিক পদক্ষেপ নেবেন, তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হলো।
আবেগ নয়—সন্তানের স্বার্থকে আগে বিবেচনা করুন
বিবাহবিচ্ছেদ বা দাম্পত্য কলহ যাই হোক, হেফাজত বিতর্কে বাবা-মা উভয়ের উচিত:
- ব্যক্তিগত রাগ–ক্ষোভ থেকে সিদ্ধান্ত না নেওয়া
- সন্তানের মানসিক অবস্থা ও ভবিষ্যৎকে সর্বাগ্রে রাখা
- শিশুকে চাপ, ভয় বা প্রভাবিত করার চেষ্টা থেকে বিরত থাকা
Family Court–এ সঠিক মামলা দায়ের করুন
বাংলাদেশে হেফাজত মামলা দায়ের করতে হয় Family Court Ordinance, 1985 অনুযায়ী।
আপনি চাইলে:
- Custody Case (হেফাজত মামলা)
- Guardianship Petition (অভিভাবক নিয়োগ আবেদন)
- Visitation Rights Petition (সন্তানের সাক্ষাতের অধিকার)
দায় করতে পারেন।
যেখানে মামলা করবেন:
- বিবাদী (Opposite Party) যে এলাকায় থাকেন
- অথবা যেখানে শিশু বসবাস করছে
সেই এলাকার পরিবার আদালত (Family Court)–এ।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখুন
সাধারণত যেসব নথি দরকার হয়:
- বিবাহ ও তালাক/আলাদা থাকার প্রমাণ
- শিশুর জন্ম নিবন্ধন
- আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ
- নিরাপদ পরিবেশের প্রমাণ (বাসা, স্কুল, চিকিৎসা, যত্ন)
যেকোনো নির্যাতন বা অবহেলার প্রমাণ (যদি থাকে)
আদালতকে সন্তানের কল্যাণের প্রমাণ দিন
বাবা বা মা যেই হোন, আদালতে দেখাতে হবে:
- আপনি শিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও দৈনন্দিন জীবন যত্ন নিতে সক্ষম
- আপনার পরিবেশ নিরাপদ
- শিশুর মানসিক সুস্থতা আপনার কাছে ভালো থাকবে
শুধু টাকা–পয়সা থাকলেই হেফাজত পাওয়া যায় না।
আদালত দেখবে, কে শিশুকে বেশি ভালোভাবে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন।
Visitation Rights (সাক্ষাতের অধিকার) ব্যবহার করুন
হেফাজত না পেলেও একজন অভিভাবক তার সন্তানের সঙ্গে:
- নিয়মিত দেখা
- ফোন/ভিডিও কলে কথা
- ছুটিতে সময় কাটানো
এর অধিকার আইনত ভোগ করেন।
অন্য পক্ষ যদি সাক্ষাতের অধিকার বাধাগ্রস্ত করে, আদালতে অভিযোগ করা যায়।
যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আইনজীবীর পরামর্শ নিন
হেফাজত মামলা অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই:
- সঠিক ধারায় মামলা
- প্রয়োজনীয় নথি
- আদালতে উপস্থাপনা
- শিশুর welfare তুলে ধরা
এসব বিষয়ে অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ আপনাকে অনেক সমস্যার হাত থেকে রক্ষা করবে।
সন্তানের সামনে ঝগড়া বা নেতিবাচক কথা বলা থেকে বিরত থাকুন
এটি আইনি নয়, মানবিক পরামর্শ; কিন্তু আদালত এ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে।
শিশুর মানসিক শান্তি সবসময় গুরুত্বপূর্ণ।
সন্তানের হেফাজত বিষয়ে সাধারণ নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও সংক্ষিপ্ত আইনি উত্তর
সন্তানের হেফাজত কি সবসময় মায়ের হাতে থাকে?
উত্তর: না। ছোট শিশুর ক্ষেত্রে মায়ের অগ্রাধিকার থাকে, বিশেষ করে মুসলিম আইনে হিজানতের নীতি অনুযায়ী। তবে মা অনুপযুক্ত হলে বা শিশুর কল্যাণ বিপন্ন হলে আদালত বাবাকে হেফাজত দিতে পারে।
বাবা কি শুধু আর্থিক ক্ষমতা বেশি থাকলে হেফাজত পেতে পারেন?
উত্তর: না। অর্থনৈতিক সক্ষমতা একটি বিবেচ্য বিষয় হলেও আদালতের প্রধান মানদণ্ড হলো শিশুর welfare। শুধুমাত্র টাকা থাকার কারণে হেফাজত পাওয়া যায় না।
হেফাজত মামলায় সন্তানের ইচ্ছা আদালত কি বিবেচনা করে?
উত্তর: হ্যাঁ। সাধারণত ১২ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশু তার মতামত দিলে আদালত তা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করেন, যদি সেটি তার কল্যাণের পরিপন্থী না হয়।
হেফাজত না পেলেও কি বাবা/মা সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে পারেন?
উত্তর: অবশ্যই পারেন। এটিকে বলা হয় Visitation Rights। আদালত সাক্ষাতের সময়, স্থান ও নিয়ম ঠিক করে দেন এবং অপর পক্ষ তা বাধাগ্রস্ত করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
আমি হেফাজত মামলা কোথায় করব?
উত্তর: সন্তানের বর্তমান ঠিকানা বা বিবাদী পক্ষ যেখানে থাকেন, সেই এলাকার Family Court–এ হেফাজত মামলার আবেদন করতে হয়।
হেফাজত কি স্থায়ীভাবে দেওয়া হয়?
উত্তর: না। পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে (যেমন শিশুর নিরাপত্তা ঝুঁকি, মা/বাবার অবহেলা ইত্যাদি) আদালতের আদেশ পুনর্বিবেচনা বা পরিবর্তন করা যায়।
তালাক না হলেও কি হেফাজত মামলা করা যায়?
উত্তর: হ্যাঁ। স্বামী-স্ত্রী আলাদা থাকলে বা সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকলে তালাকের আগে, পরে উভয় অবস্থায়ই হেফাজত মামলা করা সম্ভব।
আমার সন্তান ৭ বছরের নিচে, কিন্তু আমি (বাবা) হেফাজত চাই—সম্ভব?
উত্তর: সম্ভব, যদি আপনি প্রমাণ করতে পারেন, মা সন্তানের কল্যাণের জন্য উপযুক্ত নন বা শিশুর নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে।
আদালত কি হেফাজতের পাশাপাশি ভরণ-পোষণও নির্ধারণ করেন?
উত্তর: হ্যাঁ। Family Court একইসঙ্গে Maintenance (ভরণ-পোষণ) এবং Custody বিষয়ে আদেশ দিতে পারেন।
সন্তানের হেফাজত আদালতে পাওয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ কী?
উত্তর: শিশুর নিরাপত্তা, শিক্ষা, মানসিক স্থিতি এবং নিয়মিত যত্ন নেওয়ার ক্ষমতা—এগুলোর স্পষ্ট ও বাস্তব প্রমাণ আদালতে সবচেয়ে কার্যকর।
উপসংহার
সন্তানের হেফাজত (Custody) একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ আইনগত বিষয়, যেখানে মূল লক্ষ্য হলো শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ (Best Interest of the Child) নিশ্চিত করা। বাবা-মায়ের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব, বিবাহবিচ্ছেদ বা সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া যাই হোক,আদালত সবসময়ই দেখে শিশু কোথায় সবচেয়ে নিরাপদ, স্বচ্ছন্দ ও সুস্থভাবে বড় হবে।
বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায়:
- বয়সভিত্তিক শিশুর চাহিদা
- মা-বাবার চরিত্র
- আর্থিক অবস্থা
- সামাজিক ও শিক্ষা পরিবেশ
- মানসিক সুস্থতা
এসব মিলিয়েই হেফাজতের সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো:
- হেফাজত অধিকার নয়, দায়িত্ব।
- সন্তানের ভবিষ্যৎ যেন ভালোর দিকে যায়, এইটাই সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত।
আইন বাবা বা মাকে আলাদা করে প্রাধান্য দেওয়ার জন্য নয়; বরং শিশুর কল্যাণ যেখানে বেশি, সেখানেই আদালত হেফাজত প্রদান করেন। তাই যে কোনো অবস্থায় সন্তানের সুখ, নিরাপত্তা ও মানসিক স্থিতি সবচেয়ে বড় বিষয়, এটা বুঝে পদক্ষেপ নেওয়াই একজন অভিভাবকের প্রকৃত দায়িত্ব।