আদালতের সমন পেলে কী করবেন | সমন পাওয়ার পর আইনি করণীয়
আদালতের সমন বা Summon হলো আদালত কর্তৃক প্রদত্ত একটি আনুষ্ঠানিক নোটিশ, যার মাধ্যমে কাউকে নির্দিষ্ট তারিখে আদালতে হাজির হতে বা নির্দিষ্ট নথি/ব্যাখ্যা উপস্থাপন করতে বলা হয়। সাধারণত দেওয়ানি, ফৌজদারি অথবা পারিবারিক মামলায় পক্ষগুলোকে উপস্থিত করার জন্যই এই সমন প্রদান করা হয়।
বাংলাদেশে অনেক নাগরিক সমন পাওয়ার পর ভয়, দুশ্চিন্তা বা বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে যান:
- “আমি কি অভিযুক্ত?”
- “এটা কি মামলা হয়ে গেছে?”
- “হাজির না হলে কী হবে?”
- “কী কাগজপত্র নিয়ে যেতে হবে?”
এ ধরনের প্রশ্ন খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু সমন পাওয়া মানেই দোষী হওয়া নয়। সমন কেবল আদালতের উপস্থিতির নির্দেশ, যাতে মামলাটি যথাযথভাবে বিচার প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যেতে পারে।
কেন এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ?
- আদালতে অনুপস্থিত থাকলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (Warrant) জারি হতে পারে।
- নিজের অধিকার রক্ষার জন্য সঠিক সময়ে প্রতিক্রিয়া দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
- অনেক সময় ভুল ঠিকানা বা ভুল ব্যক্তির নামে সমন যায়,এ ক্ষেত্রেও আইনি পদক্ষেপ জানা প্রয়োজন।
- একজন সাধারণ নাগরিক কীভাবে আইন অনুযায়ী সঠিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন, সেটি জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই আর্টিকেলে আপনি যা জানবেন
এই ধারাবাহিক আর্টিকেলের মাধ্যমে আলোচনা করা হবে:
- আদালতের সমনের আইনি কাঠামো
- কোন ধারায় কী ধরনের সমন দেওয়া হয়
- বাস্তব উদাহরণ ও আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি
- নাগরিকদের করণীয়
- বং শেষে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
এটি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও আদালতের বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে প্রণীত।
বাংলাদেশে আদালতের সমন (Summon) কোন আইনে নিয়ন্ত্রিত?
আদালতের সমন বা Summon জারি ও কার্যকর করার নিয়ম বাংলাদেশে মূলত দুইটি আইনের আওতায় পড়ে:
- দেওয়ানি কার্যবিধি (Code of Civil Procedure – CPC), 1908
- দণ্ডবিধি কার্যবিধি (Code of Criminal Procedure – CrPC), 1898
এছাড়াও কিছু বিশেষ আইনে Summon জারির বিধান রয়েছে। নিচে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনসমূহ তুলে ধরা হলো।
দেওয়ানি মামলা (Civil Case) – CPC অনুযায়ী সমন
দেওয়ানি মামলায় সমন জারি সাধারণত Order V এর আওতায় হয়।
CPC Order V: Summons
Order V ধারায় উল্লেখ রয়েছে:
- বিবাদীকে মামলার কপি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি সরবরাহ করতে হবে।
- নির্দিষ্ট তারিখে আদালতে হাজির হতে হবে।
Summon সঠিকভাবে তামিল (serve) না হলে মামলার কার্যকর বিচার ব্যাহত হতে পারে।
কী কারণে দেওয়ানি সমন দেওয়া হয়?
- জমি–সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ
- টাকা-পয়সার দাবি
- চুক্তি ভঙ্গ
পারিবারিক/ব্যক্তিগত দাবিনামা
ফৌজদারি মামলা (Criminal Case) – CrPC অনুযায়ী সমন
ফৌজদারি মামলায় সমন জারি হয় CrPC এর 61 থেকে 90 ধারা পর্যন্ত বিভিন্ন ধারার মাধ্যমে।
CrPC ধারা 62–69: সমন সার্ভ করার নিয়ম
- সমন সাধারণত পুলিশ বা আদালতের কর্মচারী তামিল করে।
- সমন হাতে তুলে দেওয়া (personal service) সবচেয়ে প্রাধান্য পায়।
- অনুপস্থিত থাকলে পরিবারের সদস্য বা বাড়ির প্রাপ্তবয়স্ক কাউকে দেওয়া যেতে পারে (ধারা 64)।
অভিযুক্ত ব্যক্তির উপস্থিতি নিশ্চিত না হলে পরবর্তীতে Warrant জারি করা যেতে পারে (ধারা 90)।
সমন কারা পায়?
- অভিযোগকারী (Complainant)
- আসামি (Accused)
- সাক্ষী (Witness)
সমন পাওয়া মানেই আসামি হওয়া নয়, অনেক সময় সাক্ষী হিসেবেও সমন দেওয়া হয়।

সমন গ্রহণে অবহেলা করলে কী হয়?
আইন অনুযায়ী সমন উপেক্ষা করা বা আদালতে অনুপস্থিত থাকার ফলাফল:
দেওয়ানি মামলায় (CPC)
- আদালত ex-parte decree দিতে পারে (আপনার অনুপস্থিতিতে রায়)।
ফৌজদারি মামলায় (CrPC)
- আপনার বিরুদ্ধে Warrant of Arrest জারি হতে পারে।
জরিমানা বা আদালতের অবমাননার অভিযোগ হতে পারে।
বিশেষ পরিস্থিতিতে সমন
কিছু বিশেষ আইনেসমন এর আলাদা বিধান রয়েছে:
- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন
- বিশেষ ক্ষমতা আইন
- Cyebr Crime মামলায় Digital Evidence Summon
ইত্যাদি।
পুলিশি হয়রানি হলে করণীয়: এ বিষয়ে আমাদের Law Doors ওয়েবসাইটে বিস্তারিত একটি নিবন্ধ রয়েছে, প্রয়োজন হলে পরে দেখে নিতে পারেন।
সমন পাওয়ার পর সাধারণত আদালত কীভাবে বিষয়টি বিবেচনা করে?
আদালতের দৃষ্টিতে সমন হলো বিচার প্রক্রিয়ার একটি অপরিহার্য অংশ।সমন সঠিকভাবে তামিল করা হলে আদালত ধরে নেয়:
- সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বিষয়টি জেনে গেছেন
- হাজির হওয়ার দায়িত্ব তাঁর
এখন বাস্তব উদাহরণসহ বিষয়টি পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করা হলো।
উদাহরণ–১: দেওয়ানি মামলা (জমি-বাড়ি নিয়ে বিরোধ)
পরিস্থিতি: একজন ব্যক্তি জমি বণ্টন নিয়ে পরিবারে বিরোধের কারণে দেওয়ানি আদালত থেকে সমনপেলেন।
আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি:
- সমন সঠিকভাবে সার্ভ হলে বিবাদীকে Order V CPC অনুযায়ী উপস্থিত হতে বলা হয়।
- হাজির না হলে আদালত ধরে নেন যে সমন যথাযথভাবে পাওয়া গেছে এবং প্রয়োজন হলে Ex-parte hearing শুরু হয়।
- পরবর্তী ধাপে বাদীপক্ষ একতরফাভাবে প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারে।
বাস্তব ফলাফল: অভিযোগের বিচার তার অনুপস্থিতিতেই হতে পারে এবং রায় সম্পূর্ণ বাদীপক্ষের পক্ষে চলে যেতে পারে।
উদাহরণ–২: ফৌজদারি সমন (সাধারণ মারামারি মামলা – 323/341 IPC)
পরিস্থিতি:
একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবেশী মারামারি অভিযোগ করলে আদালত সমন জারি করে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়।
আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি:
- সমন সার্ভ হওয়ার পর আদালত ধারা 62–69 CrPC অনুযায়ী নিশ্চিত হয় সমন সঠিকভাবে পাওয়া গেছে কি না।
- হাজির না হলে পরবর্তী ধাপে Bailable warrant, এরপর Non-bailable warrant জারি হতে পারে।
বাস্তব ফলাফল: হাজির না থাকার কারণে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ঝুঁকি থাকে।
উদাহরণ–৩: সাক্ষী হিসেবে সমন
পরিস্থিতি: একজন নিরীহ পথচারী একটি দুর্ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন, তাই তাঁকে সাক্ষী হিসেবে Summon পাঠানো হয়েছে।
আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি:
- সমন পাওয়া মানেই অপরাধী হওয়া নয়; বরং নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে আদালত সাক্ষ্য গ্রহণে তাঁকে প্রয়োজন মনে করে।
- সাক্ষী হাজির না হলে CrPC 174 ধারায় ব্যাখ্যা চাইতে পারে বা জরিমানা দিতে হতে পারে।
বাস্তব ফলাফল: আদালতে উপস্থিত হলে শুধু সত্য বলাই তাঁর মূল দায়িত্ব।
উদাহরণ–৪: ভুল ব্যক্তির নামে সমন
পরিস্থিতি:
একই নামের জন্য ভুল করে অন্য ব্যক্তির ঠিকানায় সমন গেছে।
আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি:
- প্রমাণ দিলে আদালত ভুল সমন প্রত্যাহার করে।
- সঠিক ব্যক্তিকে সমন জারি হয়।
বাস্তব ফলাফল: ভুল সমন পাওয়া ব্যক্তি আইনি ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকেন।
সার্বিকভাবে আদালতের অবস্থান
আদালত সমন-কে একটি দায়িত্বপূর্ণ নোটিশ হিসেবে দেখে।সমন উপেক্ষা করলে আদালত কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়, কারণ সমন ছাড়া আইনগত প্রক্রিয়া এগোতে পারে না।
নাগরিকদের করণীয় ও পরামর্শ
আদালতের সমন (Summon) পাওয়া মাত্র নাগরিক হিসেবে কী করবেন?
সমন পাওয়া মাত্র ভয় পাওয়ার কিছু নেই,বরং আইন অনুযায়ী সঠিক পদক্ষেপ নিলে যেকোনো পরিস্থিতি সহজে মোকাবিলা করা যায়। নিচে ধাপে ধাপে করণীয় আলোচনা করা হলো।
প্রথমেই সমন-এর সত্যতা যাচাই করুন
সমন কি সত্যিই আদালত থেকে এসেছে? তা নিশ্চিত হন।
যা দেখে বোঝা যাবে সমন আসল:
- আদালতের নাম
- মামলা নম্বর (Case No.)
- বাদী/আসামির নাম
- হাজিরার তারিখ
- পেশকার/নাজিরের সাক্ষর
- সিলমোহর
যদি সন্দেহ থাকে আদালতের Cause List বা Bench Assistant-এর মাধ্যমে যাচাই করা যায়।
সমন -এ কেন ডাকা হয়েছে তা বুঝে নিন
সমন সাধারণত তিন কারণে আসে:
- বিবাদী হিসেবে
- সাক্ষী হিসেবে
- নথি/প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য
সমন-এর নিচে স্পষ্ট উল্লেখ থাকে আপনি কোন ভূমিকায় ডাকা হয়েছেন। ভুল বুঝলে অযথা উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।
একজন অভিজ্ঞ অ্যাডভোকেটের সঙ্গে যোগাযোগ করুন
আপনি সমন পাওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব একজন আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করুন। তিনি:
- সমন বিশ্লেষণ করবেন
- আপনার ভূমিকা বুঝিয়ে দেবেন
- আদালতে উপস্থিতির প্রস্তুতি নেবেন
- প্রয়োজনীয় নথি সাজাতে সাহায্য করবেন
এটি সমন মোকাবিলার সবচেয়ে নিরাপদ ও প্রফেশনাল পদ্ধতি।
নির্দিষ্ট তারিখে আদালতে হাজির হোন
আইন অনুযায়ী সমন উপেক্ষা করলে সমস্যার সৃষ্টি হয়। তাই:
- সময়মতো হাজিরা দিন
- অ্যাডভোকেট থাকলে তিনি হজিরা পেশ করবেন
- আপনার উপস্থিতি আদালতে রেকর্ড হবে
উপস্থিত না হলে:
- দেওয়ানি মামলায় একতরফা রায় হতে পারে
ফৌজদারি মামলায় Warrant জারি হতে পারে
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে নিন
Summon অনুযায়ী নথি লাগতে পারে:
- জাতীয় পরিচয়পত্র
- Summon কপি
- সংশ্লিষ্ট নথি (চুক্তিপত্র, কাগজ-পত্র, রসিদ, ডকুমেন্ট)
- অ্যাডভোকেটের ভকার (Vakalatnama)
মামলার ধরন অনুযায়ী আপনার অ্যাডভোকেট কোন নথি লাগবে তা ঠিক করবেন।
যদি সমন ভুল ব্যক্তির নামে হয়
এক্ষেত্রে:
- আদালতকে অবহিত করুন
- প্রয়োজন হলে অ্যাফিডেভিট দিন
- ভুল সমন বাতিল হবে
এতে আপনার বিরুদ্ধে কোনো জটিলতা সৃষ্টি হবে না।
আপনি যদি হাজিরা দিতে না পারেন
সঙ্গত কারণ থাকলে:
- অ্যাডভোকেটের মাধ্যমে “Time Petition” বা “Adjournment Application” দেয়া যায়
- চিকিৎসা বা জরুরি পরিস্থিতিতে মেডিকেল সনদ যুক্ত করা হয়
আদালত প্রমাণ দেখে সময় দিতে পারে।
সংক্ষেপে মূল পরামর্শ
- সমন পেলে দেরি নয়, দ্রুত আইনজীবীর সহায়তা নিন
- সমন এ দেওয়া তারিখ মিস করবেন না
- সঠিক নথি সঙ্গে রাখুন
- কোনো পরিস্থিতিতে পালিয়ে না বেড়ান, আইনি পথে সামনাসামনি সমাধান করুন
আদালতের সমন (Summon) সম্পর্কিত সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বেশি করা প্রশ্ন ও সংক্ষিপ্ত, স্পষ্ট আইনি ভিত্তিক উত্তর নিচে দেওয়া হলো:
সমনপাওয়া মানে কি আমি আসামি?
উত্তর: সবসময় নয়।সমন তিন ধরনের হতে পারে:
- আসামি হিসেবে,
- সাক্ষী হিসেবে,
ডকুমেন্ট জমা দেওয়ার জন্য।
সমন -এ স্পষ্ট উল্লেখ থাকে আপনি কোন ভূমিকায় ডাকা হয়েছেন।
সমন না গেলে কি গ্রেপ্তার করা হবে?
উত্তর: ফৌজদারি সমন উপেক্ষা করলে CrPC এর আওতায় প্রথমে Bailable Warrant, পরে Non-bailable Warrant জারি হতে পারে।
দেওয়ানি সমন উপেক্ষা করলে Ex-parte রায় হতে পারে।
সমন ভুলবশত আমার নামে এসেছে—এ অবস্থায় কী করব?
উত্তর: আদালতকে লিখিতভাবে জানাতে হবে যে আপনি সেই ব্যক্তি নন। প্রমাণ দিলে আদালত সমন বাতিল করবে এবং সঠিক ব্যক্তিকে সমন পাঠানো হবে।
আমি যদি নির্ধারিত তারিখে হাজির হতে না পারি?
উত্তর: বৈধ কারণে (যেমন: অসুস্থতা) হাজির হতে না পারলে অ্যাডভোকেটের মাধ্যমে Time Petition/Adjournment Application দেওয়া যায়।
প্রয়োজনে মেডিকেল সার্টিফিকেট যুক্ত করতে হয়।
সমন পাওয়ার পর কি আইনজীবী বাধ্যতামূলক?
উত্তর: সাক্ষীর সমন হলে আইনজীবী না নিলেও হয়।
কিন্তু দেওয়ানি বা ফৌজদারি সমন হলে নিজের নিরাপত্তা ও সঠিক আইনি পদক্ষেপের জন্য অভিজ্ঞ অ্যাডভোকেট নেওয়াই উত্তম।
সমন কি পুলিশের মাধ্যমে আসতেই হবে?
উত্তর: সাধারণত পুলিশ বা আদালতের নাজির তামিল করে। তবে কিছু ক্ষেত্রে ডাক বিভাগের মাধ্যমে বা মেইল সার্ভিস দিয়েও পাঠানো হতে পারে (CrPC 69 অনুযায়ী)।
সমন হাতে না পেলেও কি সেটি কার্যকর হয়?
উত্তর: হ্যাঁ, যদি সমন পরিবারের কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যকে দেওয়া হয় বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সার্ভ করা হয়, সেটিও আইনগতভাবে বৈধ (CrPC 64 অনুযায়ী)।
সমন পাওয়ার পর প্রথমে কী করা উচিত?
উত্তর: সমন -এর সত্যতা যাচাই করে দ্রুত একজন আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। কারণ সমন-এর উদ্দেশ্য, তারিখ এবং প্রয়োজনীয় নথি বুঝে নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি।
উপসংহার
আদালতের সমন (Summon) পাওয়া অনেকের কাছেই আতঙ্কের বিষয় মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে সমন হলো আদালতের একটি আনুষ্ঠানিক নোটিশ, যার উদ্দেশ্য শুধু আপনাকে আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে জানানো এবং উপস্থিত হওয়া নিশ্চিত করা। সমন পাওয়া মানেই আপনি অপরাধী এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। বরং এটা একটি আইনগত সুযোগ, যাতে আপনি নিজের অবস্থান আদালতে তুলে ধরতে পারেন।
সমন উপেক্ষা করলে সমস্যার সৃষ্টি হয়:
- দেওয়ানি মামলায় একতরফা রায়,
- ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা,
- সাক্ষী হিসেবে সমন পেলে জরিমানা বা ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ
- এসবই আইনে উল্লেখ আছে।
তাই সমন পাওয়া মাত্রই সঠিক আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া,সমন বিশ্লেষণ করা এবং নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজির হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।
একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে সমন পাওয়া মানে দায়িত্বশীলভাবে আদালতের নির্দেশ পালন করা, এটাই আইনের প্রতি সম্মান ও নিজের অধিকার রক্ষার সর্বোত্তম পথ।