মাতা-পিতার সম্পত্তিতে মেয়ের অধিকার

মাতা-পিতার সম্পত্তিতে মেয়ের অধিকার: বাংলাদেশি আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ গাইড

বাংলাদেশে পারিবারিক সম্পত্তি বণ্টন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও আইনি বিষয়। বিশেষ করে মেয়ে সন্তান মাতা-পিতার সম্পত্তিতে কতটুকু অধিকার রাখে, এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা ভুল ধারণা, সামাজিক চাপ, এবং আইনি বিভ্রান্তি দীর্ঘদিন ধরে দেখা যায়। অনেক পরিবারে এখনো মনে করা হয়, “মেয়েরা বাবার বাড়ির সম্পত্তিতে অংশ পায় না”, যা সম্পূর্ণ ভুল এবং আইনের পরিপন্থী।

বাস্তবে, বাংলাদেশের প্রচলিত ধর্মীয় ও দেওয়ানি আইনে (Muslim Law, Hindu Law, Christian Law এবং Succession Laws) মেয়েরা স্পষ্টভাবে সম্পত্তির অংশীদার। তবে ধর্মভেদে অংশের পরিমাণ ও বণ্টন পদ্ধতি ভিন্ন। সমাজে সচেতনতার অভাব, পারিবারিক চাপ বা আইনি জ্ঞানের ঘাটতির কারণে অসংখ্য নারী তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকে।

এই আর্টিকেলের লক্ষ্য হলো:

  • মেয়ের সম্পত্তির অধিকার কীভাবে নির্ধারিত হয়
  • কোন আইন কতটুকু অংশ দেয়
  • আদালতের ব্যাখ্যা ও বাস্তব উদাহরণ
  • মেয়েরা কীভাবে আইন অনুযায়ী তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে পারে

এসব বিষয় সহজ, প্রফেশনাল ও আইনি ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করা, যাতে যে কেউ পাঠ করলে পরিষ্কার ধারণা পায়।

আপনি যদি বুঝতে চান:

  • মেয়ের বাবার সম্পত্তিতে অধিকার
  • মায়ের সম্পত্তিতে অধিকার
  • ভাই-বোনের অংশ হিসাব কীভাবে হয়
  • রেজিস্ট্রি, নামজারি ও দখলের বিষয়
  • আদালতে দাবি করার পথ

তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য।

বাংলাদেশে মাতা-পিতার সম্পত্তিতে মেয়ের অংশ নির্ধারণের আইনি ভিত্তি

বাংলাদেশে সম্পত্তি উত্তরাধিকার (Inheritance/Succession) আইন মূলত ধর্মভেদে পরিচালিত হয়। তাই মেয়ে সন্তানের অংশও সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় আইনের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। নিচে মুসলিম, হিন্দু ও খ্রিষ্টান, এই তিনটি প্রচলিত আইনি কাঠামো অনুযায়ী মেয়ের অধিকার ব্যাখ্যা করা হলো।

মুসলিম উত্তরাধিকার আইন (Muslim Inheritance Law)

বাংলাদেশে মুসলিমদের উত্তরাধিকার আইন কোরআন, সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াস ভিত্তিক, যা Sunni Hanafi Law অনুযায়ী পরিচালিত হয়।

মেয়ের অধিকার (Fariad Share)

মুসলিম আইনে মেয়ে একটি নির্দিষ্ট ও অবিচ্ছেদ্য অংশের অধিকারী:

(ক) একমাত্র মেয়ে থাকলে

মোট সম্পত্তির ½ (এক-দ্বিতীয়াংশ) পাবে।

(খ) একাধিক মেয়ে থাকলে

সমষ্টিগতভাবে ⅔ (দুই-তৃতীয়াংশ) পাবে, তারপর সমানভাবে ভাগ হবে।

(গ) ছেলে ও মেয়ে একসাথে উত্তরাধিকার হলে

ছেলে:মেয়ে অনুপাত = ২:১
অর্থাৎ, মেয়ে ছেলের অর্ধেক পায়।

(ঘ) মায়ের সম্পত্তিতেও মেয়ের সমান অধিকার আছে

মায়ের মৃত্যুর পর মেয়েও একই হিস্যা অনুযায়ী উত্তরাধিকার হয়।

হিন্দু উত্তরাধিকার আইন (Hindu Dayabhaga Law – Bangladesh)

বাংলাদেশে হিন্দুদের জন্য এখনো Dayabhaga School of Hindu Law প্রযোজ্য। ভারতীয় Hindu Succession Act এখানে কার্যকর নয়।

মেয়ের অধিকার

হিন্দু Dayabhaga আইনে:

  • মেয়ে স্বতন্ত্র উত্তরাধিকারী (Heir) এবং বাবার ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে অংশীদার।
  • ছেলে-মেয়ের মধ্যে সমান অংশ দেওয়া হয়।

তবে পূর্বপুরুষগত (ancestral/coparcenary) সম্পত্তিতে জটিলতা থাকতে পারে, কিন্তু বাবার স্ব-অর্জিত সম্পত্তিতে মেয়ে সম্পূর্ণ সমান অধিকার রাখে।

খ্রিষ্টান উত্তরাধিকার আইন (Christian Succession Law)

বাংলাদেশে খ্রিষ্টানদের উত্তরাধিকার নিয়ন্ত্রণ হয়:
The Succession Act, 1925 অনুযায়ী।

মেয়ের অধিকার

  • ছেলে ও মেয়ে উভয়েই সমান অংশ পায়।
  • পিতা-মাতা মৃত্যুর পর সব সন্তান সমানভাবে উত্তরাধিকার হয়।

নামজারি, রেকর্ড ও রেজিস্ট্রেশন সম্পর্কিত আইন

উত্তরাধিকার সম্পত্তি পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি ধাপগুলো হলো:

(ক) নামজারি (Mutation)

সম্পত্তির রেকর্ডে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করার আইন:

  • Land Management Manual
  • জমি রেজিস্ট্রেশন আইন ও বিধিমালা

(খ) রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮

যদি জীবদ্দশায় পিতা/মাতা সম্পত্তি দানপত্র (Gift/হেবা) দিয়ে যান, তবে রেজিস্ট্রি বাধ্যতামূলক।

জমির নামজারি করার নিয়ম, ধাপ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র | এ বিষয়ে আমাদের Law Doors ওয়েবসাইটে বিস্তারিত একটি নিবন্ধ রয়েছে, প্রয়োজন হলে পরে দেখে নিতে পারেন।

সংবিধানের দৃষ্টিতে মেয়ের সম্পত্তির অধিকার

বাংলাদেশ সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদ:

  • আইন ও সুযোগের সমতার নীতি নিশ্চিত করে।
  • নারীর বিরুদ্ধে বৈষম্য নিষিদ্ধ।

ফলে মেয়েদের উত্তরাধিকার বঞ্চিত করা সাংবিধানিক নীতিরও পরিপন্থী।

মেয়ের সম্পত্তির অধিকার

মেয়ের সম্পত্তির অধিকার নিয়ে প্রচলিত বাস্তব অভিজ্ঞতা ও বিচারিক অবস্থান

মাতা-পিতার সম্পত্তিতে মেয়ের অংশ নিয়ে বেশির ভাগ সমস্যা সৃষ্টি হয় পারিবারিক ভুল ধারণা, অজ্ঞতা ও সামাজিক চাপের কারণে। নিচে বাস্তব পরিস্থিতি ও আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হলো।

বাস্তব উদাহরণ: ভাইদের চাপে মেয়ের বঞ্চিত হওয়া

বাংলাদেশে এটি খুব সাধারণ যে:
ভাইরা বলে,
“মেয়েরা তো বরের বাড়িতে থাকে, তাই বাবার সম্পত্তিতে অংশ নেই।”

কিন্তু আইন বলছে:

  • মেয়ে আইনগতভাবে উত্তরাধিকারী (Heir)
  • অংশ দাবির অধিকার কেউ বাতিল করতে পারে না
  • মৌখিক বা পারিবারিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মেয়ের অধিকার বাতিল হয় না

উদাহরণ:
একজন নারী বাবার মৃত্যুর পর ভাইয়েরা জমি ভাগ না করলে তিনি সিভিল কোর্টে পার্টিশন স্যুট (Partition Suit) করলে আদালত তার বৈধ অংশ নির্ধারণ করে দেন।

আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি: মেয়ের অধিকার অটুট

বাংলাদেশের উচ্চ আদালত বারবার বলেছেন:

  • উত্তরাধিকার আইন ধর্মভেদে নির্দিষ্ট
  • মেয়ের অংশ আইনী অধিকার; এটি বঞ্চিত করা বৈধ নয়
  • পারিবারিক সমঝোতায় অংশ ত্যাগ ছাড়া মেয়ের অধিকার সীমাবদ্ধ করা যায় না

High Court Division-এর গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ:

  • উত্তরাধিকার জন্মসূত্রে অর্জিত অধিকার।
  • পিতার মৃত্যুর পর সম্পত্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সকল উত্তরাধিকারীর মাঝে অবিভক্তভাবে চলে যায়।
  • মেয়ের অংশ কমানো, গোপন করা বা বঞ্চিত করা “ফান্ডামেন্টাল রাইট” লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত।

হেবা/দানের মাধ্যমে বঞ্চিত করার চেষ্টা

অনেক পরিবারে বাবা জীবদ্দশায় সব সম্পত্তি ছেলেদেরকে হেবা (Gift) করে দিয়ে মেয়েকে বঞ্চিত করতে চায়।

আদালতের অবস্থান :

হেবা বৈধ হতে হলে তিনটি শর্ত থাকা বাধ্যতামূলক:

  1. দানদাতার ঘোষণা (Declaration)
  2. দানগ্রহীতার গ্রহণ (Acceptance)
  3. দখল হস্তান্তর (Delivery of Possession)

যদি প্রমাণ হয় হেবা শুধুই কাগুজে বা চাপ সৃষ্টি করে করা হয়েছে , আদালত বাতিল করতে পারে।

 মৃত সন্তান কিংবা অনুপস্থিত সন্তানের ক্ষেত্রে অংশ

উদাহরণ:

যদি মেয়ে সন্তানের মৃত্যু পিতার আগে হয়ে যায়, তার সন্তানরা (নাতি-নাতনি) কি পাবে?

  • মুসলিম আইনে: মৃত সন্তানের সন্তানেরা বাবার জায়গায় দাঁড়াতে পারে না।
  • খ্রিষ্টান/হিন্দু আইনে: নাতি/নাতনি প্রায়ই রিপ্রেজেন্টেশন-এর মাধ্যমে অংশ পায় (আইন অনুযায়ী ভিন্নতা আছে)।

আদালতে এ ধরনের মামলার সংখ্যা বেশি হওয়ায় বিচারকরা সবসময় স্পষ্ট আইনি কাঠামোর আলোকে রায় দেন।

সম্পত্তি দখল ও নামজারি সংক্রান্ত বিরোধ

অনেক সময় ভাইরা পুরো জমি দখলে রাখে এবং ভাবেন:
“দখল = মালিকানা”

কিন্তু আইন অনুযায়ী:

  • দখল মালিকানা নির্ধারণ করে না
  • নামজারি মালিকানার চূড়ান্ত প্রমাণ নয়
  • কোর্টের ডিক্রি (মালিকানা ঘোষণামূলক রায়) সর্বোচ্চ প্রমাণ

আদালত মেয়েদের দাবি করা অংশ বাস্তব বিভাজনের (Partition by metes and bounds) মাধ্যমে নিশ্চিত করতে পারে।

নাগরিকদের করণীয় ও পরামর্শ

মাতা-পিতার সম্পত্তিতে মেয়ের অধিকার নিশ্চিত করতে যা যা করতে হবে

মেয়ের সম্পত্তির অধিকার আইনগতভাবে স্পষ্ট হলেও বাস্তবে তা নিশ্চিত করতে সচেতনতা, দলিলপত্র প্রস্তুতি এবং প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া প্রয়োজন। নিচে ধাপে ধাপে করণীয় পরামর্শ দেওয়া হলো:

প্রথম ধাপ: সম্পত্তির দলিল ও রেকর্ড সংগ্রহ করা

যে সম্পত্তিতে মেয়ে অংশ দাবি করবে, সে সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা অত্যন্ত জরুরি।

  • খতিয়ান (CS, SA, RS)
  • দাখিলা/খাজনার রসিদ
  • পর্চা (নতুন রেকর্ড)
  • ক্রয় দলিল / হেবা দলিল
  • মৃত্যু সনদ (Death Certificate)
  • উত্তরাধিকার সনদ (Succession Certificate / Warishan Certificate)

এসব নথি থাকলে অংশ দাবি করা সহজ হয়।

 দ্বিতীয় ধাপ: পারিবারিকভাবে শান্তিপূর্ণভাবে ভাগ করার চেষ্টা

অনেক ক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ পারিবারিক বৈঠকের মাধ্যমে জমি-জমা ভাগ করে নেওয়া সম্ভব।

  • সকল ভাই-বোন একত্রে বসে আলোচনা
  • কে কত অংশ পাবে, আইন অনুযায়ী হিসাব করা
  • চুক্তি হলে রেজিস্ট্রেশন করে নেওয়া (Partition Deed)

নোট: লিখিত দলিল ছাড়া মৌখিক সমঝোতা পরবর্তীতে বিরোধ সৃষ্টি করে।

তৃতীয় ধাপ: নামজারি (Mutation) আবেদন করা

যখন উত্তরাধিকার সম্পত্তির ভাগ ঠিক হয় বা আদালতের রায় আসে, তখন:

  • ইউনিয়ন ভূমি অফিস / AC Land অফিসে Mutation আবেদন করতে হবে
  • প্রমিত ফরমে আবেদন
  • দলিলপত্র ও মৃত্যু সনদ সংযুক্ত
  • শুনানি শেষে রেকর্ডে নাম অন্তর্ভুক্ত হবে

Mutation না করলেও অধিকার বাতিল হয় না, কিন্তু ভবিষ্যতে লেনদেনে সমস্যা হয়।

চতুর্থ ধাপ: যদি অংশ দিতে অস্বীকার করে — সিভিল কোর্টে মামলা

যদি ভাই বা অন্য উত্তরাধিকারীরা মেয়েকে অংশ না দেয়, তাহলে:

Partition Suit (বিভাজন মামলা) করা যাবে

এটি সাধারণ সিভিল মামলা। এতে আদালত:

  • কার কত অংশ → হিস্যা নির্ধারণ
  • ব্যক্তিগত অংশ → আলাদা করে দেয়
  • প্রয়োজনে জমি জরিপ করে বাস্তব ভাগ করে দেয়

অন্য প্রয়োজনীয় মামলাসমূহ:

  • Declaration Suit – মালিকানা নিশ্চিত করতে
  • Cancellation Suit – ভুয়া হেবা/দলিল বাতিল করতে
  • njunction – জমিতে জোরপূর্বক দখল রোধ করতে

বিশেষ পরামর্শ: মেয়েদের জন্য আইনি সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি

  • নিজের অধিকার সম্পর্কে আগেই জানুন
  • সব দলিলের কপি সংগ্রহে রাখুন
  • হেবা/দানের নামে প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করুন
  • প্রয়োজনে সিভিল কোর্টে মামলা করা ছাড়া বিকল্প নেই
  • পরিবারের চাপ বা সামাজিক লজ্জার কারণে কখনোই অধিকার ছাড়বেন না, আইন আপনার পক্ষে

মাতা-পিতার সম্পত্তিতে মেয়ের অংশ নিয়ে সাধারণ জিজ্ঞাসা ও সংক্ষিপ্ত আইনি উত্তর

মেয়ে কি বাবার সম্পত্তিতে অংশ পায়?

হ্যাঁ, অবশ্যই পায়। মুসলিম, হিন্দু ও খ্রিষ্টান—সব আইনে মেয়ে বাবার স্ব-অর্জিত সম্পত্তিতে বৈধ উত্তরাধিকারী।

ভাইরা কি ইচ্ছামতো মেয়ের অংশ কমাতে বা বঞ্চিত করতে পারে?

না, পারে না উত্তরাধিকার জন্মসূত্রে পাওয়া অধিকার; এটি কেউ বাতিল করতে পারে না। কোর্টে দাবি করলে মেয়ে তার সম্পূর্ণ আইনানুগ অংশ পাবে।

পিতা জীবিত অবস্থায় ছেলেদের হেবা করে দিলে কি মেয়ে কিছু পাবে না?

শর্তসাপেক্ষ।
হেবা বৈধ হলে মেয়ে তা চ্যালেঞ্জ করতে পারে না।
কিন্তু যদি হেবা জাল/প্রতারণামূলক/দখলহীন হয় → আদালত বাতিল করতে পারে।

মায়ের সম্পত্তিতেও কি মেয়ের সমান অধিকার আছে?

হ্যাঁ। মায়ের সম্পত্তিতে মেয়ের অধিকার বাবার সম্পত্তির মতোই ধর্মভেদে নির্ধারিত।
মুসলিম আইনে একই হিস্যা, এক মেয়ে ½, একাধিক হলে ⅔, ছেলে থাকলে ২:১ অনুপাতে।

মেয়ে যদি বাবার সম্পত্তি দাবি করতে চায়, প্রথমে কী করতে হবে?

প্রয়োজনীয় দলিল সংগ্রহ করতে হবে:

  • রেকর্ড/খতিয়ান
  • দাখিলা/খাজনা
  • মৃত্যু সনদ
  • ওয়ারিশান সনদ
    এসব সংগ্রহের পর পারিবারিক সমঝোতা ব্যর্থ হলে সিভিল কোর্টে Partition Suit করা যাবে।

নামজারি (Mutation) না করলে কি মেয়ের অধিকার নষ্ট হয়ে যায়?

না। নামজারি মালিকানা সৃষ্টির প্রমাণ নয়। তবে ভবিষ্যতে বিভাজন, বিক্রি ও দখল সংক্রান্ত কাজে সুবিধার জন্য নামজারি অবশ্যই করা উচিত।

মেয়ের বিয়ে হলে বা স্বামীর বাড়িতে গেলে কি উত্তরাধিকার কমে যায়?

না, একদম না নারীর বৈবাহিক অবস্থা উত্তরাধিকার আইনে কোনো পরিবর্তন আনে না।

মৃত মেয়ের সন্তানেরা কি দাদার সম্পত্তিতে অংশ পায়?

  • মুসলিম আইনে: না, রিপ্রেজেন্টেশন নেই।
  • খ্রিষ্টান ও হিন্দু আইনে: অনেক ক্ষেত্রে রিপ্রেজেন্টেশন অনুযায়ী নাতি-নাতনি অংশ পায়।

পরিবার থেকে চাপ দিয়ে অংশ না নিতে বললে কী করবেন?

আইনজীবীর সাহায্যে সিভিল কোর্টে মামলা করতে পারেন।
মেয়ের অংশ আইন দ্বারা সুরক্ষিত; কোনো চাপ বা ভয় দেখানো বৈধ নয়।

মেয়ে কি বাবার ব্যবসা বা নগদ অর্থেও অধিকারী?

হ্যাঁ। উত্তরাধিকার শুধু জমি নয়, ব্যবসার সম্পদ, ব্যাংকের টাকা, স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পত্তিতেই সমানভাবে প্রযোজ্য।

উপসংহার 

মাতা-পিতার সম্পত্তিতে মেয়ের অধিকার—আইনি, নৈতিক ও সামাজিক একটি স্পষ্ট বাস্তবতা

শুধু ধর্মীয় আইনের ভিত্তিতেই নয়, সংবিধানগত নৈতিকতা ও ন্যায়ের ভিত্তিতেও প্রতিষ্ঠিত। আমাদের সমাজে বহুদিন ধরে চলে আসা ভুল ধারণা, “মেয়েরা সম্পত্তি পায় না”, আইন স্পষ্টভাবে ভুল প্রমাণ করেছে। মুসলিম, হিন্দু, খ্রিষ্টান,সব ধর্মীয় উত্তরাধিকার ব্যবস্থাতেই মেয়ে সন্তান একটি স্বীকৃত ও স্বাধীন উত্তরাধিকারী।

এই অধিকার:

  • জন্মসূত্রে অর্জিত,
  • স্বয়ংক্রিয়,
  • এবং কোনো পারিবারিক সিদ্ধান্ত বা সামাজিক চাপে বাতিলযোগ্য নয়।

যদি কেউ মেয়েকে তার ন্যায্য অংশ দিতে অস্বীকার করে, আইন সেই মেয়ের পাশে দাঁড়ায়। সিভিল কোর্টে বিভাজন মামলা, নামজারি আবেদন, মালিকানা ঘোষণামূলক রায়, এসব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার অধিকার সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত করা যায়।

সবশেষে, একজন আইনজীবী হিসেবে বলতে হয়:

  • মেয়েদের অধিকার দেওয়ার মাধ্যমে পরিবারে ন্যায়, সুষমতা ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠিত হয়।
  • এর মাধ্যমে সমাজ আরও মানবিক হয়, বৈষম্য কমে, এবং সাংবিধানিক ন্যায়বিচার বাস্তবে রূপ পায়।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *