স্ত্রী কীভাবে কাবিন টাকা (মহরানা) দাবি করবেন? বাংলাদেশি আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ গাইড
বাংলাদেশে মুসলিম বিবাহে কাবিন টাকা বা মহরানা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক অধিকার, যা স্ত্রীকে সম্মান, নিরাপত্তা এবং আর্থিক সুরক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে নির্ধারিত হয়। কাবিন টাকা শুধু একটি সামাজিক রীতি নয়, এটি নারীকে সুরক্ষিত রাখার জন্য ইসলামী শরীয়ত ও বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের একটি বাধ্যতামূলক আর্থিক অধিকার।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, বিবাহের সময় কাবিননামায় কাবিন নির্ধারণ করা হলেও পরে বিভিন্ন সামাজিক বা পারিবারিক কারণে অনেক নারী তাদের এই অধিকারটি আদায় করতে পারেন না। কেউ আবার জানেনই না, স্ত্রী কখন, কীভাবে এবং কোন আইনের অধিকার অনুযায়ী কাবিন টাকা দাবি করতে পারেন।
বাংলাদেশের মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী, কাবিন টাকা স্ত্রীর প্রাপ্য অধিকার এবং স্বামী তা পরিশোধে ব্যর্থ হলে স্ত্রী আইনের মাধ্যমে দাবি করতে পারেন, বিবাহ চলমান থাকুক বা তালাক হয়ে যাক, উভয় ক্ষেত্রেই।
এই আর্টিকেলে আমরা সহজ, বাস্তবসম্মত ও আইনি ভাষায় আলোচনা করব:
- স্ত্রী কীভাবে কাবিন টাকা দাবি করতে পারেন
- কোন ধারা ও আইনের ভিত্তিতে দাবি করা যায়
- আদালতের অবস্থান কী
- কোন কোন প্রমাণ লাগে
- সাধারণ নাগরিকদের জন্য বাস্তব পরামর্শ
এটি একটি পূর্ণাঙ্গ গাইড, যা একজন সাধারণ নারীও সহজেই বুঝতে পারবেন এবং প্রয়োজনে আইনি সহায়তা নিতে পারবেন।
বাংলাদেশে কাবিন টাকা (মহরানা) দাবি করার আইন
বাংলাদেশে মুসলিম নারীর কাবিন টাকা দাবি করার নিয়ম ইসলামী শরিয়তের পাশাপাশি দেশের প্রচলিত পারিবারিক আইন ও দেওয়ানি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত। নিচে সংশ্লিষ্ট আইনি ভিত্তি সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হলো:
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ (Muslim Family Laws Ordinance, 1961)
এই আইনের অধীনে মুসলিম বিবাহ, তালাক, রেজিস্ট্রেশন এবং কাবিনের আর্থিক দায়বদ্ধতা নিয়ন্ত্রিত হয়।
ধারা ৬ – বিবাহ ও কাবিননামার বৈধতা
ধারায় বলা হয়েছে, বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের সময় নির্ধারিত মহরানা (Prompt বা Deferred) স্বামীর আইনগত প্রতিশ্রুতি।
- কাবিননামায় উল্লেখিত মহর স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ত্রীর পাওনা হিসেবে গণ্য হয়।
মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪
- বিবাহ রেজিস্ট্রার কর্তৃক সংরক্ষিত কাবিননামা স্ত্রী আদালতে প্রদর্শন করলে এটি আইনি প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য ডকুমেন্ট।
- কাবিননামা কোর্টে কাবিন দাবির প্রধান প্রমাণ।
দেওয়ানি আদালতে মামলা (Civil Suit for Dower Money)
স্ত্রী কাবিন টাকা আদায়ের জন্য সাধারণত দেওয়ানি আদালতে “Suit for Recovery of Dower Money” বা মহরানা আদায়ের মামলা করতে পারেন।
এই মামলা দাখিল করা হয়:
- সিভিল কোর্ট (Joint District Judge Court বা Assistant Judge Court)
- CPC (Civil Procedure Code) অনুযায়ী
- প্রমাণাদি: কাবিননামা, তালাকনামা (যদি থাকে), সাক্ষী, বিবাহের প্রমাণ ইত্যাদি
মোহরানার ধরন – আইনি গুরুত্ব
কাবিন সাধারণত দুই ধরনের হয়:
- Prompt Dower (তাৎক্ষণিক) – স্ত্রী যেকোনো সময়ই দাবি করতে পারেন।
- Deferred Dower (মুয়াজ্জাল/বিলম্বিত) – তালাক, বিচ্ছেদ বা নির্দিষ্ট শর্ত ঘটলে পরিশোধযোগ্য।
দুটো ক্ষেত্রেই স্ত্রী দাবি করতে পারবেন, এ বিষয়টি ইসলামিক আইন ও আদালতের রুলিং দ্বারা স্বীকৃত।
সংবিধানগত সামঞ্জস্য
বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী,
- প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার
- ব্যক্তিগত আইন (Personal Law) অনুযায়ী অধিকার সুরক্ষা
সুতরাং কাবিন টাকা দাবি করা একজন নারীর ন্যায্য অধিকার, যা রাষ্ট্র আইনগতভাবে স্বীকৃতি দেয়।
দায়বদ্ধতা ও পরিণাম
স্বামী কাবিন টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে:
- আদালত স্বামীর বিরুদ্ধে ডিক্রি দিতে পারে
- সম্পত্তি/আয় থেকে আদায়ের নির্দেশ দিতে পারে
- প্রয়োজনে Execution Case করে জমি, গাড়ি, ব্যাংক ব্যালেন্স থেকে টাকা আদায় করা যায়
বাংলাদেশে কাবিন টাকা দাবির বিচারিক অবস্থান
বাংলাদেশের বিভিন্ন আদালত কাবিন টাকা আদায়ের বিষয়ে স্পষ্ট ও নারীর পক্ষে সহায়ক রায় প্রদান করেছে। নিচে বাস্তব উদাহরণ ও বিচারকদের দৃষ্টিভঙ্গি সহজ ভাষায় তুলে ধরা হলো।
বাস্তব উদাহরণ (Case Example – 1)
ঘটনা: রীনা নামে এক নারী ১৫ লাখ টাকা মোহরানায় বিবাহ করেন। পরবর্তী সময়ে স্বামী তালাক প্রদান করলেও কাবিন টাকা পরিশোধ করতে অস্বীকৃতি জানান।
আইনি পদক্ষেপ: রীনা সিভিল কোর্টে Suit for Recovery of Dower Money দায়ের করেন এবং প্রমাণ হিসেবে কাবিননামা দাখিল করেন।
আদালতের সিদ্ধান্ত:
- কাবিননামা বৈধ প্রমাণ
- তালাকের কারণে Deferred Dower (বিলম্বিত মহর) পরিশোধযোগ্য
- আদালত স্বামীকে সম্পূর্ণ ১৫ লাখ টাকা পরিশোধের আদেশ দেন
- পরিশোধ না করায় Execution Case করে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা আদায় করা হয়
বাস্তব উদাহরণ (Case Example – 2)
ঘটনা:
মিতা বিবাহ চলমান থাকা অবস্থায় Prompt Dower (তাৎক্ষণিক মহর) দাবি করেন। স্বামী টাকা দিতে অস্বীকার করেন।
আদালতের অবস্থান:
- মহরানা তাৎক্ষণিক হলে স্ত্রী যেকোনো সময় দাবি করতে পারেন
- স্বামী বৈধ কারণ ছাড়া অস্বীকৃতি জানাতে পারেন না
- আদালত বিবাহ অক্ষুণ্ণ থাকা সত্ত্বেও মহরানা আদায়ের ডিক্রি প্রদান করেন
এ ধরনের রায়ে আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়:
স্ত্রী বিবাহ চলমান থাকলেও কাবিন টাকা দাবি করতে পারেন।
হাইকোর্টের দৃষ্টিভঙ্গি
বাংলাদেশ হাইকোর্টের বিভিন্ন মামলার রায়ে বলা হয়েছে:
- কাবিননামা একটি আইনি চুক্তি
- মহর স্ত্রীর পূর্ণ আর্থিক অধিকার
- স্বামী পরিশোধ না করলে আদালত প্রয়োজনে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে পারে
- তালাক হলো Deferred Dower পরিশোধের একটি স্বয়ংক্রিয় কারণ
আদালতের ভাষায়: “Dower is not a gift; it is a legal obligation.”
ইসলামী শরীয়তের অবস্থান
ইসলামী আইনেও কাবিন স্ত্রীকে আর্থিক মর্যাদা ও সুরক্ষার জন্য বাধ্যতামূলক অধিকার হিসেবে বিবেচিত। তাই আদালত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় শরীয়তের ব্যবস্থাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে।
সারাংশ
বাংলাদেশের আদালত ধারাবাহিকভাবে কাবিন টাকা আদায়ে:
- নারীর অধিকার নিশ্চিত করছে
- কাবিননামাকে শক্তিশালী আইনি প্রমাণ হিসেবে গণ্য করছে
- স্বামী পরিশোধে ব্যর্থ হলে সম্পত্তি থেকে টাকা আদায়ের নির্দেশ দিচ্ছে

স্ত্রী কীভাবে আইনিভাবে কাবিন টাকা দাবি করবেন? (ধাপে ধাপে নির্দেশনা)
বাংলাদেশে কাবিন টাকা দাবি করা একটি সম্পূর্ণ বৈধ ও প্রতিষ্ঠিত অধিকার। নিচে একজন স্ত্রী কীভাবে আইনের মাধ্যমে কাবিন (মহরানা) আদায় করতে পারেন তার সহজ, ধাপে-ধাপে গাইড দেওয়া হলো:
প্রথম ধাপ: কাবিননামা সংগ্রহ করুন
আপনার কাবিননামার মূল কপি বা সত্যায়িত কপি সংগ্রহ করুন।
যদি না থাকে:
- বিবাহ রেজিস্ট্রারের অফিস থেকে Certified Copy সংগ্রহ করা যায়।
- এটি কোর্টে প্রধান প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
স্বামীকে কাবিন টাকা দাবি করে নোটিশ পাঠান
একজন অ্যাডভোকেটের মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো উত্তম।
নোটিশে উল্লেখ থাকবে:
- কাবিন পরিমাণ
- মহরের ধরন (Prompt/Deferred)
- পরিশোধের সময়সীমা
- পরিশোধ না করলে মামলা করা হবে
অনেক সময় নোটিশ পেলেই স্বামী টাকা পরিশোধ করে দেয়।
বাংলাদেশে বিবাহ বিচ্ছেদ (তালাক) এর আইন ও প্রক্রিয়া | এ বিষয়ে আমাদের Law Doors ওয়েবসাইটে বিস্তারিত একটি নিবন্ধ রয়েছে, প্রয়োজন হলে পরে দেখে নিতে পারেন।
অফিসিয়ালি মামলা দায়ের (Suit for Recovery of Dower Money)
স্বামী টাকা না দিলে দেওয়ানি আদালতে মামলা করতে হবে।
মামলা করা হয়:
- Assistant Judge Court
- Joint District Judge Court
(পরিমাণ বড় হলে উপরের কোর্টে)
মামলায় প্রয়োজন হবে:
- কাবিননামা
- বিবাহ/তালাকের প্রমাণ
- NIC কপি
- সাক্ষী (প্রয়োজনে)
আদালতের প্রক্রিয়া
মামলা শুরু হলে আদালত:
- উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনে
- কাবিননামার সত্যতা যাচাই করে
- কাবিনের ধরন ও পাওনা নির্ধারণ করে
- শেষ পর্যন্ত ডিক্রি (আদেশ) প্রদান করে
আদালত স্পষ্ট আদেশ দেন যে স্বামী কবে, কীভাবে টাকা পরিশোধ করবে।
ডিক্রি পাওয়ার পরে টাকা না দিলে—Execution Case
যদি স্বামী তবুও টাকা না দেন, তখন Execution Case করা যায়।
এতে আদালত করতে পারে:
- স্বামীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়া
- জমি, গাড়ি বা অন্যান্য সম্পত্তি আটক বা নিলাম
- বেতন বা আয়ের অংশ কেটে প্রদান
স্ত্রী পূর্ণ টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত প্রক্রিয়া চলবে।
পরামর্শ: নারীকে যেগুলো অবশ্যই মনে রাখতে হবে
- কাবিননামা ছাড়া আদালত মামলা নিতে পারবে না , তাই কপি রাখুন
- বিবাহ চলমান থাকলেও কাবিন দাবি করা যায়
- তালাক হলে Deferred Dower অবশ্যই পরিশোধযোগ্য
- মামলা করার আগে অ্যাডভোকেটের পরামর্শ নেওয়া ভালো
- কোর্ট ফি সাধারণত খুব বেশি নয়
- বিচারিক প্রক্রিয়া যতই দীর্ঘ হোক, অধিকার হারায় না
স্ত্রী কাবিন টাকা (মহরানা) দাবি করতে পারবেন কীভাবে — সাধারণ নাগরিকদের প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: বিবাহ চলমান থাকলেও কি স্ত্রী কাবিন টাকা দাবি করতে পারেন?
উত্তর: হ্যাঁ, পারেন। যদি কাবিন Prompt (তাৎক্ষণিক) হয়, স্ত্রী যেকোনো সময় দাবি করতে পারেন। স্বামী বৈধ কারণ ছাড়া দিতে অস্বীকার করতে পারেন না।
প্রশ্ন: তালাক হলে কি স্বামী অবশ্যই কাবিন টাকা দিতে হবে?
উত্তর: অবশ্যই। Deferred Dower (বিলম্বিত কাবিন) তালাকের সঙ্গে সঙ্গে পরিশোধযোগ্য হয়ে যায়। কোর্টে মামলা করলে ১০০% আদায়যোগ্য।
প্রশ্ন: কাবিননামা হারিয়ে গেলে কিভাবে দাবি করবো?
উত্তর: আপনার বিবাহ রেজিস্ট্রারের অফিস থেকে Certified Copy সংগ্রহ করতে পারেন। আদালতে এটি মূল প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য।
প্রশ্ন: কাবিন টাকা দাবি করতে মামলা কোথায় করতে হয়?
উত্তর: দেওয়ানি আদালতে (Assistant Judge Court বা Joint District Judge Court) Suit for Recovery of Dower Money দায়ের করতে হয়।
প্রশ্ন: স্বামী কাবিন টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কী হবে?
উত্তর: আদালত ডিক্রি দিলে স্বামী পরিশোধ করতে বাধ্য। না দিলে Execution Case করে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, জমি, গাড়ি বা আয় থেকে টাকা আদায় করা হবে।
প্রশ্ন: কাবিন টাকা আদায়ের মামলা করতে কি অনেক খরচ হয়?
উত্তর: না। কোর্ট ফি খুবই কম এবং মোট খরচ তুলনামূলকভাবে স্বল্প। এটি নারীর ন্যায্য অধিকার, তাই প্রক্রিয়াটি সহজ রাখা হয়েছে।
প্রশ্ন: শুধু মৌখিক বিবাহ হলে কি কাবিন দাবি করা যায়?
উত্তর: প্রমাণ জটিল হয়। তবে সাক্ষী, বিবাহের ছবি/ভিডিও, সম্পর্কের অন্যান্য প্রমাণ থাকলে দাবির সুযোগ থাকে। রেজিস্ট্রেশন থাকলে দাবি সহজ।
প্রশ্ন: দ্বিতীয় বিবাহের ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীর কাবিন কি বাধ্যতামূলক?
উত্তর: হ্যাঁ। স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করলেও প্রথম স্ত্রীর কাবিন টাকার দায় কমে না; এটি আলাদা অধিকার এবং পরিশোধ করতেই হবে।
উপসংহার
সংক্ষেপে—স্ত্রীর কাবিন টাকা দাবি একটি পূর্ণ আইনগত অধিকার
বাংলাদেশে মুসলিম বিবাহে কাবিন টাকা (মহরানা) শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি স্ত্রীকে আর্থিক সুরক্ষা দেওয়ার বাধ্যতামূলক আইনি ও ধর্মীয় অধিকার। স্বামী এই টাকা প্রদান করতে বাধ্য, এবং তা পরিশোধ না করলে স্ত্রী আইনগতভাবে তা দাবি করতে পারবেন, বিবাহ চলমান থাকুক বা তালাক হয়ে যাক, উভয় ক্ষেত্রেই।
কাবিননামা হলো মূল প্রমাণ, এবং দেওয়ানি আদালতের মাধ্যমে স্ত্রী সহজেই কাবিন আদায়ের মামলা করতে পারেন। প্রয়োজনে আদালত স্বামীর সম্পত্তি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা আয়ের উৎস থেকে টাকা আদায়েরও নির্দেশ দিতে পারে।
এই কারণে কাবিনকে কখনোই ‘ঐচ্ছিক’ বা ‘দয়া’ বলে মনে করা উচিত নয়। এটি নারী অধিকার, মর্যাদা ও সুরক্ষার প্রতিচ্ছবি, যা আইন এবং শরীয়ত উভয়েই সমভাবে স্বীকৃতি দেয়।