জিডি (GD) ও এফআইআর (FIR) এর পার্থক্য: বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে সাধারণ মানুষ পুলিশ স্টেশনে গেলে কোন বিষয়ে জিডি করতে হবে আর কোন বিষয়ে এফআইআর বা মামলা করতে হবে, এ নিয়ে অনেক সময় বিভ্রান্তিতে পড়ে। ফলে অনেকে প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষা সময়মতো পান না, আবার কেউ কেউ ভুল প্রক্রিয়ায় আবেদন করে ঝামেলায় পড়েন।
জিডি ও এফআইআর, দুটি শব্দই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সঙ্গে যুক্ত, কিন্তু তাদের উদ্দেশ্য, প্রয়োগ, আইনি শক্তি ও ফলাফল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
জিডি সাধারণত তথ্য রেকর্ড করার জন্য করা হয়, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা হলে পুলিশের কাছে নথিভুক্ত প্রমাণ থাকে। অন্যদিকে এফআইআর হলো দণ্ডনীয় অপরাধ সংঘটিত হলে অপরাধীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (Criminal Investigation) শুরুর ভিত্তিমূলক দলিল।
আধুনিক ডিজিটাল যুগে মানুষ মোবাইল ফোনে, অনলাইনে কিংবা থানায় গিয়ে জিডি বা অভিযোগ করার সুযোগ পাচ্ছে। কিন্তু সঠিক ধারণা না থাকায় অনেকেই জরুরি পরিস্থিতিতেও জিডি করে ফিরে আসেন, যেখানে FIR করা উচিত ছিল।
এই কারণে জিডি ও এফআইআরের পার্থক্য জানা প্রতিটি নাগরিকের জন্যই আইনি সচেতনতার অংশ।
এই নিবন্ধে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী:
- জিডির উদ্দেশ্য
- এফআইআরের আইনি শক্তি
- কোন পরিস্থিতিতে কোনটি প্রয়োজন
- আদালতের ব্যাখ্যা
- নাগরিকের করণীয়
সবকিছু পরিষ্কার, সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হবে।
আপনি যদি সাধারণ নাগরিক, শিক্ষার্থী, বা আইনের নবীন পাঠকও হন, এই আর্টিকেল পড়ার পর জিডি ও এফআইআর নিয়ে আর কোনো বিভ্রান্তি থাকবে না।
জিডি (GD) ও এফআইআর (FIR)-এর আইনি ভিত্তি কী?
বাংলাদেশে জিডি ও এফআইআর দুইটি পৃথক আইনি কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হয়। এগুলোর আইনগত ক্ষমতা, উদ্দেশ্য ও প্রক্রিয়া আলাদা।
কোন পরিস্থিতিতে জিডি করবেন?
যেসব ঘটনায় অপরাধ প্রমাণিত নয় বা ভবিষ্যতে সম্ভাব্য ঝুঁকি আছে:
হারানো জিনিসপত্র (মোবাইল, NID, পাসপোর্ট, কাগজপত্র)
- নিখোঁজ হওয়া / বাড়ি থেকে বের না ফিরলে
- সন্দেহজনক ব্যক্তি বা ঘটনার তথ্য
- হুমকি পেলেও এখনো অপরাধ সংঘটিত না হলে
- ঝগড়া বা ভবিষ্যতে বিরোধের আশঙ্কা
- নিরাপত্তাজনিত সতর্কতামূলক তথ্য
কেন করবেন?
- ভবিষ্যতে আইনি জটিলতায় নিজেকে নিরাপদ রাখতে
- প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করতে
- SIM ব্লক, পাসপোর্ট পুনঃপ্রদানে প্রয়োজন
জিডি (General Diary – GD) এর আইনি ভিত্তি
কোন আইনে জিডির উল্লেখ আছে?
বাংলাদেশের Police Regulations, Bengal (PRB), 1943–এর বিধি অনুযায়ী থানায় জিডি রেজিস্টার রাখা বাধ্যতামূলক।
এটি ফৌজদারি মামলা শুরু করার আইনি ধাপ নয়; বরং তথ্য সংরক্ষণ (record keeping) হিসেবে বিবেচিত।
জিডির উদ্দেশ্য
- হারানো জিনিসপত্রের তথ্য রেকর্ড করা
- ভবিষ্যৎ ঝামেলা এড়াতে প্রমাণ হিসেবে তথ্য রাখা
- সন্দেহজনক ঘটনা, হুমকি বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি জানানো
- কারও অবস্থান, নিখোঁজ হওয়া বা নিরাপত্তা ঝুঁকির তথ্য লিপিবদ্ধ করা
জিডির আইনি শক্তি
- এটি তদন্ত বাধ্যতামূলক করে না
- পুলিশ চাইলে প্রাথমিক অনুসন্ধান করতে পারে
- এটি আদালতে supportive evidence হিসেবে বিবেচিত হতে পারে
- জিডি মূলত “নথিভুক্ত পূর্ব-তথ্য” হিসেবে কার্যকর
জিডি হলো প্রস্তুতিমূলক দলিল, অপরাধের অভিযোগ নয়।
এফআইআর (First Information Report – FIR) এর আইনি ভিত্তি
কোন আইনে FIR-এর উল্লেখ আছে?
বাংলাদেশে FIR-এর প্রক্রিয়া নির্ধারিত ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC), 1898–এর ধারা 154-এ।
এটি পুলিশকে তদন্ত শুরু করতে বাধ্য করে।
যে কোনো সঞ্জ্ঞাবহ (cognizable) অপরাধ সংঘটিত হলে FIR করা হয়।
সঞ্জ্ঞাবহ অপরাধ হলো:
- যেসব অপরাধে পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেফতার করতে পারে
- নিজে থেকেই তদন্ত শুরু করতে পারে
যেমন: হত্যা, ধর্ষণ, ডাকাতি, চুরি, প্রতারণা, মারধর, অগ্নিসংযোগ ইত্যাদি।
FIR-এর আইনি শক্তি
- এটি অপরাধ তদন্ত শুরুর প্রথম ধাপ
- পুলিশ বাধ্যতামূলকভাবে তদন্ত শুরু করবে
- তদন্ত শেষে চার্জশিট বা ফাইনাল রিপোর্ট দাখিল করবে
- আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার ভিত্তি হবে FIR
- FIR আদালতে মূল অভিযোগ হিসেবে বিবেচিত
FIR হলো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ, যা আইনত তদন্ত বাধ্যতামূলক করে।
মূল পার্থক্য (সংক্ষেপে)
| বিষয় | জিডি (GD) | এফআইআর (FIR) |
| আইনি উৎস | PRB, 1943 | CrPC, ধারা 154 |
| উদ্দেশ্য | তথ্য রেকর্ড | অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ |
| তদন্ত বাধ্যতামূলক? | না | হ্যাঁ |
| প্রযোজ্য অপরাধ | সাধারণ বিষয়/ঝুঁকি/হারানো সামগ্রী | সঞ্জ্ঞাবহ অপরাধ |
| আদালতে ভূমিকা | সহায়ক প্রমাণ | বিচারিক প্রক্রিয়ার মূল দলিল |
জিডি ও এফআইআর নিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি ও বিচারিক ব্যাখ্যা
জিডি ও এফআইআরের ব্যবহার বাস্তব জীবনে প্রায়ই ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করে। নিচে বাংলাদেশের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হলো।

বাস্তব উদাহরণ – সাধারণ নাগরিকের অভিজ্ঞতা
উদাহরণ–১: মোবাইল ফোন হারালে কী হবে?
রাহিম তার মোবাইল ফোন হারিয়ে থানায় যান। পুলিশ তাকে জিডি করতে বলে।
কারণ, এটি এখনো অপরাধ প্রমাণিত নয়; বরং একটি হারানোর ঘটনা। এই জিডি পরবর্তীতে
- সিম ব্লক করতে
- আইএমইআই নম্বর ট্র্যাক করতে
ভবিষ্যতে সেই ফোন দিয়ে অপরাধ ঘটলে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণে
ব্যবহার করা যায়।
উদাহরণ–২: মারধর বা হুমকি পেলে?
করিমকে প্রতিবেশী মারধরের হুমকি দেয়। তাকে বলা হলো:
- যদি শুধু হুমকি পেয়ে থাকেন = জিডি করতে পারেন
- কিন্তু মারধর হয়ে গেলে = এফআইআর (FIR) করতে হবে
কারণ, মারধর (hurt) হলো সঞ্জ্ঞাবহ অপরাধ; এতে FIR বাধ্যতামূলক।
উদাহরণ–৩: নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা
একজন মানুষ নিখোঁজ হলে প্রথমেই জিডি করা হয়।
যদি পরবর্তীতে সন্দেহজনক তথ্য পাওয়া যায় বা অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়, তখন পুলিশ জিডির ভিত্তিতে সঞ্জ্ঞাবহ মামলা রুজু করে FIR করতে পারে।
আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি
বাংলাদেশে বিভিন্ন মামলায় আদালত পরিষ্কারভাবে বলেছেন:
জিডি FIR-এর বিকল্প নয়
হাইকোর্ট পর্যায়ে একাধিক রায়ে বলা হয়েছে যে:
“General Diary only records information; it does not substitute an FIR for cognizable offences.”
অর্থাৎ গুরুতর অপরাধ হলে FIR করতেই হবে; শুধু জিডি করলে আইনি সুরক্ষা পাওয়া যাবে না।
FIR দাখিলের পর পুলিশ তদন্তে বাধ্য
CrPC ধারা 154 অনুযায়ী: পুলিশ কোনো সঞ্জ্ঞাবহ অপরাধের অভিযোগ পেলে তদন্ত শুরু করতে আইনত বাধ্য।
এ বিষয়ে আদালত বলেছেন: “Police cannot avoid registering an FIR when information discloses a cognizable offence.”
জিডি থেকে FIR হওয়া সম্ভব
যদি জিডির বিষয়বস্তুতে অপরাধ সংঘটনের ইঙ্গিত পাওয়া যায় এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা মনে করেন এটি সঞ্জ্ঞাবহ, তখন তিনি জিডিটিকে মামলায় রূপান্তর করতে পারেন।
এটি আইনত বৈধ।
মূল শিক্ষা (Practical Insights)
- জিডি শুধু তথ্য রেকর্ডের নথি
- FIR হলো অপরাধ তদন্তের প্রথম ধাপ
- সাধারণ বিষয় = জিডি
- অপরাধ সংঘটিত হলে = FIR
- নিখোঁজ, হারানো জিনিস, হুমকি = সাধারণত জিডি
- মারধর, চুরি, প্রতারণা, যৌন সহিংসতা = FIR
জিডি নাকি এফআইআর—কখন কী করতে হবে?
বাংলাদেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে থানায় কোন পরিস্থিতিতে জিডি করতে হবে এবং কখন FIR করতে হবে, এটি জানা অত্যন্ত জরুরি। ভুল সিদ্ধান্ত নিলে নিজেরই আইনি সুরক্ষা কমে যেতে পারে। নিচে বাস্তবমুখী নির্দেশনা দেওয়া হলো।
কোন পরিস্থিতিতে FIR (এফআইআর) করবেন?
যে কোনো সঞ্জ্ঞাবহ অপরাধ সংঘটিত হলে FIR করা বাধ্যতামূলক।
- চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই
- মারধর, আঘাত, হামলা
- নারী ও শিশু নির্যাতন, যৌন সহিংসতা
- প্রতারণা, জালিয়াতি
- হত্যাচেষ্টা বা হত্যাকাণ্ড
- অগ্নিসংযোগ, সম্পত্তি ধ্বংস
- অপহরণ
কেন FIR প্রয়োজন?
- পুলিশ বাধ্যতামূলকভাবে তদন্ত শুরু করবে
- তদন্ত শেষে চার্জশিট/ফাইনাল রিপোর্ট দেবে
আদালত FIR-এর ভিত্তিতে বিচার পরিচালনা করে
থানায় গেলে কীভাবে আবেদন করবেন?
জিডির জন্য
- যে কোনো থানায় করা যায়
- লিখিত বা মৌখিকভাবে তথ্য দিতে পারেন
- অনলাইনেও (onlinegd.police.gov.bd) GD করা যায়
- জিডি নম্বর সংগ্রহ করুন
FIR-এর জন্য
- লিখিত অভিযোগ জমা দিন
- ঘটনা, সময়, স্থান, সাক্ষী ও ক্ষতির বিবরণ দিন
- অভিযোগ নথিভুক্ত না করলে থানার ওসিকে লিখিত আবেদন করতে পারেন
- প্রয়োজনে আদালতে ধারা 190 CrPC অনুযায়ী আবেদন করা যায়
পুলিশ FIR নিতে অস্বীকার করলে কী করবেন?
পুলিশ FIR নিতে না চাইলে আপনার আইনি অধিকার:
- থানার ওসিকে লিখিত অভিযোগ দিন
- ASP/অনুবিভাগীয় অফিসারকে অভিযোগ করতে পারেন
- জেলা পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন
জমি একাধিকবার বিক্রি হলে কী করবেন? এ বিষয়ে আমাদের Law Doors ওয়েবসাইটে বিস্তারিত একটি নিবন্ধ রয়েছে, প্রয়োজন হলে পরে দেখে নিতে পারেন।
আদালতে CrPC ধারা 190-এর অধীনে বিচারকের কাছে সরাসরি অভিযোগ দাখিল
হাইকোর্টে রিট করার সুযোগ (গুরুতর ক্ষেত্রে)
মৌলিক পরামর্শ
- ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে FIR করুন
- জিডি নম্বর বা FIR কপি সংগ্রহ করুন
- নিজের কেসের নথি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করুন
- গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে অবশ্যই আইনজীবীর সহায়তা নিন
- জিডিকে FIR-এর বিকল্প মনে করবেন না
জিডি (GD) ও এফআইআর (FIR) নিয়ে সাধারণ নাগরিকদের সাধারণ প্রশ্নোত্তর
নিচে এমন ৫টির বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর দেওয়া হলো, যা সাধারণত মানুষ থানায় যাওয়ার আগে বা পরে জানতে চান।
জিডি করলে কি পুলিশ তদন্ত করে?
উত্তর: সবসময় না। জিডি তদন্ত বাধ্যতামূলক করে না। তবে যদি জিডির বিষয়বস্তুতে অপরাধের সম্ভাবনা থাকে, পুলিশ চাইলে প্রাথমিক অনুসন্ধান করতে পারে।
FIR কি শুধু ভুক্তভোগীই করতে পারে?
উত্তর: না। CrPC ধারা 154 অনুযায়ী যে কেউ সঞ্জ্ঞাবহ অপরাধের তথ্য পুলিশের কাছে দিতে পারে,ভুক্তভোগী, পরিবার, সাক্ষী বা সাধারণ নাগরিক যে কেউ FIR করতে পারেন।
আমি ভুলবশত জিডি করেছি, কিন্তু আসলে FIR লাগবে — এখন কী করবো?
উত্তর: থানায় গিয়ে লিখিতভাবে FIR করার আবেদন করুন। পুলিশ যদি মনে করে জিডির ঘটনাটি সঞ্জ্ঞাবহ অপরাধের অন্তর্ভুক্ত, তাহলে জিডিকে FIR-এ রূপান্তর করতে পারে বা নতুন FIR রেকর্ড করতে পারে।
পুলিশ FIR নিতে না চাইলে কি করণীয়?
উত্তর: প্রথমে থানার ওসিকে লিখিত অভিযোগ দিন। তাতেও কাজ না হলে ASP, SP-কে জানান। সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে CRPC ধারা 190 অনুযায়ী আদালতে সরাসরি অভিযোগ দাখিল করতে পারেন।
অনলাইন জিডি করলে কি আইনি গুরুত্ব একই থাকে?
উত্তর: হ্যাঁ। অনলাইন জিডি (onlinegd.police.gov.bd) আইনি দিক থেকে থানায় করা জিডির সমান গুরুত্ব রাখে এবং ভবিষ্যতে প্রমাণ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
জিডি ও FIR দুটোই কি একই ঘটনায় করা যায়?
উত্তর: হ্যাঁ, কিন্তু সাধারণত প্রয়োজন হয় না। কোনো ঘটনা ঘটার আগে সন্দেহ বা ঝুঁকির কথা জানাতে জিডি করা হয়। পরে যদি অপরাধ সংঘটিত হয়, তখন FIR করা হয়। একটি ঘটনা জিডি থেকে FIR-এ রূপান্তর হওয়াও সম্ভব।
FIR করার পর অভিযোগ প্রত্যাহার করা কি সম্ভব?
উত্তর: সকল অপরাধে নয়। কিছু সঞ্জ্ঞাবহ অপরাধ compoundable, কিছু non-compoundable। কয়েকটি ক্ষেত্রে বিচারকের অনুমতি ছাড়া অভিযোগ তুলে নেওয়া যায় না।
জিডি কি আদালতে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়?
উত্তর: হ্যাঁ। জিডি supportive evidence হিসেবে আদালতে ব্যবহার করা যায়, তবে এটি FIR-এর বিকল্প নয় বা শক্তির দিক থেকে FIR-এর সমমান নয়।
FIR করার জন্য কি আইনজীবীর প্রয়োজন?
উত্তর: অবশ্যই নয়। আপনি নিজেই FIR করতে পারেন। তবে গুরুতর অপরাধ, জটিল পরিস্থিতি বা প্রমাণ নিয়ে সমস্যা থাকলে আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া ভালো।
FIR করার পর কি আমি মামলা পরিচালনায় অংশ নিতে পারবো?
উত্তর: হ্যাঁ। আপনি ভুক্তভোগী হিসেবে 161 CrPC অনুযায়ী জবানবন্দি দিবেন, প্রমাণ দেবেন এবং প্রয়োজনে আদালতে সাক্ষ্য দেবেন। মামলা পরিচালনায় আপনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে।
এই FAQ অংশের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের প্রায় সব বিভ্রান্তি দূর হবে বলে আশা করি।
আপনি চাইলে আমি এখন SEO Title, Meta Description ও Focus Keyphrase-ও তৈরি করে দিতে পারি।
উপসংহার
জিডি ও এফআইআর—সঠিক সিদ্ধান্তই আইনি সুরক্ষার মূল ভিত্তি
বাংলাদেশে আইনি সহায়তা পেতে হলে প্রথম ধাপই হচ্ছে সঠিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগ করা। জিডি (GD) ও এফআইআর (FIR)-এর মধ্যে পার্থক্য স্পষ্টভাবে জানা না থাকলে অনেকেই ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের আইনি অধিকার ক্ষুন্ন করেন।
জিডি মূলত তথ্য লিপিবদ্ধ করার দলিল, যা ভবিষ্যতে নিরাপত্তা, প্রমাণ বা প্রশাসনিক প্রয়োজনে কাজে লাগে। অন্যদিকে FIR হলো আনুষ্ঠানিক অপরাধ অভিযোগ, যা পুলিশকে তদন্তে বাধ্য করে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার ভিত্তি তৈরি করে।
তাই:
- কোনো জিনিস হারালে বা সন্দেহজনক পরিস্থিতি হলে জিডি
- অপরাধ সংঘটিত হলে বা সঞ্জ্ঞাবহ অপরাধের আশঙ্কা থাকলে FIR
এই নিয়ম অনুসরণ করলেই নিজের নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।
নিবন্ধের উদ্দেশ্য হলো নাগরিককে আইনি সচেতন করা যাতে যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত, সঠিক ও আইনি পদ্ধতিতে পদক্ষেপ নিতে পারে। সঠিক জ্ঞান থাকলে আপনি নিজে যেমন নিরাপদ থাকবেন, তেমনি প্রয়োজন হলে অন্যকেও সঠিক পথে গাইড করতে পারবেন।