জমির নামজারি করার নিয়ম, ধাপ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র | সম্পূর্ণ গাইড
বাংলাদেশে জমি সম্পর্কিত অধিকাংশ বিরোধ, মামলা ও জটিলতার মূল কারণ হলো, সঠিকভাবে নামজারি না করা বা ভুলভাবে করা। জমির মালিকানা পরিবর্তন হলে সরকারি খতিয়ান বা ভূমি রেকর্ডে নতুন মালিকের নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়াকেই নামজারি (Mutation) বলা হয়। এটি একটি অপরিহার্য আইনি প্রক্রিয়া, যা সম্পত্তির মালিকানা স্বীকৃতি, কর প্রদান, রেকর্ড হালনাগাদ এবং ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণ ভোগদখল নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নামজারি শুধু একটি প্রশাসনিক কাজ নয়; বরং এটি মালিকানার নিরাপত্তা, সম্পত্তির মূল্য, এবং পরবর্তীতে জমি বিক্রি, হস্তান্তর বা বন্ধক দেওয়ার ক্ষেত্রে জরুরি আইনি ভিত্তি তৈরি করে। আপনি যদি কোনো জমি কেনেন, উত্তরাধিকারসূত্রে পান, আদালতের রায়ে মালিকানা লাভ করেন অথবা দান/হেবার মাধ্যমে জমি গ্রহণ করেন , সব ক্ষেত্রেই আপনার নাম রেকর্ডে যুক্ত করা বাধ্যতামূলক।
বাংলাদেশের প্রচলিত ভূমি আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী, নামজারি না করা ভবিষ্যতে মালিকানা বিতর্ক, ভূমি কর জমা দিতে সমস্যা, রেকর্ড সংশোধনে জটিলতা এবং জমি লেনদেনে নানা বাধার সৃষ্টি করতে পারে। তাই এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে সাধারণ নাগরিকের পরিষ্কার ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।
এই আর্টিকেলে আমরা পরবর্তী অংশগুলোতে ধাপে ধাপে আলোচনা করব:
- নামজারি কোন আইনের অধীনে পরিচালিত হয়
- কীভাবে আবেদন করতে হয়
- কোন কাগজপত্র লাগবে
- কোন ভুলগুলো এড়ানো উচিত
- এবং আদালত নামজারি বিষয়ে কীভাবে রায় দিয়ে থাকে
বাংলাদেশে নামজারি কোন আইনে পরিচালিত হয়?
বাংলাদেশে জমির নামজারি (Mutation) প্রক্রিয়া মূলত নিচের আইন ও বিধিমালার অধীনে পরিচালিত হয়:
ভূমি ব্যবস্থাপনা ম্যানুয়াল (Land Management Manual, 1991)
এটি নামজারি প্রক্রিয়ার প্রধান নির্দেশিকা। এখানে আবেদন গ্রহণ, তদন্ত, শুনানি, রেকর্ড সংশোধন, আপিল ও পুনর্বিবেচনা, সব ধাপ পরিষ্কারভাবে উল্লেখ আছে।
সিকিউরিটি অব ল্যান্ড রেকর্ডস অ্যাক্ট, ২০১৭
এ আইন অনুযায়ী জমির রেকর্ড ডিজিটাল পদ্ধতিতে সুরক্ষিত রাখা হয় এবং মালিকানার তথ্য সঠিকভাবে হালনাগাদ করা বাধ্যতামূলক।
রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও ভূমি রেভিনিউ আইন, ১৯৫০ (SAT Act, 1950)
ভূমি প্রশাসনের মৌলিক কাঠামো, রেকর্ড-অব-রাইটস (ROR) তৈরি এবং ভূমি কর আদায়ের প্রক্রিয়া এই আইনের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। নামজারি রেকর্ড হালনাগাদের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
ভূমি উন্নয়ন কর আইন, ২০১৯ (Land Development Tax Act, 2019)
নামজারির পর নতুন মালিকের নামে ডিজিটাল ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) প্রোফাইল তৈরি বাধ্যতামূলক।
নামজারি ছাড়া কর পরিশোধ করা আইনগতভাবে সম্ভব নয়।
নামজারি করার প্রধান আইনি উদ্দেশ্য
মালিকানা পরিবর্তন রেকর্ডে প্রতিফলন
জমি কেনাবেচা, উত্তরাধিকার, আদালতের রায় বা হেবার মাধ্যমে মালিকানা পরিবর্তন হলে তা সরকারি রেকর্ডে আপডেট করা আইনগত বাধ্যবাধকতা।
সরকারি খতিয়ান হালনাগাদ (ROR Update)
নামজারি হলো রেকর্ড সংশোধন বা নতুন মালিকের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার বৈধ প্রক্রিয়া।
ভূমি কর নির্ধারণ ও আদায়
নামজারি ছাড়া ভূমি উন্নয়ন কর জমা নেওয়া সম্ভব নয়।
আইন অনুযায়ী নতুন মালিককে নামজারি সম্পন্ন হওয়ার পর কর প্রোফাইল খুলতে হয়।
কখন নামজারি করা বাধ্যতামূলক? (আইনি ভিত্তিতে)

রেজিস্ট্রি করা জমি কেনার পর
রেজিস্ট্রি দলিল নিবন্ধনের পর ৪৫ দিনের মধ্যে নামজারি আবেদন করতে বলা আছে (ম্যানুয়াল অনুযায়ী সুপারিশকৃত সময়সীমা)।
উত্তরাধিকারসূত্রে জমি পাওয়ার পর
মৃত মালিকের সকল বৈধ ওয়ারিশের নামে যৌথভাবে নামজারি করতে হয়।
আদালতের রায় বা ডিক্রি পাওয়ার পর
রায় চূড়ান্ত হলে তা ভিত্তি করে নামজারি করা হয়।
হেবা/দান/গিফটের মাধ্যমে মালিকানা পরিবর্তন হলে
নিবন্ধিত দলিলের ভিত্তিতে নামজারি করতে হয়।
নামজারির ধাপ—আইন অনুযায়ী সারসংক্ষেপ
- আবেদন গ্রহণ (AC Land অফিসে বা অনলাইনে e-Mutation)
- তদন্ত ও শুনানি (তদন্তকারী অফিসার/Surveyor)
- রেকর্ড সংশোধন ও খতিয়ান প্রস্তুত
- নামজারি খতিয়ান (Namjari Khatiyan) প্রদান
- খাজনা প্রোফাইল তৈরি (LDTax)
নামজারি নিয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও আদালতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে নামজারি সংক্রান্ত সমস্যাগুলো সাধারণত দুই ধরনের:
- জমির মালিকানা পরিবর্তন হলেও রেকর্ডে নাম ঠিকমতো হালনাগাদ না হওয়া
- একাধিক ব্যক্তি একই জমির ওপর নামজারি দাবি করা
এ কারণে আদালত বহুবার গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছে, যা নাগরিকদের জন্য দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করে।
দলিল রেজিস্ট্রেশন ফি ক্যালকুলেটর (২০২৬) – সঠিক স্ট্যাম্প ও রেজিস্ট্রেশন চার্জ হিসাব করুন এ বিষয়ে আমাদের Law Doors ওয়েবসাইটে বিস্তারিত একটি নিবন্ধ রয়েছে, প্রয়োজন হলে পরে দেখে নিতে পারেন।
বাস্তব উদাহরণ: জমি কেনার পর নামজারি না করে সমস্যা
ঘটনা: রহিম সাহেব একটি জমি রেজিস্ট্রি করে কিনলেন, কিন্তু ব্যস্ততার কারণে নামজারি করলেন না। পরবর্তীতে দেখা গেলো পূর্বের মালিক সেই জমি আবার অন্য ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দিয়েছে এবং নতুন ক্রেতা নামজারি করে ফেলেছে।
ফলাফল: রহিমের আসল মালিকানা প্রমাণ করতে আদালতে যেতে হলো।
আদালত বললেন: রেজিস্ট্রি দলিল বৈধ হলেও রেকর্ডে নাম না থাকায় প্রশাসনিকভাবে তিনি দুর্বল অবস্থানে।এই উদাহরণ স্পষ্ট করে যে নামজারি না করলে মালিকানা বিরোধে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে।
বাস্তব উদাহরণ: এক ওয়ারিশ নামজারি করে বাকিদের বাদ দিয়ে
উত্তরাধিকারসূত্রে জমি পাওয়ার পর দেখাগেলো একজন ওয়ারিশ একাই নামজারি করে বাকিদের বাদ দিয়েছে।
পরীক্ষা-নিরীক্ষায় প্রমাণ হলো.সব ওয়ারিশদের সম্মতি নেওয়া হয়নি।
AC Land রায়: ওয়ারিশদের সম্মতি ব্যতীত একক নামজারি বাতিল।
বিচারিক ব্যাখ্যা: মৃত ব্যক্তির সব বৈধ ওয়ারিশের নামে যৌথভাবে নামজারি করা বাধ্যতামূলক।
আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি: নামজারি মালিকানার চূড়ান্ত প্রমাণ নয়
একাধিক মামলায় হাইকোর্ট বলেছে:“নামজারি মালিকানার প্রাথমিক প্রমাণ, কিন্তু চূড়ান্ত প্রমাণ নয়।” অর্থাৎ, খতিয়ান বা নামজারি রেকর্ড শক্ত প্রমাণ হলেও মালিকানা নির্ধারণের জন্য দলিল, কর রশিদ, দখলসহ অন্যান্য উপাদানও বিবেচিত হবে।
হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ নীতি
- নামজারি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, বিচারিক নয়
- ভুল নামজারি হলে সংশোধন করা যায়
- রায়-ডিক্রি থাকলে প্রশাসন তা মানতে বাধ্য
- একাধিক দাবি থাকলে শুনানি করে সিদ্ধান্ত
প্রতারণা ও নকল দলিল নিয়ে আদালতের অবস্থান
যদি নকল বা ভুয়া দলিলের ভিত্তিতে নামজারি হয়ে থাকে, আদালত নির্দেশ দেয়:
- নামজারি বাতিল
- প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মামলা দায়ের
- প্রকৃত মালিকের নাম পুনঃস্থাপন
ডিজিটাল নামজারি বিষয়ে আদালতের মতামত
ডিজিটাল e-Mutation শুরু হওয়ার পর আদালত বলেছে, “ডিজিটাল রেকর্ড ভুল হলে প্রশাসনকে তা দ্রুত সংশোধনের দায়িত্ব নিতে হবে, কারণ নাগরিক হয়রানি প্রতিরোধ করা রাষ্ট্রের বাধ্যবাধকতা।”
নামজারি করার সময় সাধারণ মানুষের কী কী করা উচিত?
জমির নামজারি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। সামান্য ভুল বা অবহেলাও ভবিষ্যতে বড় ধরনের জমি বিরোধের কারণ হতে পারে। তাই নিচের ধাপগুলো সতর্কতার সঙ্গে অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জমি ক্রয়ের পর দ্রুত নামজারি আবেদন করুন
রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হলেই দেরি না করে ৪৫ দিনের মধ্যে নামজারি আবেদন করুন।
দেরি করলে:
- রেকর্ড আপডেট জটিল হয়
- পূর্বের মালিক প্রতারণার সুযোগ পেতে পারে
- কর প্রোফাইল খুলতে সমস্যা হয়
অনলাইন (e-Mutation) ব্যবহার করুন
বর্তমানে নামজারি করার সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হলো: https://eporcha.gov.bd
এখানে অনলাইনে আবেদন, ফি প্রদান, কেস ট্র্যাকিং, সব করা যায়।
এর সুবিধা:
- দালালের প্রয়োজন কমে
- স্বচ্ছতা বাড়ে
- সময় বাঁচে
- রেকর্ড ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ হয়

আবেদন করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখুন
নামজারি আবেদনে সাধারণত যেসব কাগজ লাগে:
- রেজিস্ট্রি দলিল / হেবানামা / দানপত্র / আদালতের ডিক্রি
- পর্চা (CS/SA/RS/BS বা সর্বশেষ রেকর্ড)
- খাজনার রশিদ (সর্বশেষ)
- ওয়ারিশ সার্টিফিকেট (উত্তরাধিকারসূত্রে নামজারির ক্ষেত্রে)
- NID ও ছবি
- আবেদনকারীর মোবাইল নম্বর
- পূর্ববর্তী মালিকের দলিলের কপি (চেইন অব মালিকানা)
শুনানির দিনে উপস্থিত থাকুন
AC Land অফিস থেকে শুনানির তারিখ এসএমএসে জানানো হয়।
শুনানির দিনে:
- প্রয়োজনীয় কাগজ দেখাতে হতে পারে
- সাক্ষী থাকতে পারে
- জমির অবস্থান ও দখল বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়
- শুনানিতে অনুপস্থিত থাকলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
তদন্ত/মাপজোখে সহযোগিতা করুন
তদন্তকারী সার্ভেয়ার মাঠে এসে:
- জমির দাগ
- মালিকানা
- দখল
- প্রতিবেশী মতামত
- পরীক্ষা করে রিপোর্ট দেন।
তাই তাকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন।
নামজারি অর্ডার (J-Form) সংগ্রহ করুন
নামজারি মঞ্জুর হলে আপনাকে J-Form দেওয়া হয়।
এটি জমির রেকর্ড আপডেটের সরকারী প্রমাণ।
নতুন মালিকের নামে খাজনা প্রোফাইল খুলুন
Land Development Tax Act, 2019 অনুযায়ী:
নামজারি সম্পন্ন হওয়ার পর অবশ্যই নতুন নামে ডিজিটাল খাজনা প্রোফাইল খুলতে হবে।
এটি না করলে পরবর্তীতে:
- দলিল রেজিস্ট্রি
- পরবর্তী নামজারি
- ব্যাংক লোন
- এসব কাজে জটিলতা সৃষ্টি হয়।
দালাল ও অতিরিক্ত খরচ পরিহার করুন
নামজারি ফি খুবই কম:
- আবেদন ফি: ২০ টাকা
- খতিয়ানের কপি: ৪০ টাকা
- প্লট অনুসন্ধান ফি: ১০ টাকা
এ ছাড়া অতিরিক্ত কোনো সরকারি ফি নেই।দালালের পরামর্শে অতিরিক্ত টাকা প্রদান করবেন না।
আপিলের সুযোগ আছে
যদি নামজারি বাতিল হয় বা আপনার দাবি বিবেচনা না করা হয়:
- AC Land ⇒ আপিল
- ADC (Revenue) ⇒ পুনর্বিবেচনা
- DC অফিস ⇒ রিভিশন
আইনানুগভাবে পর্যায়ক্রমে আপিল করা যায়।
FAQ Section – নামজারি (Mutation) বিষয়ে সাধারণ প্রশ্নোত্তর
নামজারি না করলে কি জমির মালিকানা বাতিল হয়ে যায়?
উত্তর: না। মালিকানা বাতিল হয় না। তবে নামজারি না করলে রেকর্ডে আপনার নাম না থাকায় ভবিষ্যতে বিরোধ, প্রতারণা বা লেনদেনে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
জমি কেনার কতদিনের মধ্যে নামজারি করতে হবে?
উত্তর: রেজিস্ট্রি করার পর যত দ্রুত সম্ভব আবেদন করা উচিত। ভূমি ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা অনুযায়ী ৪৫ দিনের মধ্যে নামজারি আবেদন করা উত্তম।
নামজারির জন্য কী কী কাগজপত্র লাগে?
উত্তর:
- রেজিস্ট্রি দলিল
- আপডেট পর্চা (CS/SA/RS/BS)
- খাজনার রশিদ
- NID ও ছবি
- পূর্ব মালিকের দলিল (চেইন অব টাইটেল)
- ওয়ারিশ সার্টিফিকেট (উত্তরাধিকার ক্ষেত্রে)
নামজারি কি অনলাইনে করা যায়?
উত্তর: হ্যাঁ। e-Mutation (eporcha.gov.bd)–এর মাধ্যমে দেশের যেকোনো জায়গা থেকে অনলাইনে আবেদন, ফি প্রদান ও কেস ট্র্যাকিং করা যায়।
নামজারি হলে কি মালিকানার চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া যায়?
উত্তর: না। আদালতের ভাষ্য,নামজারি মালিকানার প্রাথমিক প্রমাণ, কিন্তু চূড়ান্ত নয়। দলিল, দখল ও অন্যান্য নথি মিলিয়ে মালিকানা নির্ধারণ হয়।
নামজারি বাতিল হলে কী করা যায়?
উত্তর: আপনি ধারাবাহিকভাবে আপিল করতে পারেন:
- AC Land ⇒ আপিল
- ADC (Revenue) ⇒ পুনর্বিবেচনা
- DC অফিস ⇒ রিভিশন
উত্তরাধিকারসূত্রে নামজারির ক্ষেত্রে কি সব ওয়ারিশের সম্মতি দরকার?
উত্তর: হ্যাঁ। সব বৈধ ওয়ারিশের নামে যৌথভাবে নামজারি করতে হয়। একজন ওয়ারিশ এককভাবে নামজারি করতে পারে না।
নামজারির সরকারি ফি কত?
উত্তর:
- আবেদন ফি: ২০ টাকা
- খতিয়ান (নামজারি খতিয়ান) কপি: ৪০ টাকা
- প্লট অনুসন্ধান ফি: ১০ টাকা
- এ ছাড়া অন্য কোনো সরকারি ফি নেই
নামজারি কি দালাল ছাড়া করা যায়?
উত্তর: অবশ্যই। অনলাইন e-Mutation ব্যবহার করলে দালালের প্রয়োজন পড়ে না। সব প্রক্রিয়া নিজেই সম্পন্ন করা যায়।
নামজারি সম্পন্ন হওয়ার পর কী করতে হবে?
উত্তর:
- নতুন মালিকের নামে ডিজিটাল খাজনা প্রোফাইল খুলতে হবে
- নামজারি খতিয়ানের কপি সংগ্রহ করতে হবে
- ভবিষ্যতের লেনদেনের জন্য কাগজগুলো সংরক্ষণ করতে হবে
উপসংহার
জমির নামজারি (Mutation) বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সঠিক সময়ে নামজারি করা হলে জমির মালিকানা নিয়ে ভবিষ্যতের বড় ধরনের বিরোধ, প্রতারণা বা জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়। রেকর্ডে আপনার নাম থাকা মানেই আপনি আইনি কাঠামোর মধ্যে স্বীকৃত মালিক, এটি শুধু একটি প্রশাসনিক কাগজ নয়, বরং আপনার সম্পত্তির সুরক্ষা।
নামজারি প্রক্রিয়া এখন সম্পূর্ণ ডিজিটাল হওয়ায় সাধারণ মানুষের জন্য এটি আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ হয়েছে। সঠিক দলিল, খতিয়ান, কর-রশিদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রেখে আবেদন করলে নামজারি সম্পন্ন করা আজ আর কঠিন কাজ নয়। শুনানি, তদন্ত ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করলে অল্প সময়েই আপনাকে আপডেটেড রেকর্ড বা নামজারি খতিয়ান প্রদান করা হয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো: নামজারি মালিকানার চূড়ান্ত প্রমাণ না হলেও মালিকানা দাবির শক্তিশালী প্রশাসনিক ভিত্তি। এটি ছাড়া জমি বিক্রি, বন্ধক, খাজনা প্রদান, লোন গ্রহণবে, শিরভাগ ক্ষেত্রেই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
সুতরাং, জমির প্রকৃত মালিকানা সুরক্ষিত রাখতে, ভবিষ্যৎ লেনদেন সহজ করতে এবং আইনগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সময়মতো নামজারি করা অত্যাবশ্যক।