ঞ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম অর্থসহ

ঞ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম অর্থসহ | সুন্দর ও অর্থবহ নামের তালিকা ২০২৬

একটি সন্তানের জন্ম শুধু একটি নতুন জীবনের আগমন নয়, বরং একটি পরিবারের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ আমানত। ইসলাম সন্তানের প্রতিটি অধিকারকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেছে, তার খাদ্য, শিক্ষা, লালন-পালন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি তার নামও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ একটি নাম শুধু পরিচয়ের মাধ্যম নয়, বরং তা মানুষের ব্যক্তিত্ব, মানসিকতা এবং আত্মপরিচয়ের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।

বর্তমানে অনেক মুসলিম পরিবার সন্তানের জন্য সুন্দর, অর্থবহ ও ইসলামসম্মত নাম খুঁজে থাকেন। বিশেষ করে বাংলা বর্ণমালার নির্দিষ্ট অক্ষর দিয়ে নাম রাখার প্রবণতাও লক্ষ্য করা যায়। এই ধারাবাহিকতায় আজকের আর্টিকেলের মূল বিষয় হলো, ঞ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম অর্থসহ”। যদিও ‘ঞ’ দিয়ে ইসলামিক নাম তুলনামূলকভাবে খুব কম পাওয়া যায়, তবুও সঠিক গবেষণা ও ভাষাগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে অর্থবহ ও গ্রহণযোগ্য নাম নির্বাচন করা সম্ভব।

ইসলাম অনুযায়ী নামের গুরুত্ব

ইসলামে নামের গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর ও সুস্পষ্ট। কিয়ামতের দিন একজন মানুষকে তার নাম ও পিতার নাম ধরে ডাকা হবে, এ বিষয়টি বহু হাদিসে স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ রয়েছে। তাই একটি সন্তানের নাম যেন অর্থহীন, নেতিবাচক বা শিরকপূর্ণ না হয়, সে বিষয়ে ইসলাম বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে।

রাসূলুল্লাহ ﷺ খারাপ অর্থবোধক নাম পরিবর্তন করে সুন্দর অর্থপূর্ণ নাম রাখতেন। এতে বোঝা যায়, নাম মানুষের ব্যক্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ জীবনের ওপর প্রভাব ফেলে। একটি ভালো নাম মানুষকে আত্মমর্যাদাবোধে উজ্জীবিত করে, তাকে সৎ পথে চলতে অনুপ্রাণিত করে এবং সমাজে একটি ইতিবাচক পরিচয় তৈরি করে।

কেন ইসলামিক নাম রাখা জরুরি

ইসলামিক নাম রাখা জরুরি হওয়ার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে:

  1. ঈমানি পরিচয়: একটি ইসলামিক নাম শিশুর মুসলিম পরিচয় বহন করে এবং তার ধর্মীয় আত্মপরিচয় গড়ে তোলে।
  2. অর্থের পবিত্রতা: ইসলামিক নামগুলো সাধারণত ভালো অর্থ, উত্তম চরিত্র ও আল্লাহভীতির বার্তা বহন করে।
  3. আখিরাতের প্রস্তুতি: কিয়ামতের দিন সুন্দর অর্থপূর্ণ নাম থাকা একজন মুমিনের জন্য সম্মানের কারণ হতে পারে।
  4. সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষা: ইসলামিক নাম মুসলিম সমাজের ঐতিহ্য ও মূল্যবোধকে টিকিয়ে রাখে।

বর্তমানে অনেক নাম প্রচলিত আছে যেগুলোর অর্থ জানা না থাকলে তা ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে অনুপযুক্ত হতে পারে। তাই নাম নির্বাচনের সময় অর্থ ও উৎস যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।

কেন ‘ঞ’ দিয়ে নাম খোঁজা হয়

বাংলা বর্ণমালার ‘ঞ’ অক্ষরটি তুলনা মূলক ভাবে বিরল হলেও অনেক পরিবার এই অক্ষর দিয়ে নাম খুঁজে থাকেন। এর পেছনে কিছু নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে:

  • জ্যোতিষ বা পারিবারিক রীতি: অনেক সময় নামের প্রথম অক্ষর নির্ধারিত হয় জন্ম সময় বা পারিবারিক প্রথার কারণে।
  • ব্যতিক্রমী নামের আকর্ষণ: ‘ঞ’ দিয়ে নাম সাধারণত কম শোনা যায়, ফলে নামটি হয় ইউনিক ও আলাদা।
  • ডকুমেন্টেশন ও ধারাবাহিকতা: ভাইবোনদের নাম একই অক্ষর দিয়ে শুরু করার আগ্রহ থেকেও অনেকেই ‘ঞ’ দিয়ে নাম খোঁজেন।

যদিও আরবি ভাষায় সরাসরি ‘ঞ’ বর্ণ নেই, তবে আরবি নামের বাংলা রূপান্তর, উচ্চারণভিত্তিক রূপ বা অর্থগত সামঞ্জস্য রেখে ‘ঞ’ দিয়ে গ্রহণযোগ্য ইসলামিক নাম নির্বাচন করা সম্ভব। এই আর্টিকেলের পরবর্তী অংশগুলোতে আমরা সে বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করবো।

ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে সন্তানের নাম রাখার নিয়ম

ইসলামে সন্তানের নাম রাখা একটি ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। কারণ নামের মাধ্যমে সন্তানের পরিচয় নির্ধারিত হয় এবং সেই নাম দিয়েই তাকে আজীবন ডাকা হবে। রাসূলুল্লাহ ﷺ সন্তান জন্মের পর যত দ্রুত সম্ভব সুন্দর নাম রাখার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। সাধারণত জন্মের সপ্তম দিনে আকিকা করা, চুল মুণ্ডন করা এবং নাম রাখা, এটি সুন্নত হিসেবে পরিচিত।

ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে নাম রাখার সময় যে বিষয়গুলো মানা উচিত:

  • নামের অর্থ অবশ্যই ভালো ও ইতিবাচক হতে হবে
  • নামটি যেন শিরক, কুফর বা গুনাহের অর্থ বহন না করে
  • নামের উচ্চারণ ও অর্থ উভয়ই স্পষ্ট ও মর্যাদাপূর্ণ হওয়া জরুরি
  • আল্লাহ তাআলার জন্য নির্দিষ্ট গুণবাচক নামগুলো (যেমন: খালিক, রাজ্জাক) একা ব্যবহার না করে “আব্দ” যুক্ত করে রাখা উচিত

এই নীতিগুলো অনুসরণ করলে সন্তানের নাম হবে ইসলাম সম্মত ও অর্থবহ।

কোন ধরনের নাম রাখা উচিত

ইসলাম অনুযায়ী নিচের ধরনের নামগুলো রাখা উত্তম:

  1. আল্লাহর প্রতি বান্দাহত্ব প্রকাশকারী নাম
    যেমন: আব্দুল্লাহ, আব্দুর রহমান ইত্যাদি
  2. নবী ও রাসূলদের নাম
    যেমন: ইবরাহিম, মূসা, ইউনুস (আ.)
  3. সাহাবায়ে কেরাম ও সৎ ব্যক্তিদের নাম
  4. ভালো অর্থবোধক গুণবাচক নাম
    যেমন: ন্যায়পরায়ণ, জ্ঞানী, ধৈর্যশীল, এই অর্থগুলো বহন করে এমন নাম

‘ঞ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম’ খুঁজলেও এই মূলনীতি গুলো অবশ্যই প্রযোজ্য হবে। নাম বিরল হলেও তার অর্থ ও ইসলামিক গ্রহণযোগ্যতাই মুখ্য।

কোন ধরনের নাম এড়িয়ে চলা উচিত

নাম রাখার ক্ষেত্রে যেমন কিছু বিষয় মানা জরুরি, তেমনি কিছু নাম এড়িয়ে চলাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:

  • শিরকপূর্ণ নাম: আল্লাহর গুণাবলি একক ভাবে মানুষের জন্য ব্যবহার করা
  • খারাপ বা নেতিবাচক অর্থবোধক নাম
  • অমুসলিম ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে সরাসরি যুক্ত নাম
  • অশালীন, অহংকারপূর্ণ বা আত্মপ্রশংসামূলক নাম
  • অর্থ না জেনে কেবল ফ্যাশনের কারণে রাখা নাম

অনেক সময় ‘ইউনিক’ নামের খোঁজে অর্থ যাচাই না করেই নাম রাখা হয়, যা পরবর্তীতে অনুশোচনার কারণ হতে পারে। তাই ‘ঞ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম’ নির্বাচন করার ক্ষেত্রেও অর্থ, উৎস ও ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি যাচাই করা অপরিহার্য।

ঞ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম অর্থসহ

ঞ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নামের বিস্তারিত তালিকা (প্রথম অংশ)

‘ঞ’ বাংলা বর্ণটি আরবি ভাষায় সরাসরি না থাকায় ইসলামিক নামের ক্ষেত্রে এখানে উচ্চারণ ভিত্তিক রূপান্তর, অর্থগত সামঞ্জস্য এবং ইসলাম সম্মত গ্রহণ যোগ্যতা, এই তিনটি বিষয়কে ভিত্তি ধরা হয়েছে। নিচে দেওয়া নামগুলো আরবি/ইসলামিক উৎসের, তবে বাংলায় প্রচলিত রূপে ‘ঞ’ দিয়ে লেখা হয়।

১. ঞাসির (Nasir)

  • অর্থ: সাহায্যকারী, বিজয় দানকারী
  • উৎস: আরবি
  • ব্যাখ্যা: ইসলামে সাহায্য ও ন্যায় বিচার অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ গুণ। এই নাম সাহস ও সহানুভূতির প্রতীক।

২. ঞাইম (Naim)

  • অর্থ: সুখী, শান্তিময়, আরামপ্রাপ্ত
  • উৎস: আরবি
  • ব্যাখ্যা: জান্নাতের নেয়ামতের ভাবার্থ বহন করে এমন একটি সুন্দর ও পবিত্র নাম।

৩. ঞাবিল (Nabil)

  • অর্থ: মহৎ, ভদ্র, সম্মানিত
  • উৎস: আরবি
  • ব্যাখ্যা: উত্তম চরিত্র ও উচ্চ নৈতিকতার প্রতিফলন ঘটে এই নামে।

৪. ঞাফি (Nafi)

  • অর্থ: উপকারী, কল্যাণ বয়ে আনে যে
  • উৎস: আরবি
  • ব্যাখ্যা: মানুষের উপকার করা ইসলামে বড় সওয়াবের কাজ, এই নাম সেই ভাবনা বহন করে।

৫. ঞাহিয়ান (Nahiyan)

  • অর্থ: নিষেধকারী, অন্যায় থেকে বিরত রাখে যে
  • উৎস: আরবি
  • ব্যাখ্যা: সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করার ইসলামী আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

৬. ঞাজিব (Najib)

  • অর্থ: বংশ মর্যাদা সম্পন্ন, সম্মানিত
  • উৎস: আরবি
  • ব্যাখ্যা: ভদ্রতা ও আত্মমর্যাদার পরিচায়ক একটি ইসলামিক নাম।

৭. ঞাজি (Naji)

  • অর্থ: মুক্তিপ্রাপ্ত, সফল
  • উৎস: আরবি
  • ব্যাখ্যা: আখিরাতে সফলতা লাভের দোয়া হিসেবে এই নাম রাখা হয়।

৮. ঞাসিম (Nasim)

  • অর্থ: মৃদু বাতাস, কোমলতা
  • উৎস: আরবি
  • ব্যাখ্যা: শান্ত স্বভাব ও কোমল হৃদয়ের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

৯. ঞাবিহ (Nabih)

  • অর্থ: বুদ্ধিমান, সচেতন
  • উৎস: আরবি
  • ব্যাখ্যা: জ্ঞান ও প্রজ্ঞার সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি অর্থবহ নাম।

১০. ঞাফিস (Nafis)

  • অর্থ: মূল্যবান, উৎকৃষ্ট
  • উৎস: আরবি
  • ব্যাখ্যা: সন্তানকে মূল্যবান আমানত হিসেবে দেখার ভাবনা এই নামে প্রকাশ পায়।

১১. ঞাজম (Najm)

  • অর্থ: নক্ষত্র
  • উৎস: আরবি (কুরআনিক শব্দ)
  • ব্যাখ্যা: আলো ও পথনির্দেশের প্রতীক হিসেবে ইসলামে নক্ষত্রের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।

১২. ঞাইফ (Naif)

  • অর্থ: উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন, উন্নত
  • উৎস: আরবি
  • ব্যাখ্যা: সম্মান ও মর্যাদার ভাবার্থ বহন করে এমন একটি সুন্দর নাম।

১৩. ঞাবিত (Nabit)

  • অর্থ: উদ্ভূত, বিকশিত
  • উৎস: আরবি
  • ব্যাখ্যা: উন্নতি ও বিকাশের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

১৪. ঞাসরুল (Nasrul)

  • অর্থ: আল্লাহর সাহায্য
  • উৎস: আরবি
  • ব্যাখ্যা: কুরআনের সূরা “আন-নাসর” থেকে অনুপ্রাণিত অর্থ বহন করে।

ঞ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নামের তালিকা (দ্বিতীয় অংশ)

এই অংশে ঞ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম-এর আরও কিছু সুন্দর, অর্থবহ ও ইসলাম সম্মত নাম তুলে ধরা হলো। এখানে বিশেষ ভাবে লক্ষ্য রাখা হয়েছে, নাম গুলো যেন আধুনিক শোনায়, অর্থ ভালো হয় এবং ইসলামিক দৃষ্টি কোণ থেকে গ্রহণ যোগ্য থাকে। তালিকার শেষে আধুনিক ও সুন্দর নামগুলো আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে।

১. ঞাবির (Nabir)

  • অর্থ: সুসংবাদ বহনকারী
  • উৎস: আরবি
  • ব্যাখ্যা: আশাবাদ, ইতিবাচকতা ও ভালো সংবাদ পৌঁছে দেওয়ার ভাবার্থ বহন করে।

২. ঞাসিফ (Nasif)

  • অর্থ: ন্যায়পরায়ণ, ইনসাফকারী
  • উৎস: আরবি
  • ব্যাখ্যা: ন্যায়বিচার ইসলামের একটি মূলনীতি, এই নাম সেই আদর্শকে প্রতিফলিত করে।

৩. ঞাফিল (Nafil)

  • অর্থ: অতিরিক্ত ইবাদতকারী, নফল আমলকারী
  • উৎস: আরবি
  • ব্যাখ্যা: ইবাদতে আগ্রহ ও আল্লাহর নৈকট্যের প্রতীক।

৪. ঞামির (Namir)

  • অর্থ: দৃঢ়, শক্তিশালী
  • উৎস: আরবি
  • ব্যাখ্যা: সাহস ও দৃঢ়চেতা মানসিকতার প্রতিফলন ঘটে এই নামে।

৫. ঞাসিক (Nasiq)

  • অর্থ: পরিশুদ্ধ, পরিষ্কার চরিত্রের অধিকারী
  • উৎস: আরবি
  • ব্যাখ্যা: আত্মশুদ্ধি ও পবিত্রতার ইঙ্গিত বহন করে।

৬. ঞাদির (Nadir)

  • অর্থ: বিরল, অনন্য
  • উৎস: আরবি
  • ব্যাখ্যা: ব্যতিক্রমী ও বিশেষত্বের প্রতীক, ঞ’ দিয়ে নাম খোঁজার সঙ্গে অর্থগত ভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

৭. ঞাজির (Nazir)

  • অর্থ: পর্যবেক্ষক, দৃষ্টিসম্পন্ন
  • উৎস: আরবি
  • ব্যাখ্যা: সচেতনতা ও দায়িত্ববোধের ভাবার্থ প্রকাশ করে।

৮. ঞাসহান (Nashan)

  • অর্থ: চিহ্ন, নিদর্শন
  • উৎস: আরবি
  • ব্যাখ্যা: আল্লাহর কুদরতের নিদর্শন ও পরিচয়ের ভাবনা বহন করে।

৯. ঞাফির (Nafir)

  • অর্থ: আহ্বানকারী
  • উৎস: আরবি
  • ব্যাখ্যা: সত্য ও কল্যাণের পথে মানুষকে আহ্বান করার ভাবার্থ রয়েছে।

১০. ঞাসরিন (Nasrin)

  • অর্থ: সুগন্ধি ফুল
  • উৎস: আরবি-ফারসি
  • ব্যাখ্যা: কোমলতা ও সৌন্দর্যের প্রতীক (যদিও কিছু এলাকায় এটি ইউনিসেক্স হিসেবে ব্যবহৃত হয়)।

১১. ঞাজাত (Najat)

  • অর্থ: মুক্তি, পরিত্রাণ
  • উৎস: আরবি
  • ব্যাখ্যা: আখিরাতের মুক্তি কামনার অর্থ বহন করে।

১২. ঞাহিম (Nahim)

  • অর্থ: দয়ালু, সহানুভূতিশীল
  • উৎস: আরবি
  • ব্যাখ্যা: দয়া ও মানবিক গুণাবলীর প্রতিফলন ঘটে এই নামে।

আধুনিক ও সুন্দর নাম (সংক্ষেপে তালিকা)

নিচের নামগুলো বর্তমানে তুলনামূলকভাবে বেশি আধুনিক শোনায় এবং অর্থের দিক থেকেও খুব সুন্দর:

  • ঞাসির
  • ঞাইম
  • ঞাদির
  • ঞাফিস
  • ঞাজম
  • ঞাজাত
  • ঞাসিফ

এই নামগুলো ছোট, অর্থবহ এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পরিসরেও মানানসই হতে পারে, যা অনেক অভিভাবকের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সন্তানের নাম রাখার সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখা উচিত

একটি নাম আজীবনের জন্য সন্তানের পরিচয় বহন করে। তাই ঞ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম নির্বাচন করার সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে বিশেষভাবে নজর দেওয়া প্রয়োজন:

  1. অর্থ যাচাই করা: নামটি সুন্দর শোনালেই যথেষ্ট নয়; এর অর্থ অবশ্যই ইতিবাচক ও ইসলামসম্মত হতে হবে।
  2. উৎস নিশ্চিত করা: নামটি আরবি বা ইসলামিক উৎস থেকে এসেছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি।
  3. শিরকমুক্ত হওয়া: আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট গুণবাচক নাম একা ব্যবহার না করে “আব্দ” যুক্ত করা উচিত।
  4. উচ্চারণে সহজতা: নামটি যেন সহজে উচ্চারণযোগ্য হয় এবং ভবিষ্যতে বিকৃত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।
  5. সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা: নামটি যেন সমাজে মর্যাদাপূর্ণ ও শালীন হিসেবে গ্রহণযোগ্য হয়।
  6. ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপট বিবেচনা: শিক্ষাজীবন, কর্মজীবন ও আন্তর্জাতিক পরিসরে নামটি মানানসই কি না, সেটিও ভাবা উচিত।

বিশেষ করে ‘ঞ’ দিয়ে নাম রাখার ক্ষেত্রে উচ্চারণ ও বানানের বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন, যাতে অফিসিয়াল কাগজপত্রে বিভ্রান্তি না হয়।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ১: ঞ দিয়ে কি আসলেই ইসলামিক নাম রাখা যায়?

উত্তর: হ্যাঁ, সরাসরি আরবি বর্ণ না থাকলেও আরবি নামের বাংলা উচ্চারণ ও রূপান্তরের মাধ্যমে ঞ দিয়ে ইসলাম সম্মত ও অর্থবহ নাম রাখা যায়।

প্রশ্ন ২: ঞ দিয়ে নাম রাখা কি ইসলামসম্মত?

উত্তর: নামের অক্ষর নয়, অর্থ ও উদ্দেশ্যই মূল বিষয়। যদি নামের অর্থ ভালো হয় এবং শিরক বা হারাম অর্থ বহন না করে, তাহলে তা অবশ্যই ইসলাম সম্মত।

প্রশ্ন ৩: এই নামগুলো কি কুরআন বা হাদিসের বিরোধী?

উত্তর: না। তালিকাভুক্ত নাম গুলো অর্থগত ভাবে ইতিবাচক এবং ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

প্রশ্ন ৪: ছেলে সন্তানের জন্য ইউনিক নাম রাখতে চাইলে কী করা উচিত?

উত্তর: ইউনিক হওয়ার চেয়ে অর্থবহ ও গ্রহণ যোগ্য হওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ‘ঞ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম’ এই দিক থেকে একটি ভালো বিকল্প হতে পারে।

প্রশ্ন ৫: নাম রাখার সবচেয়ে উত্তম সময় কখন?

উত্তর: ইসলামে জন্মের দিনই নাম রাখা জায়েজ। তবে সপ্তম দিনে আকিকা করে নাম রাখা সুন্নত হিসেবে অধিক প্রচলিত।

উপসংহার 

ইসলামে সন্তানের নামকরণ কোনো সাধারণ বিষয় নয়; এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও আমানত। একটি ভালো নাম সন্তানের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং তার ইসলামিক পরিচয়কে সুদৃঢ় করে। যদিও ঞ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম তুলনা মূলক ভাবে বিরল, তবুও সঠিক অর্থ, উৎস ও ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা করলে সুন্দর ও অর্থবহ নাম নির্বাচন করা সম্ভব।

এই আর্টিকেলে আমরা ধাপে ধাপে আলোচনা করেছি, ইসলামে নামের গুরুত্ব, নামকরণের নিয়ম, এবং ঞ দিয়ে ছেলেদের জন্য উপযুক্ত ইসলামিক নামের দুটি বিস্তারিত তালিকা। আশা করা যায়, এই গাইডটি আপনাকে আপনার সন্তানের জন্য একটি সুন্দর, অর্থপূর্ণ ও ইসলাম সম্মত নাম বেছে নিতে সহায়তা করবে।

আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের সন্তানদের নেককার, দ্বীনদার ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী হিসেবে গড়ে তোলার তাওফিক দান করেন, আমিন।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *