বাংলাদেশে বিবাহ বিচ্ছেদ (তালাক) এর আইন ও প্রক্রিয়া | নোটিশ, ইদ্দত, দেনমোহর ও কোর্ট ডিভোর্স
বাংলাদেশে পরিবার একটি সামাজিক ও আইনগত প্রতিষ্ঠান। তবে সব বিবাহ সমান ভাবে সুখকর বা টেকসই হয় না। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মত বিরোধ, মানসিক নির্যাতন, অসামঞ্জস্য, দায়িত্ব হীনতা কিংবা অন্যান্য পারিবারিক কারণে অনেক সময় বিবাহ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে আইনের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ (তালাক) একটি বৈধ প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত।
বর্তমান সমাজে তালাকের হার বৃদ্ধি পেয়েছে, শুধু শহরেই নয়, গ্রামাঞ্চলেও। অনেকে তালাকের নিয়ম, নোটিশ, সময়সীমা, কিংবা আইনি করণীয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় ভুল সিদ্ধান্ত নেন, যা পরে বড় ধরনের সমস্যার কারণ হয়, যেমনঃ ভরণপোষণ, দেনমোহর, সন্তানের অভিভাবকত্ব, সম্পত্তির অধিকার ইত্যাদি।
এই আর্টিকেলের উদ্দেশ্য:
- বিবাহ বিচ্ছেদের আইনি ভিত্তি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা
- তালাকের সঠিক প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা
- স্বামী ও স্ত্রীর অধিকার ও দায়িত্ব বোঝানো
- বাস্তব উদাহরণ ও আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা
- আইনের আলোকে সাধারণ নাগরিকের জন্য কার্যকর পরামর্শ দেওয়া
একজন অভিজ্ঞ অ্যাডভোকেট হিসেবে, এখানে আমি সহজ ভাষায় কিন্তু আইন সম্মত ব্যাখ্যা দিয়ে ধাপে ধাপে বিবাহ বিচ্ছেদ (তালাক) সম্পর্কিত সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য তুলে ধরবো, যাতে পাঠক নিজের অধিকার ও করণীয় সম্পর্কে সঠিক ধারণা পেতে পারেন।
বিবাহ বিচ্ছেদ (তালাক) এর আইন, বাংলাদেশে কোন ধারা কী বলে?
বাংলাদেশে মুসলিম ব্যক্তিগত আইনের ভিত্তিতে বিবাহ বিচ্ছেদ পরিচালিত হয়। তালাকের ক্ষেত্রে মূলত Muslim Family Laws Ordinance, 1961 (MFLO) এবং Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 অনুসরণ করা হয়। নীচে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারা ও বিধানগুলো সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হলো:

MFLO, 1961 – Section 7: তালাকের নোটিশ (Notice of Talaq)
এটি তালাকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইন।
ধারা ৭ অনুযায়ী:
- স্বামী যদি তালাক দিতে চান, তবে প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ (UP) চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র বা সিটি কর্পোরেশন কাউন্সিলরকে লিখিত তালাক নোটিশ দিতে হবে।
- নোটিশ দেওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে আরবিট্রেশন বোর্ড গঠন করা হয়।
- নোটিশ দেওয়ার তারিখ থেকে ৯০ দিন পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হয় না।
- নোটিশ না দিলে তালাক আইনগত ভাবে অবৈধ গণ্য হবে।
MFLO, 1961 – Section 8: স্ত্রী কর্তৃক তালাক (Talaq-e-Tafweez / Delegated Divorce)
যদি স্ত্রীকে বিবাহকালে “তাফওয়ীজ তালাক” (Delegated right to divorce) অধিকার দেওয়া থাকে, তবে:
- স্ত্রী নিজেও তালাক দিতে পারবেন।
- একইভাবে তাকে চেয়ারম্যান/মেয়রকে নোটিশ পাঠাতে হবে।
- এখানে ৯০ দিন অপেক্ষা এবং মধ্যস্থতার নিয়ম একই।
Dissolution of Muslim Marriages Act, 1939, স্ত্রী কর্তৃক বিবাহ বিচ্ছেদের অধিকার
স্ত্রী কিছু নির্দিষ্ট কারণে আদালতের মাধ্যমে তালাক চাইতে পারেন, যেমন:
- স্বামীর নির্যাতন
- ভরণপোষণ না দেওয়া
- স্বামীর নিখোঁজ হওয়া
- অক্ষমতা বা দাম্পত্য দায়িত্ব পালন না করা
- অসম্মানজনক আচরণ
এটি কোর্ট ডিভোর্স নামে পরিচিত।
Muslim Marriages & Divorces (Registration) Act, 1974, তালাক নিবন্ধন
- তালাক কার্যকর হওয়ার পর স্থানীয় তালাক রেজিস্টার এর অফিসে এটি নিবন্ধন করতে হয়।
- নিবন্ধন না করলে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা দেখা দিতে পারে (দেনমোহর, ভরণপোষণ, পুনর্বিবাহ ইত্যাদি বিষয়ে)।
দেনমোহর ও ভরণপোষণ সম্পর্কিত আইন
- তালাক কার্যকর হলে স্ত্রী বাকি দেনমোহর পাওয়ার অধিকারী।
- ভরণপোষণ (Maintenance) মুসলিম পার্সোনাল ল অনুযায়ী প্রধানত ইদ্দত পর্যন্ত দিতে হয়।
- তবে আদালত প্রয়োজন হলে সন্তানের ভরণপোষণের জন্য স্বামীর দায়িত্ব নির্ধারণ করতে পারে।
ইদ্দত (Iddat), একটি বাধ্যতামূলক সময়
ইদ্দত সম্পর্কিত বিধান ইসলামী শরীয়াহ অনুসারে:
- তালাক প্রাপ্ত স্ত্রীকে তিনটি ঋতুচক্র বা তিন মাস ইদ্দত পালন করতে হয়।
- এ সময়ে স্ত্রী অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারেন না।
- ইদ্দত চলাকালে স্বামী/স্ত্রী পুনর্মিলন চাইলে নির্দিষ্ট শর্তে বৈধ রিকনসিলিয়েশন করা যায়।
এই আইনি কাঠামো তালাককে একটি নিয়ন্ত্রিত, প্রমাণ যোগ্য ও ন্যায্য প্রক্রিয়া হিসেবে নিশ্চিত করে, যাতে দু’পক্ষই তাদের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে পারেন।
তালাক বিষয়ে আদালত কীভাবে বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করেছে?
বাংলাদেশে তালাকের প্রক্রিয়া নিয়ে আদালতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রায় রয়েছে। এসব রায়ে স্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে, তালাক একটি স্বীকৃত অধিকার হলেও এটি অবশ্যই আইন অনুযায়ী, প্রমাণ যোগ্য নোটিশ ও নির্ধারিত সময় সীমা অনুসরণ করে কার্যকর হতে হবে। নিচে কয়েকটি বাস্তবধর্মী পরিস্থিতি ও আদালতের ব্যাখ্যা তুলে ধরা হলো:

নোটিশ ছাড়া তালাক বৈধ নয়, আদালতের স্পষ্ট মত
অনেক ক্ষেত্রে স্বামী মৌখিক ভাবে বা কাগজে লিখে “তালাক” বলে দিলেও তিনি কোনো নোটিশ পাঠান না।
আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি:
- নোটিশ না থাকলে তালাক স্বয়ংক্রিয় ভাবে অবৈধ।
- MFLO 1961, Section 7 অনুসারে নোটিশ দেওয়া তালাকের মৌলিক শর্ত।
উদাহরণ:
ঢাকা পারিবারিক আদালতের একাধিক মামলায় দেখা গেছে, স্বামী দাবি করেছেন যে তিনি কয়েক বছর আগে তালাক দিয়েছেন। কিন্তু তিনি নোটিশ প্রেরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। আদালত রায় দিয়েছেন:
“নোটিশ ছাড়া তালাক আইনসম্মতভাবে সম্পন্ন হয়নি।”
স্ত্রী কর্তৃক তালাক (তাফওয়ীজ), আদালত সমান গুরুত্ব দেয়
যদি কাবিন নামায় স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা (তাফওয়ীজ) দেওয়া থাকে, তবে তিনি একই ভাবে নোটিশ দিয়ে তালাক দিতে পারেন।
আদালতের ব্যাখ্যা:
- স্ত্রী প্রদত্ত তালাকও ৯০ দিন পর কার্যকর হবে।
- স্বামীকে এ প্রক্রিয়া মানতেই হবে।
কোর্ট ডিভোর্স (স্ত্রীর আদালতে মামলা)
স্ত্রী নির্যাতন, ভরণ পোষণ না পাওয়া, স্বামীর নিখোঁজ থাকা ইত্যাদি কারণে আদালতের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ চাইতে পারেন।
আদালত সাধারণত:
- অভিযোগের প্রমাণ পেলে
- সাক্ষ্য ও নথিপত্র যাচাই করে
- আদালতের ডিক্রি দ্বারা বিবাহ বিচ্ছেদ ঘোষণা করেন।
উদাহরণ:
স্ত্রী মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন।
প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত সিদ্ধান্ত দেন:
“বৈবাহিক সম্পর্ক বজায় রাখা নিরাপদ নয়।”
এবং আদালত কোর্ট ডিভোর্স অনুমোদন করেন।
দেনমোহর (Dower) নিয়ে আদালতের অবস্থান
আদালত ধারাবাহিকভাবে বলেছেন:
- তালাক কার্যকর হওয়ার পর স্ত্রী বাকি দেনমোহরের সম্পূর্ণ পাওনাদার।
- এটি “অধিকার” (Right), অনুগ্রহ নয়।
উদাহরণ:
এক মামলায় স্বামী দাবি করেন যে স্ত্রী নিজে চলে গেছে, তাই দেনমোহর দেওয়া লাগবে না।
আদালত রায় দেন:
“তালাক বৈধ হলে দেনমোহর প্রদান বাধ্যতামূলক।”
সন্তানের ভরণ পোষণ – আদালতের কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি
বিবাহ বিচ্ছেদ হলেও সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব থেকে স্বামী মুক্ত নন।
আদালত সাধারণত:
- সন্তানের বয়স, প্রয়োজন
- স্বামীর আয়
- জীবিকার ব্যয়
এগুলো বিবেচনা করে মাসিক ভরণপোষণ নির্ধারণ করেন।
এই উদাহরণগুলো প্রমাণ করে যে আদালত সব সময় দু’পক্ষের অধিকার রক্ষায় গুরুত্ব দেয় এবং আইনি প্রক্রিয়া মানা হয়েছে কি না, সেটিই আদালতের মূল বিবেচ্য বিষয়।
তালাকের প্রক্রিয়ায় স্বামী-স্ত্রীর কী কী করণীয়?
তালাক একটি সংবেদনশীল ও আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়া। সঠিক নিয়ম অনুসরণ না করলে তালাক বাতিল, দেনমোহর জটিলতা, সন্তানের অভিভাবকত্ব বা ভরণপোষণ নিয়ে মামলা, এ ধরনের জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তাই নীচে ধাপে ধাপে নাগরিকদের করণীয় ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ তুলে ধরা হলো:
স্বামীর করণীয় (যদি স্বামী তালাক দিতে চান)

তালাকের লিখিত নোটিশ প্রেরণ করুন
- ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান / পৌর মেয়র / সিটি কাউন্সিলরকে লিখিত নোটিশ পাঠানো বাধ্যতামূলক।
- একই নোটিশ স্ত্রীর ঠিকানায়ও পাঠাতে হবে।
- নোটিশ না থাকলে তালাক আইনগত ভাবে অবৈধ।
৯০ দিনের অপেক্ষা (Iddat period & Notice period)
- নোটিশ দেওয়ার পর ৯০ দিন না গেলে তালাক কার্যকর হয় না।
- এই সময়ে আরবিট্রেশন বোর্ড চেষ্টা করবে সমঝোতার।
দেনমোহর পরিশোধ করুন
- তালাক কার্যকর হলে স্ত্রী বাকি দেনমোহরের অধিকারী।
- দেনমোহর না দিলে আদালত মামলা করে আদায় করাতে পারে।
সন্তানের ভরণপোষণ নিশ্চিত করুন
- তালাক হলেও বাবা সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব থেকে মুক্ত নন।
স্ত্রীর করণীয় (যদি স্ত্রী তালাক চান)

তাফওয়ীজ তালাক থাকলে নোটিশ দিন
- কাবিননামায় তাফওয়ীজ (Delegated right to divorce) থাকলে স্ত্রীও তালাক দিতে পারেন।
- পদ্ধতি স্বামীর মতোই, চেয়ারম্যানকে নোটিশ + ৯০ দিনের অপেক্ষা।
তাফওয়ীজ না থাকলে আদালতে মামলা করুন
Dissolution of Muslim Marriages Act, 1939 অনুযায়ী স্ত্রী আদালতের মাধ্যমে বিচ্ছেদ চাইতে পারেন।
কারণ হতে পারে:
- স্বামীর নির্যাতন
- ভরণপোষণ না দেওয়া
- স্বামীর নিখোঁজ থাকা
- দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে অক্ষমতা
- মানসিক যন্ত্রণা ইত্যাদি
দেনমোহর ও মহরানার পাওনা দাবি করুন
- তালাক কার্যকর হলে দেনমোহর আদায়ের অধিকার রয়েছে।
- প্রয়োজন হলে ফ্যামিলি কোর্টে মামলা করা যায়।
উভয় পক্ষের সাধারণ করণীয়

তালাক নিবন্ধন (Registration) করান
- তালাক কার্যকর হওয়ার পরে স্থানীয় তালাক রেজিস্টার অফিসে এটি নিবন্ধন করা জরুরি।
প্রয়োজন হলে আইনজীবীর পরামর্শ নিন
- দেনমোহর, ভরণপোষণ, সন্তানের কাস্টডি, যৌথ সম্পত্তি ইত্যাদি বিষয়ে পেশাদার সাহায্য নিলে ভবিষ্যৎ জটিলতা কমে।
সন্তানের মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন
- আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি সন্তানের শিক্ষা, লালন-পালন ও মানসিক অবস্থা বিবেচনা করা উচিত।
গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
- কোনোকিছু আবেগে করে ফেলা যাবে না—প্রতিটি ধাপ নথিভুক্ত করতে হবে।
- নোটিশ সংক্রান্ত কাগজপত্র, প্রাপ্তির স্বীকার, তালাক রেজিস্ট্রেশনের কপি—সবই সংরক্ষণ করুন।
- If both parties agree, mediation বা সমঝোতা প্রচেষ্টা অনেক সময় পরিবার রক্ষা করতে পারে।
- সামাজিক চাপে ভুল সিদ্ধান্ত নেবেন না—আইন যা বলে, সেটাই অনুসরণ করুন।
FAQ – সাধারণ নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও সংক্ষিপ্ত আইনি উত্তর
❓ ১. শুধু মুখে “তালাক” বললে কি তালাক হয়ে যায়?
✔ না।
MFLO 1961 এর Section 7 অনুযায়ী লিখিত নোটিশ ছাড়া তালাক আইনগত ভাবে বৈধ হয় না।
❓ ২. তালাক কার্যকর হতে কত দিন লাগে?
✔ নোটিশ দেওয়ার পর ৯০ দিন।
এই সময়ের আগে তালাক কার্যকর হয় না।
❓ ৩. স্ত্রী কি তালাক দিতে পারেন?
✔ হ্যাঁ, পারেন।
যদি কাবিননামায় “তাফওয়ীজ তালাক” থাকে অথবা 1939 সালের আইনে নির্ধারিত কারণ দেখিয়ে কোর্ট ডিভোর্স চাইতে পারেন।
❓ ৪. তালাকের পর দেনমোহর কি দিতে হবে?
✔ অবশ্যই দিতে হবে।
তালাক বৈধ হলে স্ত্রী বাকি দেনমোহরের সম্পূর্ণ পাওনাদার।
❓ ৫. তালাকের পর সন্তানের দায়িত্ব কার?
✔ সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব বাবা’র।
কাস্টডি (হেফাজত) শিশুর বয়স, নিরাপত্তা ও কল্যাণ দেখে আদালত নির্ধারণ করেন।
❓ ৬. নোটিশ দিলে কি স্ত্রীকে আলাদা করে জানানো লাগবে?
✔ হ্যাঁ।
চেয়ারম্যানকে নোটিশের পাশাপাশি স্ত্রীর ঠিকানায়ও নোটিশ পাঠানো বাধ্যতামূলক।
❓ ৭. স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে গেলে কি স্বামী তালাক দিতে পারবেন?
✔ হ্যাঁ পারবেন, তবে লিখিত নোটিশ, ৯০ দিনের অপেক্ষা ও সকল আইনি ধাপ মানতে হবে।
❓ ৮. স্বামীর নির্যাতনের প্রমাণ না থাকলে স্ত্রী কি কোর্ট ডিভোর্স পাবেন?
✔ আদালত সব সময় প্রমাণ বিবেচনা করেন।
তবে সাক্ষ্য, চিকিৎসা নথি, প্রতিবেশীর সাক্ষ্য বা পরিস্থিতিগত প্রমাণ আদালত গ্রহণ করতে পারে।
❓ ৯. তালাক নিবন্ধন (Registration) বাধ্যতামূলক কি?
✔ হ্যাঁ।
তালাক কার্যকর হওয়ার পর রেজিস্ট্রেশন না করলে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
❓ ১০. ইদ্দত চলাকালে কি উভয়েই পুনরায় এক হতে পারেন?
✔ হ্যাঁ পারেন, যদি তালাক رجعی (revocable) হয় এবং উভয় পক্ষ সম্মত থাকে।
উপসংহার
বিবাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও ধর্মীয় বন্ধন। কিন্তু সব বিবাহ সমান ভাবে সফল হয় না, এটি বাস্তবতা। তাই বিবাহ বিচ্ছেদ বা তালাককে আইন স্বীকৃত একটি সমাধানমূলক প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যাতে উভয় পক্ষই সম্মান বজায় রেখে পৃথক ভাবে জীবন শুরু করতে পারে।
এই আর্টিকেলে আমরা দেখেছি:
- তালাকের ক্ষেত্রে নোটিশ, ৯০ দিনের অপেক্ষা, আরবিট্রেশন বোর্ড, দেনমোহর, ইদ্দত, এবং নিবন্ধন, এসব ধাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- স্ত্রী ও স্বামী উভয়েরই তালাকের অধিকার রয়েছে, তবে পদ্ধতি ও শর্ত আলাদা।
- আদালত সব সময় ন্যায়বিচার, প্রমাণ এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয় গুলোকে প্রাধান্য দেয়।
- সঠিক আইনি ধাপ অনুসরণ করলে ভবিষ্যতে ভরণপোষণ, দেনমোহর, সন্তানের কাস্টডি, বা সম্পত্তি নিয়ে জটিলতা কমে যায়।
সবশেষে বলা যায়, তালাক কখনোই জীবনের শেষ নয়, বরং একটি নতুন শুরুর আইনি পথ।
যে কেউ তালাকের প্রয়োজন বোধ করলে আইনকে সম্মান করে, ধাপে ধাপে সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে নিজের অধিকার রক্ষা করতে পারবেন এবং অপ্রয়োজনীয় জটিলতা থেকেও রক্ষা পাবেন।