বাংলাদেশে পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্টের ধরন: Types of Partnership Agreement in Bangladesh
কোম্পানির পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্টের ধরন – কেন জানা গুরুত্বপূর্ণ?
বাংলাদেশে ব্যবসায়িক কার্যক্রম দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে, এবং উদ্যোক্তাদের মধ্যে পার্টনারশিপ ভিত্তিক ব্যবসা গঠন এখন বেশ জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। কারণ পার্টনারশিপ ব্যবসা শুরু করা তুলনামূলক সহজ, আনুষ্ঠানিকতার পরিমাণ কম, এবং একাধিক ব্যক্তির দক্ষতা, পুঁজি ও অভিজ্ঞতা এক জায়গায় একত্রিত হয়।
তবে ব্যবসা অংশীদারিত্বে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো,পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট বা অংশীদারিত্ব চুক্তি। এটি ব্যবসার “সংবিধান” হিসেবে কাজ করে। কোন পার্টনার কী দায়িত্ব পালন করবে, লাভ কীভাবে বণ্টন হবে, পার্টনার পরিবর্তন হলে কী হবে, ব্যবসা বন্ধ হলে সম্পত্তি কীভাবে ভাগ হবে, এসবই এই এগ্রিমেন্টে নির্ধারিত থাকে।
বাংলাদেশের Partnership Act, 1932–এর আওতায় পার্টনারশিপ সম্পর্কিত প্রায় সব নিয়মই নির্ধারিত। তবে বাস্তবে ব্যবসা সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত করতে হলে শুধু আইনের উপর নির্ভর না করে একটি সুস্পষ্ট, লিখিত ও বিশদ পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট থাকা অত্যন্ত জরুরি।
এই আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করব:
- পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্টের বিভিন্ন ধরন
- সম্পর্কিত প্রাসঙ্গিক আইনি কাঠামো
- আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি ও উদাহরণ
- নাগরিকদের করণীয়
- এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু সাধারণ প্রশ্নোত্তর
উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী বা সাধারণ নাগরিক, যে-ই হোন না কেন, যদি আপনি পার্টনার নিয়ে ব্যবসা শুরু করার কথা ভাবেন, তবে এই লেখাটি আপনার জন্য অপরিহার্য।
আইনি কাঠামো ও মূল ধারা
বাংলাদেশে পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্টের আইনি ভিত্তি
বাংলাদেশে পার্টনারশিপ ব্যবসা পরিচালনা ও এগ্রিমেন্টের আইনগত কাঠামো মূলত Partnership Act, 1932–এর উপর ভিত্তি করে গঠিত। এই আইনে পার্টনারশিপ কী, কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে, পার্টনারদের অধিকার–দায়িত্ব, লাভ বণ্টন, ব্যবসা বিলুপ্তি ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত বিধান রয়েছে।
পার্টনারশিপের সংজ্ঞা – Section 4
আইন অনুযায়ী পার্টনারশিপ হলো:
“Persons who have agreed to share the profits of a business carried on by all or any of them acting for all.”
অর্থাৎ, দুই বা ততোধিক ব্যক্তি লাভভাগের উদ্দেশ্যে যৌথভাবে ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে সম্মত হলে তা পার্টনারশিপ হিসেবে গণ্য হবে।
পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্টের ধরণ আইন অনুযায়ী
আইনে এগ্রিমেন্ট লিখিত হওয়া বাধ্যতামূলক নয়; মৌখিক, লিখিত বা আচারগত (implied) যেকোনো চুক্তিই বৈধ। তবে বাস্তব প্রয়োজনে লিখিত এগ্রিমেন্টই অধিক নিরাপদ।
আইন অনুযায়ী সাধারণত তিন ধরনের এগ্রিমেন্ট প্রচলিত:
ক. General Partnership Agreement
এটি সবচেয়ে প্রচলিত ধরন। সব পার্টনার সমানভাবে দায়িত্ব পালন ও লাভে অংশগ্রহণ করে।
(Partnership Act-এর সাধারণ বিধান প্রযোজ্য)
খ. Limited Partnership Agreement
এক্ষেত্রে কিছু পার্টনার পুঁজি দেয়, কিন্তু ব্যবসার ব্যবস্থাপনায় অংশ নেয় না।
(বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক Limited Partnership Act নেই, তবে পার্টনারদের মধ্যে বিশেষ শর্তযুক্ত চুক্তির মাধ্যমে সীমিত ভূমিকা নির্ধারণ করা যায়)
গ. Partnership at Will (Section 7)
যে পার্টনারশিপে মেয়াদ বা সমাপ্তির সময় নির্ধারিত থাকে না।
কোনো পার্টনার লিখিত নোটিশ দিয়ে চাইলে যেকোনো সময় পার্টনারশিপ ভেঙে দিতে পারে।
ট্রেড লাইসেন্স কিভাবে করবেন, এ বিষয়ে আমাদের Law Doors ওয়েবসাইটে বিস্তারিত একটি নিবন্ধ রয়েছে, প্রয়োজন হলে পরে দেখে নিতে পারেন।
পার্টনারদের অধিকার – গুরুত্বপূর্ণ ধারা
Section 12 — Business participation
প্রত্যেক পার্টনার ব্যবসা পরিচালনায় অংশ নেওয়ার অধিকার রাখে।
Section 13 — Profit sharing & interest
লাভ সাধারণত সমানভাবে বণ্টিত হবে যদি না এগ্রিমেন্টে ভিন্ন নিয়ম থাকে।
Section 18 — Mutual Agency
প্রত্যেক পার্টনার পুরো ফার্মের এজেন্ট হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ একজন পার্টনারের সিদ্ধান্ত পুরো ফার্মকে আইনগতভাবে Bind করতে পারে।
পার্টনারদের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা
Section 25 — Unlimited liability
পার্টনারদের দায় সীমাহীন। অর্থাৎ ব্যবসায় লোকসান বা দেনা হলে ব্যক্তিগত সম্পত্তিও দায় হিসেবে ব্যবহার হতে পারে, যদি এগ্রিমেন্টে ভিন্ন ব্যবস্থা না থাকে।
পার্টনারশিপ রেজিস্ট্রেশন – Sections 58–72
বাংলাদেশে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক নয়, তবে রেজিস্ট্রেশন না করলে:
- পার্টনাররা নিজেদের অধিকার প্রয়োগ করতে মামলা করতে পারে না
- ফার্ম আদালতে দাবি উত্থাপন করতে পারে না
এ কারণে রেজিস্ট্রেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যবহারিক অবস্থায় পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট কীভাবে কার্যকর হয়?
পার্টনারশিপ সম্পর্কিত বিরোধ বাংলাদেশে খুব সাধারণ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়—সুস্পষ্ট এগ্রিমেন্ট না থাকা বা আইনি ধারা সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে পার্টনারদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। আদালতের রায়সমূহে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যা ব্যবসায় ও এগ্রিমেন্ট প্রস্তুতকারীদের জন্য শিক্ষণীয়।
এগ্রিমেন্ট লিখিত না থাকলেও চুক্তি বৈধ — আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি
বাংলাদেশে একটি সাধারণ ভুল ধারণা হলো পার্টনারশিপ লিখিত না হলে তা বৈধ নয়।
কিন্তু আদালত বারবার উল্লেখ করেছেন, Partnership Act অনুযায়ী মৌখিক এগ্রিমেন্টও বৈধ, যদি পক্ষরা লাভভাগ ও যৌথ ব্যবসা পরিচালনায় সম্মত থাকে।
উদাহরণ: একটি মামলায় দুই ব্যক্তি মৌখিকভাবে ব্যবসা শুরু করেন এবং লাভ ভাগাভাগি করেন। পরবর্তী সময়ে একজন দাবি করেন তিনি পার্টনার নন। আদালত তাদের আচরণ, লাভবণ্টন পদ্ধতি, এবং পারস্পরিক দায়িত্ব পালন দেখে সিদ্ধান্ত দেন, পার্টনারশিপ বাস্তবে প্রতিষ্ঠিত ছিল।
Mutual Agency প্রমাণিত হলে পার্টনারশিপ স্বীকৃত
আদালত সর্বদা খতিয়ে দেখে, একজন পার্টনার অন্যকে বা পুরো ফার্মকে বাইন্ড করেছেন কি না।
যদি একজন পার্টনার ফার্মের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয় এবং অন্যরা তা মেনে চলে, তাহলে Mutual Agency প্রতিষ্ঠিত ধরা হয়।
উদাহরণ: একটি ব্যবসায় একজন পার্টনার নিয়মিত ক্রেতা–সরবরাহকারীদের সঙ্গে চুক্তি করতেন। ফার্মের নাম ব্যবহার করতেন। অন্য পার্টনাররা এতে আপত্তি করেননি। আদালত বলেন—Mutual Agency প্রমাণিত, তাই তিনি পার্টনার হিসেবে গণ্য।
লাভ বণ্টন নিয়ে বিরোধ — এগ্রিমেন্টের গুরুত্ব
এগ্রিমেন্ট না থাকলে Section 13 অনুযায়ী লাভ সমানভাবে বণ্টন হবে।
কিন্তু বাস্তবে অনেকেই পুঁজি বেশি দেওয়ার কারণে বেশি লাভের দাবি করেন।
উদাহরণ: এক ফার্মে একজন পার্টনার 70% পুঁজি দেন এবং অন্যজন 30% দেন। এগ্রিমেন্ট ছিল না। বিরোধ সৃষ্টি হলে আদালত আইন অনুযায়ী ৫০–৫০ ভিত্তিতে লাভ ভাগ করতে বলেন।
এটি দেখায়, এগ্রিমেন্ট না থাকলে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
রেজিস্ট্রেশন না থাকলে আদালতে দাবি করা যাবে না
একাধিক মামলায় দেখা গেছে, ফার্ম রেজিস্টার্ড না থাকায় পার্টনাররা আদালতে নিজেদের অধিকার দাবি করতে পারেননি।
উদাহরণ: এক পার্টনার অন্য পার্টনারের বিরুদ্ধে বকেয়া পাওনা দাবি করেন। কিন্তু ফার্ম রেজিস্টার্ড না থাকায় আদালত মামলা গ্রহণ করেননি।
রেজিস্ট্রেশন না করলে Partnership Act-এর Sections 69 অনুযায়ী ফার্ম বা পার্টনার কোনো দাবি আদালতে enforce করতে পারে না।

পার্টনারের মৃত্যু বা বিচ্ছেদ — আদালতের স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি
যদি এগ্রিমেন্টে ভিন্নভাবে উল্লেখ না থাকে, তাহলে পার্টনারের মৃত্যু হলে পুরো ফার্ম dissolve হয়ে যায় (আইনের সাধারণ বিধান অনুসারে)।
আদালত এ নীতি বারবার পুনর্ব্যক্ত করেছেন
নাগরিকদের করণীয় ও পরামর্শ
পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট করার আগে ও পরে কীভাবে আইন অনুসরণ করবেন
বাংলাদেশে পার্টনারশিপ ব্যবসা শুরু করতে চাইলে সঠিক আইনগত প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। অনেক পার্টনারশিপ ভেঙে যায় বা বিরোধ সৃষ্টি হয় শুধুমাত্র একটি সুস্পষ্ট, লিখিত এবং বৈধ এগ্রিমেন্ট না থাকার কারণে। নিচে সাধারণ নাগরিকদের জন্য ধাপে ধাপে পরামর্শ দেওয়া হলো:
একটি লিখিত পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট তৈরি করুন
যদিও আইন অনুযায়ী মৌখিক চুক্তিও বৈধ, কিন্তু লিখিত এগ্রিমেন্ট না থাকলে ভবিষ্যতে প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এগ্রিমেন্টে অবশ্যই উল্লেখ থাকবে:
- পুঁজি বিনিয়োগ
- লাভ–লোকসান বণ্টনের নিয়ম
- পার্টনারদের ভূমিকা ও দায়িত্ব
- ব্যবসার প্রকৃতি
- ব্যবস্থাপনা কাঠামো
- পার্টনার যোগ–বিয়োগের নিয়ম
- বিরোধ নিষ্পত্তির পদ্ধতি
- ব্যবসা বন্ধ হলে সম্পত্তি বণ্টন
পার্টনারশিপ রেজিস্ট্রেশন করান
রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক না হলেও ব্যবহারিকভাবে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
রেজিস্ট্রেশন না করলে:
- আদালতে দাবি enforce করতে পারবেন না
- পার্টনারদের অধিকার সীমিত হয়ে যায়
- ব্যবসায়িক নিরাপত্তা কমে যায়
যেখানে রেজিস্ট্রেশন করা হয়:
Joint Stock Companies & Firms (RJSC)
প্রতিটি আর্থিক লেনদেনের লিখিত রেকর্ড রাখুন
পার্টনারশিপে আর্থিক লেনদেন হলো সবচেয়ে সংবেদনশীল ক্ষেত্র।
তাই:
- Bank transaction ব্যবহার করুন
- ক্যাশ লেনদেন হলে রসিদ রাখুন
- হিসাববই (ledger) বজায় রাখুন
- বছরে একবার অডিট করান
এগুলো বিরোধের ক্ষেত্রে শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।
পার্টনার নির্বাচন করুন সতর্কতার সঙ্গে
পার্টনার নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।
পার্টনার ideally হওয়া উচিত:
- বিশ্বস্ত
- একই ব্যবসা-দৃষ্টিভঙ্গিযুক্ত
- আর্থিকভাবে সক্ষম
- সিদ্ধান্ত গ্রহণে দায়িত্বশীল
“পারিবারিক সম্পর্ক” মানেই “ভালো পার্টনার”,এটি সবসময় সত্য নয়।
এগ্রিমেন্টে স্পষ্টভাবে Exit Plan রাখুন
পার্টনার ব্যবসা ছাড়তে চাইলে কীভাবে ছাড়বে, তা শুরু থেকেই নির্ধারণ করা জরুরি।
- নোটিশের মেয়াদ
- পুঁজি ফেরত দেওয়ার নিয়ম
- Goodwill কীভাবে গণনা হবে
- ব্যবসার সম্পত্তির মূল্যায়ন পদ্ধতি
এগুলো এগ্রিমেন্টে না থাকলে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে।
আইনজীবীর পরামর্শ নিন
পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট একটি আইনি নথি।
সুতরাং: বিদগ্ধ অ্যাডভোকেটের মাধ্যমে এগ্রিমেন্ট তৈরি করলে ভবিষ্যতের ঝুঁকি কমে যায়।
কোম্পানির পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট সম্পর্কে সাধারণ নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর
পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট কি লিখিত হওয়া বাধ্যতামূলক?
উত্তর: না, আইন অনুযায়ী (Partnership Act, 1932) মৌখিক এগ্রিমেন্টও বৈধ। তবে লিখিত এগ্রিমেন্ট না থাকলে প্রমাণের সমস্যা হয় এবং বিরোধ বেশি সৃষ্টি হয়। তাই বাস্তবে লিখিত এগ্রিমেন্টই সবচেয়ে নিরাপদ।
পার্টনারশিপ রেজিস্ট্রেশন না করালে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে?
উত্তর: রেজিস্ট্রেশন না করলে Section 69 অনুযায়ী ফার্ম বা কোনো পার্টনার আদালতে দাবি enforce করতে পারে না। অর্থাৎ মামলা করে পাওনা আদায় বা অধিকার দাবি করা প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়।
লাভ–লোকসান কীভাবে ভাগ হবে?
উত্তর: এগ্রিমেন্টে উল্লেখ না থাকলে Section 13 অনুযায়ী লাভ সমানভাবে বণ্টিত হবে। পুঁজি কে কত দিয়েছে তা বিবেচনা করা হয় না, যদি এগ্রিমেন্টে ভিন্ন শর্ত না থাকে।
একজন পার্টনার ব্যবসা ছেড়ে যেতে চাইলে কীভাবে যাবে?
উত্তর: যদি এগ্রিমেন্টে মেয়াদ বা শর্ত উল্লেখ না থাকে তাহলে এটি “Partnership at Will” ধরা হয়। এ ক্ষেত্রে Section 43 অনুযায়ী সেই পার্টনার লিখিত নোটিশ দিয়ে যেকোনো সময় ব্যবসা ছাড়তে পারে।
পার্টনার মারা গেলে ব্যবসা কি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়?
উত্তর: হ্যাঁ,যদি এগ্রিমেন্টে ভিন্নভাবে উল্লেখ না থাকে। সাধারণ আইনি নীতি অনুযায়ী একজন পার্টনারের মৃত্যু হলে পুরো ফার্ম dissolve হয়ে যায়।
Limited Partnership কি বাংলাদেশে আইনগতভাবে স্বীকৃত?
উত্তর: বাংলাদেশে আলাদা Limited Partnership Act নেই। তবে পার্টনারদের মধ্যে বিশেষ শর্তযুক্ত লিখিত এগ্রিমেন্টের মাধ্যমে কেউ চাইলে সীমিত ভূমিকা বা দায় নির্ধারণ করতে পারে।
পার্টনারশিপে কি ব্যক্তিগত সম্পত্তি ঝুঁকিতে পড়ে?
উত্তর: হ্যাঁ, Section 25 অনুযায়ী পার্টনারদের দায় সীমাহীন। ব্যবসা লোকসান বা দেনায় পড়লে ব্যক্তিগত সম্পত্তিও দায় পরিশোধে ব্যবহার হতে পারে, যদি চুক্তিতে ভিন্ন শর্ত না থাকে।
পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্টে কোন কোন বিষয় অবশ্যই থাকা উচিত?
উত্তর:
- পুঁজি বিনিয়োগ
- ব্যবস্থাপনা দায়িত্ব
- লাভ–লোকসান বণ্টন
- Exit plan
- বিরোধ নিষ্পত্তির নিয়ম
- পার্টনার যোগ-বিয়োগের শর্ত
- ব্যবসার উদ্দেশ্য ও প্রকৃতি
দুইজন বন্ধু কি পার্টনারশিপ ব্যবসা করতে পারে?
উত্তর: হ্যাঁ, অবশ্যই। আইন অনুযায়ী দুই বা ততোধিক ব্যক্তি লাভভাগের উদ্দেশ্যে যৌথ ব্যবসা শুরু করলে তা পার্টনারশিপ হিসেবে গণ্য হবে। তবে বন্ধুত্ব থাকলেও লিখিত এগ্রিমেন্ট জরুরি।
পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্টে স্ট্যাম্প ও রেজিস্ট্রি প্রয়োজন আছে কি?
উত্তর: স্ট্যাম্প চুক্তির মান্যতা বাড়ায়, তবে রেজিস্ট্রি বাধ্যতামূলক নয়। তবে RJSC-তে রেজিস্ট্রেশন করালে আইনি সুবিধা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে।
উপসংহার
বাংলাদেশে পার্টনারশিপ ব্যবসা উদ্যোক্তাদের জন্য একটি সহজ ও কার্যকর কাঠামো। তবে এই কাঠামো তখনই নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী হয়, যখন ব্যবসায়িক সম্পর্ক আইনসম্মত নথির মাধ্যমে সুসংহত থাকে। একটি পরিষ্কার ও লিখিত পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট ব্যবসার স্বচ্ছতা, পার্টনারদের অধিকার–দায়িত্ব, লাভ–লোকসান বণ্টন এবং বিরোধ নিষ্পত্তির পথ নির্ধারণ করে দেয়।
Partnership Act, 1932 স্পষ্টভাবে বলে দেয় যে পার্টনাররা একে অপরের এজেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং তাদের দায় সীমাহীন, এ কারণে বৈধ এগ্রিমেন্টের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।
এছাড়া রেজিস্ট্রেশন না থাকলে পার্টনাররা আদালতে দাবি enforce করতে না পারায় বড় ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারেন।
সবশেষে বলা যায়:
- সুস্পষ্ট এগ্রিমেন্ট
- সঠিক পার্টনার নির্বাচন
- নিয়মিত আর্থিক রেকর্ড
- এবং আইনজীবীর পরামর্শ
এই চারটি বিষয় একটি পার্টনারশিপ ব্যবসাকে দীর্ঘস্থায়ী, নিরাপদ ও আইনি সুরক্ষিত রাখে।