আদালতে মামলা ফাইল করার খরচ ও প্রক্রিয়া

আদালতে মামলা ফাইল করার খরচ ও প্রক্রিয়া | বাংলাদেশি আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ গাইড

বাংলাদেশে বিচারপ্রার্থীর সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে, কিন্তু অনেক সাধারণ মানুষ এখনো জানেন না, একটি মামলা আদালতে ফাইল করতে আসলে কী কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয় এবং এর জন্য আনুমানিক কত টাকা খরচ হতে পারে। এই অজ্ঞতার কারণে অনেকেই ভয়ের কারণে আদালতের দরজায় যেতে সাহস পান না, কিংবা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে ভোগান্তিতে পড়েন।

মামলা ফাইল করা একটি আইনি অধিকার, যা সংবিধানের ৭ম অংশে বিচারিক প্রতিকার লাভের নিশ্চয়তা প্রদান করে। তবে সঠিক প্রক্রিয়া না জানলে মামলা দেরি হওয়া, খরচ বাড়া বা মামলাটি গ্রহণযোগ্য না হওয়ার মতো ঝামেলায় পড়তে হয়।

এই আর্টিকেলের মাধ্যমে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হবে:

  • কোন ধরনের মামলায় কী পরিমাণ খরচ হতে পারে
  • মামলা ফাইল করতে কী কী কাগজপত্র প্রয়োজন
  • কোর্ট-ফি, স্ট্যাম্প, ভ্যাট ও অন্যান্য চার্জ কত
  • কোথায়, কিভাবে এবং কোন ধাপে মামলা রেজিস্টার হয়
  • সাধারণ মানুষের জানা উচিত এমন বাস্তব নির্দেশনা

উদ্দেশ্য হলো, একজন সাধারণ বিচারপ্রার্থী যেন পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারেন, আদালতে মামলা ফাইল করার পুরো প্রক্রিয়া কী, কোথায় খরচ হয় এবং কীভাবে আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

আইনি কাঠামো ও মূল ধারা – মামলা ফাইল করার আইনগত ভিত্তি

আদালতে মামলা ফাইল করার পুরো প্রক্রিয়া বাংলাদেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। মামলার ধরন অনুযায়ী আইন ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু মূল কাঠামো সর্বত্র প্রায় একই।

সিভিল মামলা (দেওয়ানি মামলা) – Civil Procedure Code, 1908 (CPC)

দেওয়ানি মামলার ফাইলিং প্রক্রিয়া ও আদালত পরিচালনার সম্পূর্ণ কাঠামো CPC অনুযায়ী পরিচালিত হয়।

CPC–তে উল্লেখযোগ্য ধারা:

  • Order VII Rule 1: Plaint বা মামলা দাখিলের প্রয়োজনীয় উপাদান
  • Section 26:দেওয়ানি মামলা কীভাবে শুরু হয়
  • Section 9: দেওয়ানি মামলার বিচারিক এখতিয়ার
  • Court Fees Act, 1870 অনুযায়ী কোর্ট-ফি প্রদান বাধ্যতামূলক

সিভিল মামলার ক্ষেত্রে মামলা মূল্যের (Value of Suit) উপর নির্ভর করে কোর্ট-ফি নির্ধারিত হয়।

ফৌজদারি মামলা – Code of Criminal Procedure, 1898 (CrPC)

ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্র দুটি মাধ্যমে মামলা শুরু হয়:

  • এফআইআর (FIR) – পুলিশ স্টেশনে
  • CR Case – আদালতে সরাসরি অভিযোগপত্র দাখিল

CrPC–র সংশ্লিষ্ট ধারা:

  • Section 154: এফআইআর গ্রহণ
  • Section 190: ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অভিযোগ গ্রহণ
  • Section 200–203: সাক্ষ্যগ্রহণ, তদন্তের নির্দেশ ও মামলা গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণ

ফৌজদারি মামলায় সাধারণত কোর্ট-ফি লাগে না, কিন্তু আবেদন/নকশা/সার্টিফাইড কপির জন্য নির্দিষ্ট ফি থাকে।

 কোর্ট-ফি সম্পর্কিত আইন – Court Fees Act, 1870

মামলা দাখিলের সময় যে সরকারি ফি প্রদান করতে হয় তাকে কোর্ট-ফি বলা হয়।
এটি নির্ভর করে:

  • মামলার ধরন
  • দাবি মূল্য
  • আদালতের স্তর

দেওয়ানি মামলায় কোর্ট-ফি বাধ্যতামূলক, তবে ফৌজদারি মামলায় সীমিত।

 স্ট্যাম্প আইন – Stamp Act, 1899

মামলার বিভিন্ন কাগজপত্র যেমন:

  • ভাকালতনামা (Vakalatnama)
  • হলফনামা (Affidavit)

এগ্রিমেন্ট, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি
এসবের জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যাম্প-ফি দিতে হয়।

 সংবিধানিক ভিত্তি

বাংলাদেশের সংবিধান বিচারপ্রাপ্তির অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

  • Article 31: আইনের আশ্রয় নেওয়ার অধিকার
  • Article 44: মৌলিক অধিকার রক্ষার প্রতিকার
  • Article 102: হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিলের আইনি কাঠামো

রিট পিটিশনের জন্য নির্দিষ্ট কোর্ট-ফি নেই, তবে নথি প্রস্তুত, অ্যাফিডেভিট ও অ্যাডভোকেট ফি থাকে।

সংশ্লিষ্ট আদালতসমূহ

নাগরিকের অভিযোগ কোন আদালতে যাবে তা নির্ভর করে:

  • মামলার প্রকৃতি
  • দাবি মূল্য
  • অপরাধের মাত্রা
  • আদালতের এখতিয়ার (Jurisdiction)

সাধারণত মামলা করা যায়:

  • সিভিল কোর্ট
  • চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত
  • হাইকোর্ট বিভাগ
  • শ্রম আদালত
  • পারিবারিক আদালত
  • ভূমি আদালত

বাস্তব উদাহরণ ও আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি

মামলা ফাইল করার খরচ ও প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশ কিছু ভুল ধারণা থাকে। বাস্তব অভিজ্ঞতা ও আদালতের ব্যাখ্যা বিষয়গুলো আরও পরিষ্কার করে।

বাস্তব উদাহরণ: সিভিল মামলার (দেওয়ানি মামলা) খরচ

ধরা যাক আপনি জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধে আছেন। আপনার দাবি মূল্য (Value of Suit) ধরা হলো ১০ লাখ টাকা।

এই ক্ষেত্রে খরচগুলো সাধারণত এরকম:

  • কোর্ট-ফি (Court Fee): মামলার মূল্য অনুযায়ী (শতাংশ ভিত্তিতে)
  • ভাকালতনামা স্ট্যাম্প: সাধারণত ১০–৫০ টাকা
  • অ্যাফিডেভিট স্ট্যাম্প: ৫০ টাকা
  • নকল কপি (Certified Copy): প্রতি কপিতে নির্দিষ্ট ফি
  • অ্যাডভোকেট ফি: আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারিত

আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি হলো, মামলা ফাইলের সময় কোর্ট-ফি প্রদানে কোনো অনিয়ম বা ঘাটতি থাকলে মামলাটি গ্রহণযোগ্য হবে না (CPC, Order VII Rule 11(b))।

ফৌজদারি মামলার বাস্তব উদাহরণ (CR Case)

 ফৌজদারি মামলার বাস্তব উদাহরণ (CR Case)

ধরা যাক আপনি প্রতারণার অভিযোগে আদালতে সরাসরি CR Case করতে চান।

প্রাথমিক খরচ:

  • আবেদন টাইপিং + প্রিন্টিং
  • অ্যাফিডেভিট স্ট্যাম্প
  • প্রসেস-ফি (সমন জারি করতে)
  • অ্যাডভোকেট ফি

আদালত প্রথমে অভিযোগকারীর জবানবন্দি গ্রহণ করে (CrPC Sec. 200), তারপর প্রাথমিক তদন্ত/শুনানি শেষে মামলা গ্রহণ করবে কি না সিদ্ধান্ত নেয়।

এক্ষেত্রে কোর্ট-ফি খুব কম, কিন্তু প্রসেস-ফি বাধ্যতামূলক।

আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি: মামলা যেন অযথা জটিল না হয়

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বারবার বলেছে:

“মামলা দায়েরের সময় প্রয়োজনীয় নথি, কোর্ট-ফি ও হলফনামা সঠিকভাবে দাখিল করা বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গতি নিশ্চিত করে।”

অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে: অসম্পূর্ণ নথি বা ভুল মূল্যায়নের কারণে মামলা বাতিল হয়েছে বা বহু বছর পরে সংশোধন করতে হয়েছে।

 রিট পিটিশনের উদাহরণ

কেউ যদি সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিট করতে চান, সাধারণত খরচ হয়:

  • অ্যাফিডেভিট
  • আবেদন প্রস্তুতি
  • নোটারি
  • অ্যাডভোকেট ফি
  • কাগজপত্র সংগ্রহ

হাইকোর্ট রিট পিটিশনে কোর্ট-ফি খুব কম রাখে যাতে নাগরিকরা মৌলিক অধিকার রক্ষায় আদালতে যেতে বাধাগ্রস্ত না হন।

আদালতের নির্দেশনা: খরচ যেন বাধা না হয়

আদালত বলেছে:

“বিচারপ্রাপ্তির অধিকার সংবিধানগত, তাই খরচকে বিচারপ্রার্থীর পথে বাধা হতে দেওয়া যায় না।”

যেসব ক্ষেত্রে দরিদ্র আবেদনকারী মামলা চালাতে অসমর্থ, তাদের জন্য দেওয়ানি কার্যবিধির Order XXXIII অনুযায়ী pauper suit বা দারিদ্র্যজনিত মামলা করার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোর্ট-ফি মওকুফ করা হয়।

নাগরিকদের করণীয় ও পরামর্শ

আদালতে মামলা ফাইল করা অনেকের কাছে জটিল মনে হলেও সঠিক প্রস্তুতি থাকলে প্রক্রিয়াটি সহজ হয়ে যায়। নিচে একে একে নাগরিক হিসেবে আপনার করণীয় ও যৌক্তিক আইনি পরামর্শ তুলে ধরা হলো:

 প্রয়োজনীয় নথি আগে থেকে প্রস্তুত রাখুন

মামলার ধরন অনুযায়ী প্রাথমিক নথিগুলো হলো:

  • জাতীয় পরিচয়পত্র
  • বিবাদী/অভিযুক্তের ঠিকানা
  • ঘটনার বিবরণ
  • জমি/সম্পত্তির কাগজপত্র (যদি সম্পত্তি মামলা হয়)
  • চুক্তিপত্র, রশিদ, প্রমাণপত্র
  • সাক্ষীর নাম-ঠিকানা

নথি অসম্পূর্ণ থাকলে মামলা গ্রহণে দেরি হয় অথবা আদালত সংশোধনের নির্দেশ দেয়।

মামলা ফাইলের আগে অ্যাডভোকেটের সঙ্গে পরামর্শ করুন

একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী:

  • কোর্ট-ফি ও স্ট্যাম্প ফি নির্ধারণে সাহায্য করেন
  • সঠিক আদালত নির্বাচন করেন (Jurisdiction)
  • মামলার শক্তি–দুর্বলতা ব্যাখ্যা করেন
  • প্রয়োজনীয় নথি তালিকা প্রস্তুত করেন
  • মামলা খসড়া (Plaint/Complaint) সঠিকভাবে তৈরি করেন

এতে সময়, খরচ ও ঝুঁকি, তিনটাই কমে।

কোর্ট-ফি ও অন্যান্য খরচ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নিন

মামলা করার আগেই জানতে হবে:

  • মামলার ধরন অনুযায়ী কত কোর্ট-ফি লাগবে
  • প্রসেস-ফি কত
  • অ্যাফিডেভিট স্ট্যাম্প কত
  • অ্যাডভোকেট ফি কীভাবে নির্ধারিত

এতে হঠাৎ অপ্রত্যাশিত খরচের মুখোমুখি হতে হয় না।

যে আদালতে মামলা করবেন তার এখতিয়ার যাচাই করুন

ভুল আদালতে মামলা করলে আদালত তা বাতিল করতে পারে (CPC Section 21)। তাই:

  • সম্পত্তির অবস্থান
  • বিবাদীর ঠিকানা
  • দাবি মূল্য,

এসবের ভিত্তিতে আদালত নির্ধারণ করা বাধ্যতামূলক।

 মামলা দাখিলের পর সমন গ্রহণ ও পরবর্তী তারিখে উপস্থিত থাকুন

মামলা করার পর যেসব কাজ গুরুত্বপূর্ণ:

  • প্রসেস-ফি জমা দিয়ে সমন জারি করানো
  • নির্ধারিত তারিখে হাজির হওয়া
  • প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ সময়মতো জমা দেওয়া
  • কোর্টের নির্দেশনা অনুসরণ করা

অনুপস্থিত থাকলে মামলা খারিজ হতে পারে (CPC Order IX Rule 5 & 8)।

আদালতের সমন পেলে কী করবেন, এ বিষয়ে আমাদের Law Doors ওয়েবসাইটে বিস্তারিত একটি নিবন্ধ রয়েছে, প্রয়োজন হলে পরে দেখে নিতে পারেন।

অযথা দেরি করবেন না

কোনো মামলার ধরন অনুযায়ী Limitation Act, 1908-এ সময়সীমা নির্ধারিত। সময় পেরিয়ে গেলে মামলা গ্রহণযোগ্য হবে না। তাই ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে আদালতের আশ্রয় নেওয়া উত্তম।

 দরিদ্র হলে ‘পাউপার স্যুট’ করতে পারেন

যদি কোর্ট-ফি দেওয়ার সামর্থ্য না থাকে, তাহলে:

  • Order XXXIII (CPC) অনুযায়ী দারিদ্র্যজনিত অবস্থা প্রমাণ করে
  • কোর্ট-ফি ছাড় (Exemption) পাওয়া যায়

এটি বিচারপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করে।

নিচে সাধারণ নাগরিকদের দৃষ্টিকোণ থেকে সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন এবং সংক্ষিপ্ত, স্পষ্ট ও আইনভিত্তিক উত্তর দেওয়া হলো:

প্রশ্ন: মামলা করতে কি অনেক টাকা লাগে?

উত্তর: না। মামলার ধরণ অনুযায়ী কোর্ট-ফি ও প্রসেস-ফি নির্ধারিত থাকে। দেওয়ানি মামলায় বেশি কোর্ট-ফি লাগে, কিন্তু ফৌজদারি মামলায় খুবই কম বা অনেক ক্ষেত্রে লাগে না। দরিদ্র হলে Order XXXIII CPC অনুযায়ী কোর্ট-ফি ছাড়ও পাওয়া যায়।

প্রশ্ন: সিভিল মামলা ফাইল করতে কী কী কাগজপত্র লাগে?

উত্তর: ঘটনার বিবরণ, বিবাদীর ঠিকানা, জমি/চুক্তির কাগজ, প্রমাণপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র, ভাকালতনামা ও অ্যাফিডেভিট। Order VII Rule 1 CPC অনুযায়ী Plaint–এর নির্ধারিত উপাদান থাকতে হবে।

 প্রশ্ন: ফৌজদারি মামলা আদালতে করতে চাই—খরচ কত?

উত্তর: CR Case (অভিযোগ দাখিল) করলে সাধারণত অ্যাফিডেভিট স্ট্যাম্প, প্রসেস-ফি ও অ্যাডভোকেট ফি ছাড়া আলাদা কোর্ট-ফি লাগে না। তবে FIR পুলিশে দিলে কোনো ফি লাগে না (CrPC Sec. 154)।

 প্রশ্ন: মামলা কোন আদালতে করবো কীভাবে বুঝব?

উত্তর: মামলার প্রকৃতি, দাবি মূল্য, বিবাদীর ঠিকানা এবং সম্পত্তির অবস্থানের ওপর নির্ভর করে আদালত নির্ধারণ করতে হয়। ভুল আদালতে মামলা করলে তা বাতিল হতে পারে (CPC Sec. 21)।

প্রশ্ন: রিট পিটিশন করতে কি বেশি খরচ হয়?

উত্তর: রিটে কোর্ট-ফি খুব কম, কিন্তু অ্যাফিডেভিট, কাগজপত্র সংগ্রহ এবং আইনজীবীর ফি থাকতে পারে। হাইকোর্ট রিটে কোর্ট-ফি কম রাখে যাতে নাগরিক বিচার থেকে বঞ্চিত না হন (Constitution Art. 102)।

প্রশ্ন: মামলা ফাইল করার পর কী গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে হবে?

উত্তর: প্রসেস-ফি জমা দিয়ে সমন জারি করানো, তারিখে হাজির থাকা, প্রয়োজনীয় নথি–সাক্ষী পেশ করা এবং আদালতের নির্দেশনা মেনে চলা। অনুপস্থিত হলে মামলা খারিজ হতে পারে (Order IX CPC)।

 প্রশ্ন: মামলা দেরি করলে কি সমস্যা হবে?

উত্তর: হ্যাঁ। Limitation Act, 1908 অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে। সময় পেরিয়ে গেলে মামলা গ্রহণযোগ্য হবে না।

উপসংহার 

আদালতে মামলা ফাইল করা শুধুমাত্র একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, এটি একজন নাগরিকের ন্যায়বিচার পাওয়ার মৌলিক অধিকার। কিন্তু সঠিক তথ্য না জানার কারণে অনেকেই এই প্রক্রিয়াকে জটিল, ব্যয়বহুল বা ভয়ঙ্কর মনে করেন। বাস্তবে আদালতে মামলা করা একটি সুসংগঠিত পদ্ধতির মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়, যেখানে:

  • সঠিক নথি,
  • উপযুক্ত আদালত নির্বাচন,
  • নির্ধারিত কোর্ট-ফি ও সরকারি চার্জ,
  • এবং একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর সহায়তা

এগুলো থাকলে বিচারপ্রার্থী সহজেই মামলা দাখিল করতে পারেন।

মামলার ধরন অনুযায়ী খরচ কম–বেশি হতে পারে, তবে বাংলাদেশের আইন এমনভাবে তৈরি যে কোনো নাগরিক যেন অর্থের অভাবে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন। এর জন্য রয়েছে pauper suit, কম কোর্ট-ফি, এবং ন্যায়বিচারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার সাংবিধানিক নির্দেশনা।

একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে প্রয়োজন’:

  • সময়মতো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া
  • আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া
  • নথি ও কোর্ট-ফি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা

তাহলেই মামলা ফাইলের প্রক্রিয়া সহজ, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য হয়ে ওঠে।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *