দেওয়ানি মামলা করার নিয়ম

দেওয়ানি মামলা করার নিয়ম: কোন ধাপে কী করবেন | সম্পূর্ণ গাইড ২০২৬

বাংলাদেশে জমি-জমা, বাড়িঘর, ব্যবসা, চুক্তি, পাওনা টাকা, পরিবারিক সম্পত্তি, উত্তরাধিকার, নিষেধাজ্ঞা (injunction) ইত্যাদি নিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ দেওয়ানি বিরোধ সৃষ্টি হয়। এসব বিরোধের সঠিক আইনি সমাধান পেতে হলে “দেওয়ানি মামলা করার নিয়ম” সম্পর্কে সাধারণ মানুষের পরিষ্কার ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।

দেওয়ানি মামলা (Civil Suit) হলো এমন মামলা যেখানে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যক্তিগত অধিকার, সম্পত্তি, চুক্তি, ক্ষতিপূরণ বা অন্য কোনো বেসরকারি অধিকার সম্পর্কিত বিরোধের বিচার চাওয়া হয়। এটি ফৌজদারি মামলার মতো শাস্তিমূলক নয়, বরং অধিকার প্রতিষ্ঠা, ক্ষতিপূরণ আদায়, বা বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশের দেওয়ানি বিচারব্যবস্থা Code of Civil Procedure, 1908 (CPC) অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এই আইনের ধারা ও প্রক্রিয়া অনুসরণ না করলে মামলা খারিজ হয়ে যেতে পারে অথবা দীর্ঘদিন ঝুলে থাকতে পারে। তাই মামলা দায়েরের আগে থেকে শুরু করে উপস্থাপন, নোটিশ, প্রমাণ, শুনানি, রায়, প্রতিটি ধাপে আইনগত নিয়ম জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনি সহজ ভাষায় জানতে পারবেন:
  • কখন দেওয়ানি মামলা করতে হয়
  • কোন আদালতে মামলা হবে
  • কী কী কাগজপত্র লাগে
  • মামলা দায়েরের ধাপগুলো কী
  • আইন অনুযায়ী আদালতের ভূমিকা কী

এটি শুধু আইনজীবী বা মামলা পরিচালনাকারীর জন্যই নয়; বরং যে কোনো সাধারণ নাগরিকের জন্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সঠিক প্রক্রিয়া জানা থাকলে আপনি সময়, অর্থ এবং মানসিক চাপ, সবই কমাতে পারবেন।

দেওয়ানি মামলা কোন আইনে পরিচালিত হয়?

বাংলাদেশে দেওয়ানি মামলার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া পরিচালিত হয় Code of Civil Procedure, 1908 (CPC) অনুযায়ী। এছাড়া ভিন্ন ভিন্ন দেওয়ানি বিষয়ের জন্য যেমন, সম্পত্তি, চুক্তি, উত্তরাধিকার, ক্ষতিপূরণ, সেগুলোর জন্য সংশ্লিষ্ট পৃথক আইনও প্রযোজ্য হয়।

নিচে দেওয়ানি মামলার প্রধান আইনি কাঠামো তুলে ধরা হলো:

 মূল আইন: Code of Civil Procedure (CPC), 1908

এটি দেওয়ানি মামলার “বাইবেল” বলা যায়। পুরো মামলার ধাপ, কোর্টে আবেদন, নোটিশ, প্রমাণ, শুনানি, রায়, আপিল—সবকিছু এ আইনে নির্ধারিত।

CPC–এর গুরুত্বপূর্ণ ধারা/অর্ডারসমূহ:

  • Order 7 Rule 1: plaint বা মামলা দায়েরের আবেদনের ফরম্যাট ও আবশ্যকীয় বিষয়
  • Order 5: সমন (Summons) জারি ও প্রতিপক্ষকে নোটিশ পাঠানোর নিয়ম
  • Order 6: plaint ও written statement–এর প্লিডিং নিয়ম
  • Order 8: বিবাদীর written statement দাখিল
  • Order 9: পক্ষ অনুপস্থিত থাকলে মামলা খারিজ/একতরফা রায়
  • Order 11–13: প্রমাণ উপস্থাপন ও ডকুমেন্ট আদান–প্রদান
  • Order 39 Rule 1 & 2: সাময়িক নিষেধাজ্ঞা (Temporary Injunction)
  • Section 9: দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ার (Civil Court’s Jurisdiction)
  • Section 26: মামলা দায়ের ও প্রক্রিয়া শুরু
  • Section 96: দেওয়ানি মামলার আপিলের নিয়ম

পুলিশি হয়রানি হলে করণীয় : এ বিষয়ে আমাদের Law Doors ওয়েবসাইটে বিস্তারিত একটি নিবন্ধ রয়েছে, প্রয়োজন হলে পরে দেখে নিতে পারেন।

বিচারিক এখতিয়ার (Jurisdiction) ও কোন আদালতে মামলা হবে

দেওয়ানি মামলা কোথায় দায়ের হবে তা নির্ধারণ করে:

  • বিতর্কিত সম্পত্তি বা ঘটনার অবস্থান (Territorial jurisdiction)
  • মামলার মূল্য (Pecuniary jurisdiction)
  • বিষয়ের ধরন (Subject matter jurisdiction)

বাংলাদেশে সাধারণত দেওয়ানি মামলা হয়:

  • জজ কোর্ট (Joint District Judge & Senior Assistant Judge Court)
  • জেলা জজ আদালত

হাইকোর্ট বিভাগ (Complex civil matters, writ, revision, appeal)

 Limitation Act, 1908 – মামলা করার সময়সীমা

মামলা যে কোনো সময় করা যায় না।
Limitation Act–এ প্রতিটি মামলা করার নির্দিষ্ট সময়সীমা আছে। যেমন:

  • ঘোষণামূলক মামলা: ৩ বছর
  • নির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন মামলা (Specific Performance): ৩ বছর
  • চুক্তিভঙ্গ মামলা: ৩ বছর
  • সম্পত্তি পুনরুদ্ধার (Possession): ১২ বছর

সময়সীমা অতিক্রম করলে মামলাটি খারিজ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

 Court Fees Act, 1870 – মামলা খরচ নির্ধারণ

মামলা দায়েরের সময় যে স্ট্যাম্প ফি দিতে হয় তা এই আইনে নির্ধারিত।
সম্পত্তির মূল্যের ওপর ভিত্তি করে কোর্ট ফি নির্ধারিত হয়।

 Evidence Act, 1872 – প্রমাণ উপস্থাপন

মামলায় কোন প্রমাণ গ্রহণযোগ্য, কোনটি নয়,এটি Evidence Act–এর ধারায় নির্ধারিত।
ডকুমেন্টারি প্রমাণ, সাক্ষীর জবানবন্দি, বিশেষজ্ঞ মতামত,সবই এই আইনে ব্যাখ্যা করা আছে।

 Specific Relief Act, 1877 – সম্পত্তি/চুক্তি সুরক্ষার আইন

সম্পত্তি পুনরুদ্ধার, নির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন, নিষেধাজ্ঞা (Injunction) ইত্যাদি দেওয়ানি প্রতিকার এই আইনে বিস্তারিত বলা হয়েছে।

 Registration Act, 1908 ও Transfer of Property Act, 1882

জমি-জমা বিষয়ে মামলা হলে এই দুটি আইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

দেওয়ানি আদালত কীভাবে বিষয়গুলো দেখে

দেওয়ানি আদালত কীভাবে বিষয়গুলো দেখে?

দেওয়ানি আদালতে যেকোনো বিরোধের মূল লক্ষ্য হলো,পক্ষগুলোর অধিকার নির্ধারণ, প্রমাণ পর্যালোচনা এবং ন্যায়সঙ্গত প্রতিকার নিশ্চিত করা। নিচে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তব উদাহরণ এবং আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হলো, যাতে সাধারণ নাগরিক বিষয়টি আরও সহজভাবে বুঝতে পারেন।

উদাহরণ: জমির মালিকানা বিরোধ

পরিস্থিতি:
দুই ব্যক্তি একই জমির উপর মালিকানা দাবি করেছে, একজনের হাতে পুরোনো দলিল, অন্যজনের হাতে নতুন রেজিস্ট্রি দলিল।

আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি:

  • আদালত প্রথমে জমির অধিকার ও দখল কার কাছে স্থিতিশীল তা পরীক্ষা করেন।
  • পরে দলিলের সিরিয়াল, মালিকানা চেইন (Chain of Title), রেজিস্ট্রি অফিস রেকর্ড, খাজনা রসিদ, Mutation ইত্যাদি বিবেচনা করেন।
  • সঠিক ও পূর্ববর্তী মালিকানা প্রমাণ করতে পারলে আদালত সেই পক্ষের পক্ষে রায় দেন।
  • এটি সাধারণত ঘোষণামূলক মামলা (Declaratory Suit) হিসেবে দায়ের হয়।

উদাহরণ: চুক্তিভঙ্গ (Breach of Contract)

পরিস্থিতি:
A ব্যক্তি B–কে ২০ লাখ টাকায় একটি ফ্ল্যাট বিক্রি করার চুক্তি করলেন এবং অগ্রিম টাকা নিলেন। পরে ফ্ল্যাট বিক্রি অস্বীকার করলেন।

আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি:

  • আদালত প্রথমে চুক্তিটি লিখিত কিনা, উভয় পক্ষ স্বাক্ষর করেছে কিনা, শর্তাবলি স্পষ্ট কিনা, এসব যাচাই করেন।
  • প্রমাণ থাকলে আদালত Specific Relief Act অনুযায়ী “Specific Performance” বা নির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের নির্দেশ দিতে পারেন।
  • অর্থাৎ, আদালত বাধ্য করতে পারেন যাতে বিক্রেতা ফ্ল্যাটটি ক্রেতার নামে রেজিস্ট্রি করে দেন।

উদাহরণ: সাময়িক নিষেধাজ্ঞা (Temporary Injunction)

পরিস্থিতি:
কেউ আপনার জমিতে জোরপূর্বক ঘর তুলতে শুরু করেছে। আপনি মামলা করেছেন, কিন্তু রায় পেতে সময় লাগবে।

আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি:

  • আদালত Order 39 Rule 1 & 2 CPC অনুযায়ী জরুরি ভিত্তিতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারেন।
  • যাতে বিরোধ মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত প্রতিপক্ষ কোনো নির্মাণ করতে না পারে।
  • আদালত পরীক্ষা করেন:
    Prima facie case
    Balance of convenience
    Irreparable loss

তিনটি শর্ত পূরণ হলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

 উদাহরণ: উত্তরাধিকার নিয়ে বিরোধ

পরিস্থিতি:
পিতা মারা যাওয়ার পর ভাইদের মধ্যে জমি বণ্টনে অসামঞ্জস্য।

আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি:

  • আদালত উত্তরাধিকার আইন (Muslim/ Hindu/ Christian Law) অনুযায়ী কার কত অংশ আসে তা নির্ধারণ করেন।
  • প্রয়োজন হলে Partition Suit (বণ্টন মামলা) করে আদালত অংশ অনুযায়ী জমি বিভাজন করেন।

দীর্ঘদিন কেউ দখলে থাকলেও মালিকানা নির্ধারণে আইনি অংশীদারিত্বই মুখ্য বিবেচিত হয়।

উদাহরণ: স্থাবর সম্পত্তি জবরদখল

পরিস্থিতি:
কেউ আপনার বাড়িতে জোর করে ঢুকে দখল নিয়ে ফেলেছে।

আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি:

  • আদালত Possession Suit বা Recovery of Possession–এর মাধ্যমে দখল ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন।

প্রমাণ হিসেবে দরকার হয়, দখলের ইতিহাস, দলিল, কর/খাজনা রসিদ, স্থানীয় সাক্ষী ইত্যাদি।

এই উদাহরণগুলো থেকে বোঝা যায়, আদালত সর্বদা দলিল, প্রমাণ ও অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়।
যে পক্ষ তার দাবি প্রমাণ করতে পারে, রায় সাধারণত তার পক্ষেই যায়।

দেওয়ানি মামলা করার আগে ও পরে কী করবেন?

দেওয়ানি মামলা সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি ও প্রমাণনির্ভর একটি প্রক্রিয়া। তাই শুরু থেকেই সঠিক পদক্ষেপ নিলে সময়, অর্থ ও ঝুঁকি, সবই কমে যায়। নিচে একজন সাধারণ নাগরিক কীভাবে সঠিকভাবে দেওয়ানি মামলা পরিচালনা করতে পারেন তা ধাপে ধাপে দেওয়া হলো।

মামলা করার আগে যেসব কাজ অবশ্যই করবেন

(প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করুন

  • সম্পত্তির দলিল
  • খাজনা/কর রসিদ
  • Mutation/নামজারি কাগজ
  • চুক্তিপত্র
  • নোটিস/চিঠি

প্রয়োজনীয় সাক্ষীর তথ্য
এগুলো ছাড়াও মামলার ধরন অনুযায়ী অতিরিক্ত কাগজপত্র লাগতে পারে।

আইনি নোটিশ (Legal Notice) পাঠান

সব ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক না হলেও অনেক সময় আইনি নোটিশ পাঠানোতে প্রতিপক্ষ সমঝোতায় আসতে পারে।
Contract, Money suit, Land dispute–এ নোটিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

 সঠিক আইনজীবী নির্বাচন করুন

দেওয়ানি মামলা টেকনিক্যাল এবং দীর্ঘ হয়।
অভিজ্ঞ অ্যাডভোকেট নির্বাচন করলে:

  • প্রমাণ সংগ্রহ
  • মামলার কৌশল

সঠিক আইন ধরা
সবকিছু সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়।

মামলার সময়সীমা (Limitation Period) যাচাই করুন

Limitation Act অনুযায়ী সময় পেরিয়ে গেলে মামলা খারিজ হতে পারে।
যেমন:

  • চুক্তিভঙ্গ দাবি: ৩ বছর
  • ঘোষণামূলক মামলা: ৩ বছর

Possession suit: ১২ বছর

মামলা করার সময় করণীয়

Plaint সঠিকভাবে প্রস্তুত করুন (Order 7 Rule 1 CPC)

মামলার plaint–এ থাকতে হবে:

  • ঘটনার বিবরণ
  • দাবি (Relief)
  • প্রমাণের তালিকা
  • পক্ষগুলোর তথ্য
  • মামলা দায়েরের কারণ

মামলার মূল্য (Valuation)

কোর্ট ফি সঠিকভাবে প্রদান করুন

Court Fees Act অনুযায়ী কোর্ট ফি নির্ধারিত।
ভুল বা কম কোর্ট ফি দিলে মামলা খারিজ হতে পারে।

সব নথি সঠিকভাবে দাখিল করুন

যে কোনো কাগজপত্র দাখিল করলে অবশ্যই:

  • সত্যতা
  • বৈধতা
  • উৎস প্রমাণ করতে হবে।

 মামলার চলাকালে করণীয়

আদালতের সমন/নোটিশ নিয়মিত অনুসরণ করুন

তারিখ মিস করলে:

  • মামলা খারিজ
  • একতরফা রায় হয়ে যেতে পারে।

প্রয়োজন হলে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আবেদন করুন

যদি প্রতিপক্ষ সম্পত্তিতে ক্ষতি করার চেষ্টা করে, তাহলে Order 39 CPC অনুযায়ী Injunction চাওয়া যায়।

সাক্ষী ও প্রমাণ প্রস্তুত রাখুন

Evidence Act অনুযায়ী:

  • সাক্ষী
  • ডকুমেন্ট

মালিকানা প্রমাণ
যত শক্তিশালী হবে, রায় তত আপনার পক্ষে যাবে।

মামলার পরবর্তী করণীয়

রায় আপনার ক্ষতি হলে আপিল করুন (Section 96 CPC)

সাধারণত দেওয়ানি রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সময়: ৯০ দিন, আপিল না করলে রায় চূড়ান্ত হয়ে যায়।

সংক্ষিপ্ত পরামর্শ

  • তথ্য গোপন করবেন না
  • আদালতের সামনে সত্য কথা বলুন
  • সব কাগজপত্রের কপি সংরক্ষণ করুন
  • আইনজীবীর সঙ্গে সব বিষয় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিন

দেওয়ানি মামলা নিয়ে সাধারণ নাগরিকদের সবচেয়ে বেশি করা ৫টি প্রশ্ন ও সংক্ষিপ্ত আইনি উত্তর

 দেওয়ানি মামলা কোন বিষয় নিয়ে করা যায়?

উত্তর: জমি-জমা, মালিকানা বিরোধ, নামজারি, চুক্তিভঙ্গ, পাওনা টাকা, ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা (injunction), সম্পত্তি বণ্টন, উত্তরাধিকার, দখল পুনরুদ্ধার, এসব বিষয় দেওয়ানি মামলার অন্তর্ভুক্ত।

কোন আদালতে দেওয়ানি মামলা করতে হয়?

উত্তর: মামলার মূল্য (Pecuniary Jurisdiction) এবং ঘটনার স্থান (Territorial Jurisdiction) অনুযায়ী Senior Assistant Judge Court, Joint District Judge Court বা জেলা জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা করা হয়। গুরুতর বা জটিল মামলায় হাইকোর্টেও যেতে হয়।

মামলা করতে হলে কোন কোন কাগজপত্র দরকার?

উত্তর: দলিল, খাজনা/কর রসিদ, Mutation/নামজারি পত্র, চুক্তিপত্র, নোটিশ, প্রমাণাদি, সাক্ষীর তথ্য, মামলার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথি আদালতে জমা দিতে হয়।

দেওয়ানি মামলা করতে কত সময় লাগে?

উত্তর: দেওয়ানি মামলা প্রমাণনির্ভর হওয়ায় সময় নির্ভর করে, প্রমাণ, সাক্ষী, আদালতের তারিখ, প্রতিপক্ষের কার্যক্রম ও আদালতের ব্যস্ততার ওপর। সাধারণত কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

 রায় আমার বিপক্ষে গেলে কী করবো?

উত্তর: আপনি Section 96 CPC অনুযায়ী “Appeal” করতে পারবেন। সাধারণত আপিলের সময়সীমা ৯০ দিন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল না করলে মূল রায় চূড়ান্ত হয়ে যায়।

 দেওয়ানি মামলায় কি আইনজীবী ছাড়া মামলা করা যায়?

উত্তর: হ্যাঁ, আইনজীবী ছাড়া নিজে মামলা করা আইনত সম্ভব। তবে দেওয়ানি মামলা জটিল হওয়ায় অভিজ্ঞ আইনজীবী ছাড়া সঠিকভাবে পরিচালনা করা কঠিন এবং ভুল হলে মামলা খারিজ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

নোটিশ পাঠানো কি বাধ্যতামূলক?

উত্তর:সব ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক নয়। তবে চুক্তিভঙ্গ, পাওনা টাকা, সম্পত্তি বিরোধের ক্ষেত্রে নোটিশ দিলে বিরোধ বিচার ছাড়াই সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং আদালতে শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।

উপসংহার

দেওয়ানি মামলা—সঠিক প্রক্রিয়া জানলেই ন্যায়বিচার সহজ

দেওয়ানি মামলা হলো অধিকার প্রতিষ্ঠা, সম্পত্তি সুরক্ষা, চুক্তি বাস্তবায়ন এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষার অন্যতম প্রধান আইনি উপায়। কিন্তু এটি সফল করতে হলে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সঠিক নিয়ম অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি।

এই আর্টিকেলে আমরা দেখলাম:

  • কখন ও কেন দেওয়ানি মামলা প্রয়োজন
  • কোন আইন ও ধারায় এটি পরিচালিত হয়
  • আদালত কোন বিষয়গুলোকে সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়
  • একজন নাগরিক কীভাবে প্রস্তুতি নেবে
  • প্রমাণ, নথি, আদালতের সময়সীমা,সবকিছুর গুরুত্ব

সারকথা, দেওয়ানি মামলা শুধুমাত্র আদালতে গিয়ে মামলা করার বিষয় নয়; বরং এটি একটি প্রমাণনির্ভর, কৌশলনির্ভর ও ধৈর্যনির্ভর প্রক্রিয়া। যথাযথ আইনজীবী, সঠিক তথ্য, প্রামাণ্য দস্তাবেজ এবং আইনি সময়সীমা মানলে আপনার ন্যায়বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়।

আইনের সঠিক ব্যবহার মানুষকে তার অধিকার পুনরুদ্ধারে সক্ষম করে, এটাই দেওয়ানি আইনের মূল সৌন্দর্য।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *