আপিল, রিভিশন ও রিভিউ: পার্থক্য, আইন, উদাহরণ ও করণীয়

আপিল, রিভিশন ও রিভিউ: পার্থক্য, আইন, উদাহরণ ও করণীয়

বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা বহুস্তরবিশিষ্ট, যেখানে বিচারপ্রার্থীরা বিভিন্ন ধাপে ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ পান। কোনো ব্যক্তি যদি মনে করেন যে নিম্ন আদালতের রায় বা আদেশ সঠিক হয়নি, অথবা আইন প্রয়োগে ভুল হয়েছে, তাহলে তিনি আদালতের কাছে আরও একবার বিবেচনার সুযোগ চাইতে পারেন। এখানেই আসে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি পথ: আপিল (Appeal), রিভিশন (Revision) এবং রিভিউ (Review)।

এই তিনটি প্রতিকার দেখতে কিছুটা মিল থাকলেও, উদ্দেশ্য, প্রক্রিয়া, ক্ষমতা এবং সীমাবদ্ধতা, সবকিছুতেই রয়েছে মূলগত পার্থক্য। অনেক সময় বিচারপ্রার্থীরা বুঝতে পারেন না কখন আপিল করতে হয়, কখন রিভিশন করতে হয় এবং কোন ক্ষেত্রে রিভিউ গ্রহণযোগ্য। ফলে ভুল পথে আবেদন করে সময়, অর্থ ও সুযোগ, সবকিছু হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়।

বাংলাদেশের ফৌজদারি ও দেওয়ানি আদালত ব্যবস্থা উভয় ক্ষেত্রেই এই প্রতিকারগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • আপিল সাধারণত রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ পুনঃবিচারের সুযোগ দেয়।
  • রিভিশন আদালতের আইনপ্রয়োগ বা বিচারিক ত্রুটি সংশোধনের ক্ষমতা।
  • রিভিউ একই আদালতের নিকট রায়ের পুনর্বিবেচনার বিশেষ সীমাবদ্ধ আবেদন।

এই আর্টিকেলের লক্ষ্য হলো, একজন সাধারণ নাগরিকও যেন সহজেই বুঝতে পারেন কোন প্রতিকার কখন প্রযোজ্য, কী ভিত্তিতে আবেদন করতে হয় এবং কোন আইনে এসবের বিধান রয়েছে।

পরবর্তী অংশে আমরা আলোচনা করব বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী আপিল, রিভিশন ও রিভিউ-এর আইনি কাঠামো, প্রাসঙ্গিক ধারা ও আদালতের ক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত।

আইনি কাঠামো ও মূল ধারা

আপিল, রিভিশন ও রিভিউ, তিনটি প্রতিকারই বাংলাদেশের দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় স্বীকৃত। প্রতিটির ভিত্তি, প্রক্রিয়া ও সীমাবদ্ধতা নির্দিষ্ট আইনে উল্লেখ আছে।

 আপিল (Appeal) – আইনি কাঠামো

আপিল হলো নিম্ন আদালতের রায়/আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে পুনর্বিচারের আবেদন।
এটি একটি বৈধ অধিকার (statutory right), আইনে অনুমোদন থাকলেই কেবল আপিল করা যায়।

দেওয়ানি মামলায় (Civil Cases) – প্রাসঙ্গিক ধারা

  • Civil Procedure Code (CPC), 1908
  • Section 96 – প্রথম আপিল (First Appeal)
  • Section 100 – দ্বিতীয় আপিল (Second Appeal)

Order 41, Order 42, Order 43 – আপিলের প্রক্রিয়া, গ্রাউন্ড, ফাইলিং ইত্যাদি

ফৌজদারি মামলায় (Criminal Cases) – প্রাসঙ্গিক ধারা

  • Code of Criminal Procedure (CrPC), 1898
  • Section 410–431 – আপিলের বিধান, মেয়াদ, আদালতের ক্ষমতা

দণ্ড, জরিমানা, আদেশের বিরুদ্ধে কোন আদালতে আপিল হবে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

আপিলের মূল বৈশিষ্ট্য

  • প্রমাণ, সাক্ষ্য, দলিল,সবকিছু পুনরায় বিচার হতে পারে।
  • আপিল আদালত রায় বাতিল, সংশোধন, পরিবর্তন বা পুনরায় বিচার (remand) আদেশ দিতে পারে।

নির্দিষ্ট আপিল মেয়াদ রয়েছে (সাধারণত ৩০–৯০ দিন, মামলার ধরনভেদে পরিবর্তিত)।

রিভিশন (Revision) – আইনি কাঠামো

রিভিশন আপিল নয়, এটি আদালতের তদারকি ক্ষমতা (supervisory jurisdiction)
রিভিশন করা হয় যখন:

  • আইনগত ত্রুটি,
  • ক্ষমতার অপব্যবহার,
  • বিচারিক বিচ্যুতি (material irregularity)
    ঘটে।

দেওয়ানি মামলায় ধারা

  • CPC, Section 115 – রিভিশন ক্ষমতা

নিম্ন আদালত আইন প্রয়োগে গুরুতর ভুল করলে উচ্চ আদালত তা সংশোধন করতে পারে।

ফৌজদারি মামলায় ধারা

  • CrPC, Sections 435–439 – রিভিশন
  • Sessions Judge ও High Court Division রিভিশন শুনতে পারেন।

রিভিশনের বৈশিষ্ট্য

  • প্রমাণ পুনর্বিবেচনা সাধারণত হয় না।
  • শুধুমাত্র আইনের ভুল বা ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রশ্ন বিচার হয়।

রিভিশন করার অধিকার অধিকারভিত্তিক নয়, এটি আদালতের বিবেচনাধীন ক্ষমতা।

রিভিউ (Review) – আইনি কাঠামো

রিভিউ হলো একই আদালতের নিকট তার নিজের রায়/আদেশ পুনর্বিবেচনার বিশেষ সুযোগ।
এটি অত্যন্ত সীমিত পরিস্থিতিতে গ্রহণযোগ্য।

দেওয়ানি মামলায় ধারা

  • CPC, Section 114
  • Order 47 Rule 1 – রিভিউ আবেদন কবে করা যাবে
    • নতুন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেলে
    • স্পষ্ট ভুল/ত্রুটি থাকলে
    • রেকর্ডে ভুলের কারণে সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হলে

ফৌজদারি মামলায়

  • ফৌজদারি রায়ে রিভিউ করা যায় শুধুমাত্র সুপ্রিম কোর্টে, সংবিধানের আলোকে।

সংবিধানিক ভিত্তি

  • বাংলাদেশ সংবিধান, Article 105
  • আপিল বিভাগ তার নিজস্ব রায়/আদেশ রিভিউ করতে পারে।

রিভিউ-এর বৈশিষ্ট্য

  • একই আদালত তার রায় পুনর্বিবেচনা করে।
  • খুব সীমিত গ্রাউন্ডে গ্রহণযোগ্য।
  • সাধারণ ভুল বা ব্যাখ্যা সংশোধনের সুযোগ নয়।
  • প্রমাণ পুনর্মূল্যায়ন সাধারণত হয় না, শুধুমাত্র “ত্রুটির সংশোধন”।

বাস্তব উদাহরণ ও আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি

আপিল, রিভিশন ও রিভিউ-এর প্রকৃতি বোঝার জন্য আদালতের বাস্তব অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের বিভিন্ন মামলায় তিনটি প্রতিকার কীভাবে ব্যবহার হয় এবং আদালত এগুলোকে কীভাবে ব্যাখ্যা করেছে, তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।

আপিলের ক্ষেত্রে আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি

আপিল আদালত সাধারণত পুরো মামলাটি নতুনভাবে পর্যালোচনা করে। এতে প্রমাণ, সাক্ষ্য, আইনগত ব্যাখ্যা, সবই পুনর্বিবেচনা করা যায়।

উদাহরণ:

একটি দেওয়ানি মামলায় নিম্ন আদালত প্লেইন্টিফের পক্ষে ডিক্রি দিল। ডিফেন্ডেন্ট আপিল করল। উচ্চ আদালত প্রমাণ ও সাক্ষ্য পুনরায় যাচাই করে দেখতে পেল সিদ্ধান্ত সঠিক নয়, ফলে রায় পরিবর্তন করা হলো।

আদালতের অবস্থান: আপিল আদালত “court of facts and law” , অর্থাৎ তথ্য ও আইন উভয়ই পুনর্মূল্যায়ন করতে পারে।
এটি বাংলাদেশের CPC Section 96 ও 100 অনুসারে প্রতিষ্ঠিত নীতি।

রিভিশনের ক্ষেত্রে আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি

রিভিশন হলো আইনি ত্রুটি সংশোধনের প্রক্রিয়া। এতে আদালত সাধারণত ফ্যাক্ট পুনর্বিবেচনা করে না।

উদাহরণ:

একটি ফৌজদারি মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভুল আইনে অভিযুক্তকে দণ্ড দিল। কিন্তু আপিলের সুযোগ না থাকায় পক্ষ রিভিশন করল।
Sessions Judge রায় পরীক্ষা করে দেখলেন, আইন ভুলভাবে প্রয়োগ হয়েছে , ফলে রায় বাতিল হলো।

আদালতের অবস্থান: রিভিশন আদালত supervisory jurisdiction প্রয়োগ করে; নিম্ন আদালত যদি:

  • jurisdiction error করে
  • আইন ভুল ব্যাখ্যা করে

বিচারিক বিচ্যুতি (material irregularity) করে
তাহলে রিভিশন আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে।
এটি CPC Section 115 ও CrPC Section 435–439-এ স্পষ্ট।

 রিভিউ-এর ক্ষেত্রে আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি

 রিভিউ-এর ক্ষেত্রে আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি

রিভিউ অত্যন্ত সীমিত পরিস্থিতিতে অনুমোদনযোগ্য। আদালত নিজ রায় পুনরায় পর্যালোচনা করবে শুধুমাত্র যেখানে:

  • নতুন প্রমাণ পাওয়া গেছে যা রায়ে প্রভাব ফেলতে পারে
  • রেকর্ডে স্পষ্ট ভুল বা ত্রুটি আছে
  • সিদ্ধান্তে “error apparent on the face of record” রয়েছে

উদাহরণ:

একটি দেওয়ানি রায়ে আদালত একটি গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট ভুলবশত বিবেচনায় নেয়নি। রায় ঘোষণার পরে পক্ষ সেই তথ্য তুলে ধরে রিভিউ আবেদন করল। আদালত রেকর্ড পর্যালোচনায় দেখল প্রকৃতপক্ষে তা রায়ের ফলাফলে পরিবর্তন আনতে পারে, ফলে রিভিউ গ্রহণ করা হলো।

আদালতের অবস্থান: রিভিউ হলো “self-correction power” , এটি আদালতের সীমিত ক্ষমতা, অপব্যবহারের সুযোগ নেই।
সংবিধানের Article 105 ও CPC Order 47 Rule 1 এই নীতিকে সমর্থন করে।

নাগরিকদের করণীয় ও পরামর্শ

আপিল, রিভিশন ও রিভিউ কখন এবং কীভাবে করতে হবে, এ বিষয়ে সচেতনতা না থাকলে ন্যায়বিচার পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সঠিক প্রতিকার বাছাই করতে নিচে সাধারণ নাগরিকদের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হলো।

কখন আপিল করবেন?

নিম্ন আদালতের রায় বা আদেশ যদি:

  • তথ্যভিত্তিকভাবে ভুল মনে হয়
  • সাক্ষ্য–প্রমাণ সঠিকভাবে মূল্যায়ন হয়নি
  • আইনের ভুল প্রয়োগে রায় ক্ষতিকর হয়েছে
  • অন্যায্য দণ্ড বা ডিক্রি দেওয়া হয়েছে

তাহলে আপিল হলো প্রধান পথ।

মিথ্যা মামলা হলে কী করবেন, এ বিষয়ে আমাদের Law Doors ওয়েবসাইটে বিস্তারিত একটি নিবন্ধ রয়েছে, প্রয়োজন হলে পরে দেখে নিতে পারেন।

করণীয়

  • রায়ের কপি সংগ্রহ করুন (certified copy)।
  • নির্ধারিত মেয়াদ (সাধারণত ৩০–৯০ দিন) গণনা করে দেরি না করে ফাইল করুন।
  • আপিল মেমোরেন্ডামে ভুল ত্রুটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন।
  • অভিজ্ঞ অ্যাডভোকেটের সহায়তায় বিস্তারিত grounds of appeal প্রস্তুত করুন।

কখন রিভিশন করবেন?

রায়/আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ না থাকলে বা:

  • আইন ভুলভাবে প্রয়োগ হয়েছে
  • আদালত ক্ষমতার বাইরে সিদ্ধান্ত দিয়েছে
  • বিচারিক বিচ্যুতি (material irregularity) হয়েছে

তখন রিভিশন প্রযোজ্য।

করণীয়

  • রায়ের আইনি ভুল শনাক্ত করতে বিশেষজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিন।
  • রিভিশনে সাধারণত প্রমাণ পুনর্বিবেচনা হয় না,তাই শুধুমাত্র আইনি ভুলগুলোকে জোর দিন।

CPC 115 বা CrPC 435–439 অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন করুন।

কখন রিভিউ করবেন?

রিভিউ অত্যন্ত সীমিত পরিস্থিতিতে গ্রহণযোগ্য। যদি”:

  • রায় ঘোষণার পর নতুন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়
  • রেকর্ডে স্পষ্ট ত্রুটি বা ভুল রয়েছে
  • আদালতের নজর এড়িয়ে এমন কোনো বিষয় সিদ্ধান্তকে পরিবর্তন করতে পারে

তখন রিভিউ করা যায়।

করণীয়

  • একই আদালতের কাছে রিভিউ আবেদন করতে হবে।
  • নতুন তথ্য বা “error apparent on the face of record” স্পষ্টভাবে বর্ণনা করতে হবে।
  • রিভিউকে আপিল বা রিভিশনের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

কোন প্রতিকারটি নির্বাচন করবেন? – সহজ নির্দেশিকা

পরিস্থিতিকোন প্রতিকার
রায় ভুল হয়েছে, প্রমাণ পুনরায় বিচার দরকারআপিল
আপিলের সুযোগ নেই কিন্তু আইনগত ভুল হয়েছেরিভিশন
একই আদালতের স্পষ্ট ভুল/ত্রুটি সংশোধনরিভিউ
নতুন প্রমাণ পাওয়া গেছেরিভিউ (উপযুক্ত হলে)
আদালত ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেরিভিশন

নাগরিকদের অতিরিক্ত পরামর্শ

  • মামলা সম্পর্কিত সকল নথির কপি সংরক্ষণ করুন।
  • রায়ের পরে সময় নষ্ট না করে দ্রুত আইনজীবীর সাথে পরামর্শ নিন।
  • সঠিক প্রতিকার নির্বাচন না করলে মামলা বাতিল বা অগ্রাহ্য হতে পারে।
  • রিভিশন ও রিভিউ সাধারণত আদালতের বিবেচনাধীন, তাই যথাযথ গ্রাউন্ড ছাড়া ফাইল করলে প্রত্যাখ্যাত হতে পারে।
  • উচ্চ আদালতে মামলা করার আগে অভিজ্ঞ অ্যাডভোকেটের পরামর্শ নিন।

নিচে সাধারণ নাগরিকদের সবচেয়ে প্রচলিত প্রশ্ন ও সংক্ষিপ্ত, স্পষ্ট এবং আইনি ভিত্তিতে উত্তর দেওয়া হলো।

প্রশ্ন: একই রায়ের বিরুদ্ধে আমি কি আপিল ও রিভিশন—দু’টিই একসাথে করতে পারি?

উত্তর: না। আপিলের সুযোগ থাকলে রিভিশন করা যায় না। রিভিশন হলো ব্যতিক্রমী প্রতিকার, যা আপিল অপ্রাপ্য হলে প্রয়োগ করা হয় (CPC 115, CrPC 435)।

প্রশ্ন: রিভিউ কি আপিলের মতো পুরো মামলা পুনর্বিচার করে?

উত্তর: না। রিভিউ খুব সীমিত পরিস্থিতিতে হয়—শুধুমাত্র স্পষ্ট ভুল বা নতুন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকলে একই আদালত তার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে (CPC Order 47 Rule 1)।

প্রশ্ন: আপিল করার সময়সীমা কত?

উত্তর: মামলার ধরন ও আদালতভেদে সময়সীমা ভিন্ন। সাধারণত ৩০–৯০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়। সময় পার হয়ে গেলে “condonation of delay” আবেদন করা যায়।

প্রশ্ন: নতুন প্রমাণ পাওয়া গেলে কি সরাসরি রিভিশন করা উচিত?

উত্তর: না। নতুন প্রমাণ সাধারণত রিভিউ বা আপিলের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয়। রিভিশনে সাধারণত নতুন প্রমাণ দেখা হয় না; শুধু আইনি ভুলই বিবেচ্য।

প্রশ্ন: ফৌজদারি মামলার দণ্ডের বিরুদ্ধে কোন আদালতে আপিল করতে হয়?

উত্তর: ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দণ্ডের বিরুদ্ধে সাধারণত Sessions Judge Court-এ আপিল করতে হয় (CrPC 408–410)। বিশেষ ক্ষেত্রে High Court Division-এ আপিল যায়।

প্রশ্ন: রিভিশন কখনই করা যাবে না এমন কোনো পরিস্থিতি আছে কি?

উত্তর: হ্যাঁ। যেখানে আপিলের সুযোগ খোলা আছে, সেখানে রিভিশন করা নিষিদ্ধ। আবার, ফ্যাক্টস পুনর্বিবেচনার জন্যও রিভিশন ব্যবহার করা যায় না।

 প্রশ্ন: রিভিউ আবেদন কি একাধিকবার করা যায়?

উত্তর: সাধারণত না। রিভিউ কেবল একবার করা যায় এবং অসাধারণ পরিস্থিতি ছাড়া পুনরায় রিভিউ গ্রহণযোগ্য নয় (Article 105)।

প্রশ্ন: আপিল ও রিভিশন—কোনটি বেশি শক্তিশালী প্রতিকার?

উত্তর: আপিল। কারণ আপিলে পুরো মামলাই পুনর্বিবেচনা করা হয়, যেখানে রিভিশন সীমিত ক্ষমতা প্রয়োগ করে এবং কেবল আইনি ভুল সংশোধন করে।

উপসংহার 

আপিল, রিভিশন ও রিভিউ, এই তিনটি প্রতিকার বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। রায় বা আদেশে ভুল থাকলে বিচারপ্রার্থী যাতে আদালতের কাছে পুনর্বিবেচনার সুযোগ পান, সেজন্যই আইন এসব প্রতিকারের পথ খুলে দিয়েছে। তবে প্রতিটি প্রতিকারের উদ্দেশ্য, প্রক্রিয়া ও সীমাবদ্ধতা ভিন্ন—এগুলো একইভাবে ব্যবহারযোগ্য নয়।

আপিল পূর্ণাঙ্গ পুনর্বিচারের সুযোগ প্রদান করে, রিভিশন আইনগত বিচ্যুতি সংশোধন করে এবং রিভিউ একই আদালতের স্পষ্ট ভুল সংশোধনের সীমিত পথ। এজন্য সঠিক প্রতিকার নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুল প্রতিকার বাছাই করলে আদালত আবেদন গ্রহণ না-ও করতে পারে, ফলে মূল্যবান সময় ও অর্থ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ন্যায়বিচারের সম্ভাবনাও কমে যায়।

একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে রায়ের পরে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, সঠিক আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া এবং আইনের নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথ প্রতিকার নির্বাচন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা এবং আইনগত সচেতনতা, দুই মিলেই একজন ব্যক্তি তার অধিকার রক্ষা করতে সক্ষম হয়

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *