পুলিশি হয়রানি হলে করণীয়: আইনি অধিকার ও বাস্তব পরামর্শ
বাংলাদেশে পুলিশ জনগণের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অপরাধ দমনের দায়িত্বে নিয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা। তবে বাস্তব জীবনে অনেক সময় সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেন, তারা বিনা অপরাধে হয়রানির শিকার হয়েছেন, অথবা পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে মানসিক ও আইনি বিপাকে পড়েছেন। এই ধরনের অভিযোগ সাধারণত আটক, তল্লাশি, জিজ্ঞাসাবাদ, কিংবা অযৌক্তিকভাবে মামলা দেওয়ার মতো বিষয়ে বেশি দেখা যায়।
সংবিধানে প্রত্যেক নাগরিকের জীবন, স্বাধীনতা, মর্যাদা ও চলাচলের স্বাধীনতা সুরক্ষিত। তাই পুলিশ যদি আইনবহির্ভূতভাবে কোনো নাগরিককে হয়রানি করে, তা শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, এটি রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রাপ্ত মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘনও বটে। বিষয়টির সামাজিক গুরুত্ব এখানেই যে, সাধারণ মানুষ অনেক সময় জানেন না কখন পুলিশ আইনি ক্ষমতার মধ্যে কাজ করছে আর কখন তা অতিক্রম করছে। ফলে অসহায়ভাবে পরিস্থিতি মেনে নেওয়া ছাড়া তাদের আর তেমন কোনো পথ থাকে না।
এই আর্টিকেলের উদ্দেশ্য হলো—পুলিশি হয়রানির পরিস্থিতিতে একজন সাধারণ নাগরিক কী করবেন, কোন আইন তাকে সুরক্ষা দেয়, এবং কীভাবে তিনি আইনি পথে নিজের অধিকার রক্ষা করতে পারেন, তা পরিষ্কার, সরল ও বাস্তবধর্মীভাবে তুলে ধরা।
আপনার একজন নাগরিক হিসেবে নিজের অধিকার জানা জরুরি, কারণ পুলিশ আইন মানবে, কিন্তু আপনাকেও জানতে হবে আইন আপনার জন্য কী সুরক্ষা রাখে।
পুলিশি হয়রানির ক্ষেত্রে কোন আইন নাগরিককে সুরক্ষা দেয়
বাংলাদেশে পুলিশি কার্যক্রম, গ্রেপ্তার, আটক, তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু আইন কঠোরভাবে অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। কোনো পুলিশ সদস্য যদি এসব আইন লঙ্ঘন করে, তা “ক্ষমতার অপব্যবহার” এবং “হয়রানি” হিসেবে গণ্য হবে। নিচে প্রাসঙ্গিক গুরুত্বপূর্ণ আইনগুলো সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হলো:
সংবিধান – নাগরিকের মৌলিক অধিকার (Articles 27, 31, 32, 33, 35)
বাংলাদেশ সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে কিছু অমূল্য অধিকার দিয়েছে, যেমন:
- আইনের দৃষ্টিতে সমতা (Art. 27)
- আইনি সুরক্ষার অধিকার (Art. 31)
- ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রক্ষা (Art. 32)
- গ্রেপ্তারে কারণ জানার অধিকার (Art. 33)
- নির্যাতন বা নিষ্ঠুর আচরণ নিষিদ্ধ (Art. 35)
অর্থাৎ, পুলিশ কোনো নাগরিককে বিনা কারণে আটক করা, নির্যাতন করা বা ভয় দেখানো, সংবিধানের সরাসরি লঙ্ঘন।
ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC), 1898 – গ্রেপ্তার ও তল্লাশির নিয়ম
ধারা 54 – ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেপ্তার
পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেপ্তার করতে পারলেও এটি কিছু সীমিত ও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতেই করা যায়, যেমন:
- অপরাধ সংঘটনের যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ
- পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা
- অপরাধ প্রতিরোধের প্রয়োজন
কিন্তু পুলিশ যদি “যুক্তিসঙ্গত কারণ” দেখাতে না পারে, তবে এই গ্রেপ্তার হবে অবৈধ।
ধারা 50 – গ্রেপ্তারের কারণ জানানো
গ্রেপ্তার করার সময় পুলিশকে অবশ্যই স্পষ্টভাবে জানাতে হবে:
- কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে
- কোন অভিযোগ আনা হয়েছে
ধারা 61 – ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করা
পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তারের পর ২৪ ঘণ্টার বেশি আটক রাখতে পারবে না, আদালতে হাজির না করে।
কারা নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩
এ আইন অনুযায়ী:
- পুলিশ হেফাজতে কোনো ব্যক্তি নির্যাতনের শিকার হলে
- শারীরিক, মানসিক যেকোনো ধরনের হয়রানি হলে
- হেফাজতে মৃত্যু ঘটলে
সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্য কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হবেন (আজীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে)।
পুলিশ আইনে ক্ষমতার অপব্যবহার
Police Act, 1861 অনুযায়ী:
- দায়িত্বে অবহেলা
- ক্ষমতার অপব্যবহার
- নাগরিককে অযথা ভয়ভীতি দেখানো
- অর্থ/ঘুষ দাবি করা
এগুলো শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট (DSA) অপব্যবহার
যদি পুলিশ DSA ধারায় অযথা মামলা দিয়ে হয়রানি করে:
ভুক্তভোগী উচ্চ আদালতে রিট করতে পারেন, কারণ DSA প্রয়োগ অবশ্যই যুক্তিসঙ্গত ও প্রমাণভিত্তিক হতে হবে।
মূল কথা:
পুলিশ আইনের বাইরে গিয়ে কাউকে হয়রানি করতে পারে না। প্রতিটি পদক্ষেপের আইনি ভিত্তি থাকতে হবে, এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার সর্বদা অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।
পুলিশি হয়রানির বিষয়ে আদালতের কঠোর অবস্থান
বাংলাদেশে আদালত বারবার স্পষ্ট করে দিয়েছে:
পুলিশ গ্রেপ্তার, জিজ্ঞাসাবাদ বা তল্লাশি করবে আইনের সীমার মধ্যে থেকে।
অন্যথায় তা হবে অসাংবিধানিক, অবৈধ এবং শাস্তিযোগ্য।
নিচে বাস্তব উদাহরণ ও বিচারিক ব্যাখ্যা তুলে ধরা হলো:
BLAST vs Bangladesh (২০০৩) – ধারা ৫৪ এর অপব্যবহার বিষয়ে ঐতিহাসিক রায়
হাই কোর্টের এই বিখ্যাত রায়ে আদালত বলেছে:
- পুলিশ অযৌক্তিক সন্দেহে গ্রেপ্তার করতে পারবে না।
- গ্রেপ্তার করার পর কারণ লিখিতভাবে নথিভুক্ত করতে হবে।
- গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে যথাযথ আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ দিতে হবে।
- 24 ঘণ্টার বেশি আটক রাখা যাবে না।
- হেফাজতে নির্যাতন বা হুমকি দেওয়া সংবিধানবিরোধী।
আদালত নির্দেশ দেয়:
ধারা ৫৪ ও ১৬৭ এর মাধ্যমে পুলিশি হয়রানি বন্ধে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ বাধ্যতামূলক।
হেফাজতে মৃত্যু মামলা (২০১৩) – কঠোর শাস্তি
কারা নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী:
যদি কোনো নাগরিক হেফাজতে মারা যান বা আহত হন, সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্য সরাসরি দায়ী হবেন।
আদালত বিভিন্ন রায়ে বলেছে:
হেফাজতের অভ্যন্তরে যাই ঘটে, তার দায় পুলিশ এড়াতে পারে না।
ভুল মামলা দেওয়ার ক্ষেত্রে আদালতের অবস্থান
কিছু ঘটনায় দেখা গেছে:
কাউকে রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত বা প্রভাব খাটিয়ে হয়রানি করতে পুলিশ ভুল ধারায় মামলা দিয়েছে।
হাই কোর্ট একাধিক রায়ে বলেছে:
- ভুল ধারা প্রয়োগ
- অপর্যাপ্ত প্রমাণ
- অযৌক্তিক গ্রেপ্তার
এগুলো হয়রানি হিসেবে গণ্য হবে এবং ভুক্তভোগী ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবেন।
মিথ্যা মামলা হলে কী করবেন, এ বিষয়ে আমাদের Law Doors ওয়েবসাইটে বিস্তারিত একটি নিবন্ধ রয়েছে, প্রয়োজন হলে পরে দেখে নিতে পারেন।
তল্লাশির নাম করে হয়রানি
আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে:
- তল্লাশি হবে যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ ও আইনি ভিত্তিতে
- তল্লাশি হলে তল্লাশি তালিকা দিতে হবে
- রাতে বাসায় ঢুকে হয়রানি করা নিষিদ্ধ, ব্যতিক্রম হলে তা লিখিতভাবে দেখাতে হবে
ডিএসএ মামলা অপব্যবহার
কয়েকটি মামলায় আদালত স্পষ্ট বলেছে:
যদি অভিযোগ অসত্য, ভিত্তিহীন বা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়,
ভুক্তভোগী উচ্চ আদালতে রিট করলে মামলা বাতিল হতে পারে এবং পুলিশের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
সারসংক্ষেপ:
আদালত সবসময় নাগরিক অধিকারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়।
পুলিশের যেকোনো ক্ষমতার অপব্যবহার আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যায়, এবং আদালত এ বিষয়ে কঠোর ও নীতিগত অবস্থান নেয়।

পুলিশ যদি অন্যায়ভাবে হয়রানি করে — তখন সাধারণ মানুষ কী করবেন
পুলিশি হয়রানি হলে আতঙ্কিত না হয়ে আইনি পথে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে ধাপে ধাপে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হলো:
শান্ত ও সচেতন থাকুন (Self-Control & Safety First)
- উত্তেজিত হবেন না, তর্কে জড়াবেন না।
- আপনার প্রতিটি কথা ও আচরণ ভবিষ্যতে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
- সম্ভব হলে পরিবারের কাউকে বা বিশ্বাসযোগ্য কারো কাছে খবর দিন।
আইডেন্টিটি জানতে চান (Right to Know Officer Identity)
আপনি সম্পূর্ণ অধিকার রাখেন:
- পুলিশ সদস্যের নাম, পদবী ও আইডি নম্বর জানতে
- কোন থানার, কোন দায়িত্বে এসেছেন তা জানতে
আইন অনুযায়ী, পুলিশকে এ তথ্য জানাতে বাধ্য
গ্রেপ্তারের কারণ জানতে চাইুন (CrPC ধারা 50 অনুযায়ী)
পুলিশ যদি আপনাকে আটক বা গ্রেপ্তার করতে চায়:
স্পষ্টভাবে জিজ্ঞেস করুন:
“আমাকে কোন অভিযোগে বা কোন ধারায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে?”
পুলিশকে স্পষ্ট কারণ বলতে হবে।
কোন ডকুমেন্টে সই করবেন না (No Forced Signature)
- জোর করে সই করাতে চাইলে বলুন:
“আমি আইনজীবীর সাথে পরামর্শ ছাড়া কোনো কাগজে সই করব না।”
চাপ দিয়ে সই করানো অবৈধ; পরে অভিযোগ করা যাবে।
তল্লাশির ক্ষেত্রে আপনার অধিকার (Search Rights)
যদি পুলিশ তল্লাশি করতে চায়:
- তল্লাশি যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ ছাড়া করা যাবে না
- বাসায় তল্লাশির সময় দুইজন স্বাক্ষী থাকতে হবে
- তল্লাশি শেষে তল্লাশি তালিকা (Search List) দিতে হবে
যদি রাতে তল্লাশি করা হয়:
এর লিখিত কারণ দেখাতে হবে।
২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করা বাধ্যতামূলক (CrPC ধারা 61)
গ্রেপ্তারের পর যদি আপনাকে ২৪ ঘণ্টার বেশি থানায় রাখা হয়:
- এটি সম্পূর্ণ অবৈধ
- এ ক্ষেত্রে আদালতে অভিযোগ করলে পুলিশ দায়ী হবে
আইনজীবীর সাহায্য নিন (Right to Lawyer)
- আপনার আইনজীবী ছাড়া কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য নন
- গ্রেপ্তারের পর পরিবারকে জানানো বাধ্যতামূলক
আপনার আইনজীবী চাইলে হাই কোর্টে রিট, বেল আবেদন বা মামলা বাতিলের আবেদন করতে পারবেন।
প্রমাণ সংগ্রহ করুন (Collect Evidence)
যদি নিরাপদ মনে করেন:
- অডিও/ভিডিও রেকর্ড করুন
- আশেপাশের সাক্ষীদের নাম নিন
- পুলিশের কথাবার্তা বা আচরণ নোট করুন
এগুলো পরবর্তীতে কমপ্লেইন্ট বা আদালতে অত্যন্ত দরকারি।
থানায় অভিযোগ (GD বা অভিযোগ দাখিল)
হয়রানি হলে নিকটস্থ থানায় জেনারেল ডায়েরি (GD) করতে পারেন।
যদি থানা GD না নেয়:
আপনি নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে অ্যাফিডেভিট করে উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে পারেন।
উচ্চতর কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ
যদি থানায় ন্যায্য বিচার না পান, অভিযোগ করতে পারেন:
- এসপি (পুলিশ সুপার)
- ডিআইজি
- আইজিপি
- পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স কমপ্লেইন্ট সেল
- র্যাবের কমপ্লেইন্ট সেল
ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস কমিশন
রিট পিটিশন (High Court Writ)
যদি হয়রানি গুরুতর হয় বা নিয়মিত হয়:
হাই কোর্টে রিট করা যায়
যেখানে আদালত পুলিশকে ব্যাখ্যা দিতে বাধ্য করে এবং সুরক্ষার নির্দেশ দেয়।
ক্ষতিপূরণ দাবি (Compensation)
যদি পুলিশি হয়রানিতে:
- মানহানি হয়
- শারীরিক/মানসিক ক্ষতি হয়
- ব্যবসা/পেশাগত ক্ষতি হয়
আদালতে ক্ষতিপূরণের মামলা করা যায়।
সারসংক্ষেপ:
আপনার অধিকার জানুন, শান্ত থাকুন, প্রমাণ সংগ্রহ করুন, এবং যথাযথ আইনি পথে অভিযোগ করুন।
পুলিশের ক্ষমতা সীমাবদ্ধ,আইন আপনার পাশে আছে।
পুলিশি হয়রানি সম্পর্কে সাধারণ নাগরিকদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও সংক্ষিপ্ত আইনি উত্তর
পুলিশ কি ওয়ারেন্ট ছাড়া আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে?
হ্যাঁ, কিন্তু সীমিত ক্ষেত্রে। CrPC ধারা 54 অনুযায়ী “যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ” থাকলেই গ্রেপ্তার করা যায়।
অযৌক্তিক বা ভিত্তিহীন গ্রেপ্তার অবৈধ।
গ্রেপ্তারের সময় পুলিশ কি আমাকে কারণ জানাতে বাধ্য?
অবশ্যই। CrPC ধারা 50 অনুযায়ী পুলিশকে গ্রেপ্তারের সঠিক কারণ জানাতে হবে। না জানালে তা অবৈধ।
পুলিশ কি আমাকে ২৪ ঘণ্টার বেশি থানায় আটক রাখতে পারে?
না। কখনই না। CrPC ধারা 61 অনুসারে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করা বাধ্যতামূলক।
থানা যদি আমার অভিযোগ (GD) নিতে না চায়, তাহলে করণীয় কী?
আপনি বিকল্পভাবে:
- নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে অ্যাফিডেভিট করে এসপি/ডিআইজি/আইজিপি বরাবর পাঠাতে পারেন
- অনলাইন GD করতে পারেন
- জেলা পুলিশ সুপার (SP) এর কাছে সরাসরি অভিযোগ করতে পারেন
পুলিশ যদি রাস্তায় আমাকে থামিয়ে তল্লাশি করতে চায়, আমি কি না বলতে পারি?
যুক্তিহীন তল্লাশিতে না বলার অধিকার আছে।
তবে যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ, চেকপোস্ট বা নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে তল্লাশি বৈধ হতে পারে।
তল্লাশি হলে তল্লাশি তালিকা চাইতে পারবেন।
হেফাজতে নির্যাতন হলে কী করবো?
কারা নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন ২০১৩ অনুযায়ী:
অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবেন এবং আদালত কঠোর শাস্তি দিতে পারে।
পুলিশ যদি ভয়ভীতি দেখায় বা ঘুষ দাবি করে, কোথায় অভিযোগ করবো?
অভিযোগ করতে পারেন:
- SP অফিস
- DIG অফিস
- IGP কমপ্লেইন্ট সেল
- পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স
- ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস কমিশন
- র্যাব কমপ্লেইন্ট সেল
চাইলে হাই কোর্টে রিটও করতে পারবেন।
অযথা মামলা দিলে কি তা বাতিল করা যায়?
হ্যাঁ। অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে হাই কোর্টে মামলা বাতিল (quash) আবেদন করা যায়।
পুলিশ হয়রানির কারণে মানসিক বা আর্থিক ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়?
হ্যাঁ, সম্ভব।আদালতে ক্ষতিপূরণ মামলা করা যায়। আদালত পূর্বেও ক্ষতিপূরণ প্রদান করেছেন।
কি পরিস্থিতিতে রিট করতে হয়?
রিট করা হয় যখন:
- পুলিশ বারবার হয়রানি করে
- ভুল মামলা দিয়ে চাপ সৃষ্টি করে
- গ্রেপ্তার/তল্লাশি আইনের বাইরে হয়
- নাগরিকের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়
উপসংহার
অন্যায় পুলিশি আচরণের বিরুদ্ধে নাগরিকের শক্তি—আইন ও সচেতনতা
পুলিশ জনগণের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বে থাকলেও, কোনোভাবে যদি তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে বা নাগরিককে হয়রানি করে, তখন সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো আইন এবং সচেতনতা। সংবিধান থেকে শুরু করে ফৌজদারি কার্যবিধি, হেফাজতে মৃত্যু প্রতিরোধ আইন,সবই নাগরিকের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রণীত।
বিনা কারণে গ্রেপ্তার, তল্লাশি, হুমকি, ভয়ভীতি বা নির্যাতন,এসবই আইনবিরোধী। আর এসবের বিরুদ্ধে আপনি আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন, অভিযোগ দিতে পারেন, এবং প্রয়োজনে ক্ষতিপূরণও দাবি করতে পারেন।
অতএব, মনে রাখবেন, পুলিশ আইন প্রয়োগ করবে, আর আপনি আইন জানলেই নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পারবেন।
আপনার অধিকার আপনার হাতেই, সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়াই আপনাকে নিরাপদ রাখবে।