গ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম অর্থসহ | সুন্দর, আধুনিক ও কুরআনিক নামের তালিকা
সন্তানের নাম শুধু একটি পরিচয় নয়, এটি তার ব্যক্তিত্ব, বিশ্বাস ও ভবিষ্যৎ জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। একটি সুন্দর ও অর্থবহ নাম শিশুর মানসিক গঠন, আত্মপরিচয় এবং সামাজিক মর্যাদায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে মুসলিম পরিবারগুলোতে সন্তানের জন্য নাম নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দায়িত্ব হিসেবেই বিবেচিত হয়।
বর্তমানে অনেক বাবা–মা সন্তানের জন্য অর্থবহ, মার্জিত এবং ইসলাম সম্মত নাম খুঁজছেন। সেই ধারাবাহিকতায় “গ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম অর্থসহ” বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। এই আর্টিকেলে আমরা ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে নামের গুরুত্ব, ভালো নাম রাখার প্রয়োজনীয়তা এবং বিশেষভাবে ‘গ’ অক্ষর দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম বাছাইয়ের কারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।
ইসলাম অনুযায়ী নামের গুরুত্ব
ইসলামে নামের গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর। কিয়ামতের দিন মানুষকে তার নাম ও পিতার নাম দিয়ে ডাকা হবে, এটি হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। তাই নাম যেন অর্থপূর্ণ, সুন্দর এবং ইসলাম সম্মত হয়, এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন।
ভালো নাম মানুষের ব্যক্তিত্বে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, আর খারাপ বা অর্থহীন নাম মানুষকে মানসিকভাবে আঘাত করতে পারে। ইসলামে এমন নাম রাখতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে যার মধ্যে ভালো অর্থ, উত্তম গুণাবলি এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের ইঙ্গিত থাকে।
কেন ইসলামিক নাম রাখা জরুরি
ইসলামিক নাম রাখা জরুরি হওয়ার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে:
প্রথমত, ইসলামিক নাম মুসলিম পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নাম শুনেই যেন বোঝা যায় ব্যক্তি একজন মুসলিম, এটি আত্মপরিচয় ও বিশ্বাসের প্রকাশ।
দ্বিতীয়ত, ইসলামিক নাম সাধারণত ইতিবাচক অর্থ বহন করে। যেমন, সত্যবাদিতা, ধৈর্য, আল্লাহ ভীতি, জ্ঞান, সাহস ইত্যাদি গুণের প্রতিফলন ঘটে নামের মাধ্যমে।
তৃতীয়ত, অইসলামিক বা অর্থহীন নাম কখনো কখনো শিরক, কুসংস্কার বা অনৈতিক ধারণা বহন করতে পারে, যা ইসলাম সমর্থন করে না। তাই নিরাপদ ও উত্তম পথ হলো ইসলাম সম্মত নাম নির্বাচন করা।
কেন ‘গ’ দিয়ে নাম খোঁজা হয়
অনেক বাবা–মা সন্তানের নাম নির্দিষ্ট একটি অক্ষর দিয়ে শুরু করতে পছন্দ করেন। এর পেছনে পারিবারিক ঐতিহ্য, নামের মিল, ডাকনাম সহজ হওয়া বা জ্যেষ্ঠদের পছন্দের বিষয় জড়িত থাকতে পারে।
‘গ’ অক্ষর দিয়ে শুরু হওয়া ইসলামিক নামগুলো সাধারণত সংক্ষিপ্ত, উচ্চারণে সহজ এবং শ্রুতিমধুর। এছাড়া এই অক্ষর দিয়ে এমন কিছু সুন্দর নাম পাওয়া যায় যেগুলো গুণ, মর্যাদা ও সম্মানের অর্থ বহন করে।
অনেক পরিবারে বাবা, দাদা বা পরিবারের অন্য সদস্যদের নামের প্রথম অক্ষরের সঙ্গে মিল রেখে সন্তানের নাম রাখা হয়। সেই কারণেও “গ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম” নিয়ে খোঁজ বাড়ছে।
ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে সন্তানের নাম রাখার নিয়ম
ইসলামে সন্তানের নাম রাখা শুধু সামাজিক রীতি নয়, বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আমানত। একজন বাবা–মা সন্তানের জন্য যে নামটি নির্বাচন করেন, তা তার পুরো জীবনের পরিচয় হয়ে থাকে। তাই নাম নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইসলাম কিছু সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে।
ইসলাম অনুযায়ী সন্তানের নাম রাখা উত্তম হয় জন্মের দিন বা সপ্তম দিনে। হাদিসে এসেছে, সপ্তম দিনে শিশুর আকিকা করা, নাম রাখা এবং মাথার চুল মুড়িয়ে সদকা করার কথা। তবে সময়ের আগে বা পরে নাম রাখলেও তা বৈধ, শর্ত হলো নামটি যেন অর্থপূর্ণ ও ইসলাম সম্মত হয়।
কুরআন ও হাদিসের আলোকে ভালো নামের বৈশিষ্ট্য
কুরআন ও হাদিসে ভালো নামের কিছু বৈশিষ্ট্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে:
প্রথমত, নামের অর্থ অবশ্যই সুন্দর ও ইতিবাচক হতে হবে। এমন নাম রাখা যাবে না যার অর্থ খারাপ, অশুভ বা নেতিবাচক।
দ্বিতীয়ত, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় নাম হলো যেসব নামের মধ্যে আল্লাহর দাসত্বের প্রকাশ আছে। যেমন, আব্দুল্লাহ, আব্দুর রহমান ইত্যাদি। যদিও সব নাম ‘আব্দ’ দিয়ে শুরু হওয়া বাধ্যতামূলক নয়, তবে দাসত্ব ও আনুগত্যের ভাব থাকলে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
তৃতীয়ত, নবী–রাসূল, সাহাবায়ে কেরাম ও নেককার ব্যক্তিদের নাম রাখা উত্তম। এসব নাম ইতিহাস, আদর্শ ও অনুপ্রেরণার প্রতীক।
চতুর্থত, নামের উচ্চারণ সহজ ও মার্জিত হওয়া উচিত, যাতে মানুষ নামটি সম্মানের সঙ্গে ডাকতে পারে।
কোন ধরনের নাম রাখা উচিত
ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে যেসব নাম রাখা উত্তম:
- যেসব নামের অর্থ ভালো ও ইতিবাচক
- যেসব নাম আল্লাহর গুণাবলি বা দাসত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত
- নবী, রাসূল ও সাহাবিদের নাম
- নৈতিক গুণাবলি বোঝায় এমন নাম
- আরবি বা ইসলামিক উৎস থেকে আগত নাম
“গ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম” খুঁজতে গিয়ে এসব বিষয় মাথায় রাখলে নাম নির্বাচন সহজ ও নিরাপদ হয়।
কোন ধরনের নাম এড়িয়ে চলা উচিত
ইসলামে কিছু নাম রাখা নিরুৎসাহিত বা নিষিদ্ধ:
- যেসব নামের অর্থ খারাপ বা অপমানজনক
- শিরক সংশ্লিষ্ট নাম (যেখানে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও দাসত্ব বোঝায়)
- অহংকার বা অতিরঞ্জনের অর্থ বহন করে এমন নাম
- অইসলামিক বিশ্বাস বা পৌরাণিক ধারণার সঙ্গে যুক্ত নাম
- এমন নাম যার অর্থ নিজেই পরিষ্কার নয় বা বিভ্রান্তিকর
একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো এমন নাম বেছে নেওয়া, যা দুনিয়া ও আখিরাত, উভয় ক্ষেত্রেই কল্যাণ বয়ে আনে।

গ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নামের তালিকা (প্রথম অংশ)
এই অংশে আমরা গ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম থেকে বাছাইকৃত ১২–১৫টি সুন্দর, অর্থবহ ও ইসলামসম্মত নাম তুলে ধরছি। প্রতিটি নামের সঙ্গে থাকবে অর্থ, উৎস এবং সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা, যাতে বাবা–মা সহজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
১. গালিব
অর্থ: বিজয়ী, পরাজয়হীন
উৎস: আরবি
ব্যাখ্যা: গালিব এমন একজন ব্যক্তিকে বোঝায়, যিনি সত্য ও ন্যায়ের পথে অটল থেকে বিজয় লাভ করেন। নামটি আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ়তার প্রতীক।
২. গাফফার
অর্থ: অতিশয় ক্ষমাশীল
উৎস: আরবি (আল্লাহর গুণবাচক নাম থেকে আগত)
ব্যাখ্যা: গাফফার ক্ষমা ও দয়ার প্রতীক। এই নামটি শিশুর চরিত্রে ক্ষমাশীলতা ও সহনশীলতার গুণ তৈরি করার প্রেরণা দেয়।
৩. গাজি
অর্থ: আল্লাহর পথে সংগ্রামকারী, যোদ্ধা
উৎস: ইসলামিক/আরবি
ব্যাখ্যা: গাজি শব্দটি ইসলামের ইতিহাসে সম্মানিত একটি উপাধি। এটি সাহস, আত্মত্যাগ ও ঈমানি শক্তির প্রতীক।
৪. গালিম
অর্থ: জ্ঞানী, পণ্ডিত
উৎস: আরবি
ব্যাখ্যা: গালিম এমন একজন ব্যক্তিকে বোঝায়, যিনি জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় সমৃদ্ধ। শিক্ষা ও নৈতিক বোধের প্রতিফলন ঘটে এই নামে।
৫. গাসিম
অর্থ: বণ্টনকারী, ন্যায়সঙ্গতভাবে ভাগকারী
উৎস: আরবি
ব্যাখ্যা: গাসিম নামটি ন্যায়বিচার ও ভারসাম্যের অর্থ বহন করে। এটি একটি মর্যাদাপূর্ণ ও মার্জিত ইসলামিক নাম।
৬. গাফুর
অর্থ: ক্ষমাশীল, দয়ালু
উৎস: আরবি
ব্যাখ্যা: গাফুর আল্লাহর অন্যতম গুণবাচক নাম থেকে অনুপ্রাণিত। নামটি মানবিকতা ও উদার মানসিকতার প্রতীক।
৭. গাদির
অর্থ: শক্তিশালী, সক্ষম
উৎস: আরবি
ব্যাখ্যা: গাদির এমন একজন ব্যক্তিকে বোঝায়, যিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে দৃঢ়। এই নামটি আত্মনির্ভরশীলতার ইঙ্গিত দেয়।
৮. গালিবুর
অর্থ: বিজয় অর্জনকারী
উৎস: আরবি
ব্যাখ্যা: গালিবুর নামটি সাফল্য ও অগ্রগতির প্রতীক। যারা জীবনে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে চায়, তাদের জন্য এই নামটি উপযুক্ত।
৯. গাবির
অর্থ: সান্ত্বনাদানকারী, দুঃখ লাঘবকারী
উৎস: আরবি
ব্যাখ্যা: গাবির নামটি সহানুভূতি ও মানবিকতার প্রতীক। এটি একজন মানুষের কোমল ও সহৃদয় চরিত্র প্রকাশ করে।
১০. গাইয়াস
অর্থ: সাহায্যকারী, রক্ষাকারী
উৎস: আরবি
ব্যাখ্যা: গাইয়াস এমন একজন ব্যক্তিকে বোঝায়, যিনি বিপদে অন্যের পাশে দাঁড়ান। এই নামটি সামাজিক দায়িত্ববোধের প্রতিফলন।
১১. গামিদ
অর্থ: দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, অবিচল
উৎস: আরবি
ব্যাখ্যা: গামিদ নামটি ধৈর্য ও স্থিরতার প্রতীক। জীবনের কঠিন মুহূর্তেও অবিচল থাকার মানসিকতা প্রকাশ পায়।
১২. গাফিল
অর্থ: সরল, নির্দোষ
উৎস: আরবি
ব্যাখ্যা: যদিও শব্দটির ব্যবহার সীমিত, তবে এর অর্থ সরলতা ও নির্ভেজাল মনোভাব নির্দেশ করে। নাম বাছাইয়ের সময় অর্থ বুঝে নেওয়া জরুরি।
১৩. গালান
অর্থ: সম্মানিত, মর্যাদাবান
উৎস: ইসলামিক/আরবি
ব্যাখ্যা: গালান নামটি সামাজিক মর্যাদা ও ভদ্রতার ইঙ্গিত দেয়। এটি একটি আধুনিক ধাঁচের ইসলামিক নাম হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
১৪. গালিবান
অর্থ: সম্ভাব্য বিজয়ী
উৎস: আরবি
ব্যাখ্যা: এই নামটি আশা ও অগ্রগতির প্রতীক। ভবিষ্যতে সফল হওয়ার ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে।
১৫. গাইদান
অর্থ: পথপ্রদর্শক
উৎস: আরবি
ব্যাখ্যা: গাইদান এমন একজনকে বোঝায়, যিনি অন্যকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন। নেতৃত্ব ও দায়িত্ববোধের প্রকাশ ঘটে এই নামে।
গ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নামের তালিকা (দ্বিতীয় অংশ)
এই অংশে আরও ১২–১৫টি গ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম দেওয়া হলো। এখানে ক্লাসিক নামের পাশাপাশি কিছু আধুনিক ও সুন্দর নাম আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে বর্তমান প্রজন্মের বাবা–মায়েরা সহজে পছন্দ করতে পারেন।
১. গুলাম
অর্থ: দাস, অনুগত
উৎস: আরবি
ব্যাখ্যা: গুলাম শব্দটি আনুগত্য ও বিনয়ের প্রতীক। সাধারণত আল্লাহর দাসত্বের ভাব প্রকাশে এই নাম ব্যবহৃত হয়।
২. গুলজার
অর্থ: ফুলে ভরা বাগান
উৎস: ফারসি (ইসলামিক সংস্কৃতিতে ব্যবহৃত)
ব্যাখ্যা: গুলজার নামটি সৌন্দর্য, সতেজতা ও ইতিবাচকতার প্রতীক। এটি একটি নান্দনিক অর্থবহ নাম।
৩. গাজিয়ান
অর্থ: বীর যোদ্ধা
উৎস: আরবি
ব্যাখ্যা: গাজিয়ান নামটি সাহস ও আত্মত্যাগের ইঙ্গিত দেয়। ইসলামের ইতিহাসে গাজিদের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ।
৪. গাফির
অর্থ: ক্ষমাকারী
উৎস: আরবি
ব্যাখ্যা: গাফির ক্ষমাশীলতা ও দয়ার প্রতীক। এটি একটি সংক্ষিপ্ত ও সুন্দর ইসলামিক নাম।
৫. গাইস
অর্থ: সাহায্য, সহায়তা
উৎস: আরবি
ব্যাখ্যা: গাইস এমন একজন ব্যক্তিকে বোঝায়, যিনি অন্যের বিপদে এগিয়ে আসেন। সামাজিক মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটে এই নামে।
৬. গালিবুল
অর্থ: বিজয় লাভকারী
উৎস: আরবি
ব্যাখ্যা: গালিবুল নামটি সফলতা ও অগ্রগতির বার্তা বহন করে। এটি আত্মবিশ্বাসী চরিত্র গঠনে অনুপ্রেরণা দেয়।
৭. গাদিরুল
অর্থ: শক্তিশালী ও সক্ষম
উৎস: আরবি
ব্যাখ্যা: এই নামটি সামর্থ্য ও দৃঢ়তার প্রতীক। নামটির অর্থ শিশুর ভবিষ্যৎ ব্যক্তিত্বে শক্তিমত্তার ধারণা যোগ করে।
৮. গামিল
অর্থ: পরিপূর্ণ, সম্পূর্ণ
উৎস: আরবি
ব্যাখ্যা: গামিল নামটি পূর্ণতা ও ভারসাম্যের ইঙ্গিত দেয়। এটি একটি মার্জিত ও কম ব্যবহৃত নাম।
৯. গালিহ
অর্থ: সম্মানিত, মর্যাদাসম্পন্ন
উৎস: আরবি
ব্যাখ্যা: গালিহ নামটি সামাজিক সম্মান ও শালীনতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
১০. গাফন
অর্থ: নিরাপত্তাদানকারী
উৎস: ইসলামিক
ব্যাখ্যা: এই নামটি রক্ষা ও নিরাপত্তার ভাব প্রকাশ করে। অর্থবহ হলেও তুলনামূলকভাবে বিরল।
আধুনিক ও সুন্দর গ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম
নিচের নামগুলো আধুনিক ধাঁচের, উচ্চারণে সহজ এবং বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়—
১১. গালিন
অর্থ: কোমল, সদাচারী
উৎস: ইসলামিক
ব্যাখ্যা: গালিন একটি আধুনিক নাম, যা ভদ্রতা ও নম্রতার প্রতীক।
১২. গাইফান
অর্থ: আলোকিত, দীপ্তিময়
উৎস: ইসলামিক
ব্যাখ্যা: এই নামটি আশাবাদ ও ইতিবাচক ভবিষ্যতের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
১৩. গাদিন
অর্থ: দৃঢ় ও স্থির
উৎস: ইসলামিক
ব্যাখ্যা: গাদিন নামটি মানসিক দৃঢ়তা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের ইঙ্গিত দেয়।
১৪. গালিফ
অর্থ: সফল, অগ্রসর
উৎস: আধুনিক ইসলামিক
ব্যাখ্যা: আধুনিক হলেও নামটির অর্থ ইতিবাচক ও অনুপ্রেরণামূলক।
১৫. গাইন
অর্থ: কল্যাণের উৎস
উৎস: ইসলামিক
ব্যাখ্যা: সংক্ষিপ্ত ও আধুনিক এই নামটি কল্যাণ ও উপকারের প্রতীক।
সন্তানের নাম রাখার সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখা উচিত
সন্তানের নাম নির্বাচন একটি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। নাম শুধু পরিচয়ের মাধ্যম নয়, বরং তা শিশুর ব্যক্তিত্ব, আত্মমর্যাদা ও ধর্মীয় পরিচয়ের প্রতিফলন। তাই গ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম নির্বাচন করার সময় নিচের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত,
প্রথমত, নামের অর্থ অবশ্যই সুন্দর ও ইতিবাচক হতে হবে। কোনো নাম উচ্চারণে ভালো লাগলেও যদি তার অর্থ নেতিবাচক হয়, তাহলে সেই নাম পরিহার করা উত্তম।
দ্বিতীয়ত, নাম যেন ইসলামের মৌলিক আকিদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়। শিরকপূর্ণ, অহংকারমূলক বা অইসলামিক বিশ্বাস প্রকাশ করে, এমন নাম বর্জন করা জরুরি।
তৃতীয়ত, নামের উচ্চারণ সহজ ও প্রাঞ্জল হওয়া উচিত। যাতে পরিবার, সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নামটি সম্মানের সঙ্গে উচ্চারিত হয়।
চতুর্থত, নামের উৎস জানা থাকা ভালো। আরবি ও ইসলামিক উৎস থেকে আগত নাম হলে তা অধিক গ্রহণযোগ্য ও নিরাপদ হয়।
পঞ্চমত, আধুনিকতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নাম রাখলেও অর্থ ও ইসলামিক ভাব যেন বজায় থাকে, এ বিষয়টি বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে।
গ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: গ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম কি কুরআনে পাওয়া যায়?
উত্তর: সরাসরি সব নাম কুরআনে নাও থাকতে পারে, তবে অনেক নাম আরবি ভাষা ও ইসলামিক ঐতিহ্য থেকে আগত, যেগুলোর অর্থ ও ভাব কুরআন–হাদিসসম্মত।
প্রশ্ন ২: আধুনিক গ দিয়ে নাম রাখা কি ইসলামসম্মত?
উত্তর: হ্যাঁ, যদি নামের অর্থ ভালো হয়, শিরকমুক্ত হয় এবং ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়, তাহলে আধুনিক নাম রাখা সম্পূর্ণ বৈধ।
প্রশ্ন ৩: আল্লাহর গুণবাচক নাম কি সরাসরি রাখা যাবে?
উত্তর: আল্লাহর নির্দিষ্ট গুণবাচক নাম সরাসরি না রেখে ‘আব্দ’ যুক্ত করে রাখা উত্তম। যেমন, গাফুরের পরিবর্তে আব্দুল গাফুর।
প্রশ্ন ৪: নাম রাখার উত্তম সময় কখন?
উত্তর: ইসলামে সপ্তম দিনে নাম রাখা উত্তম বলে হাদিসে উল্লেখ আছে। তবে জন্মের দিন বা পরে নাম রাখলেও তা বৈধ।
প্রশ্ন ৫: গ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম কম পাওয়া যায় কেন?
উত্তর: বাংলা বর্ণমালার ‘গ’ অক্ষর দিয়ে আরবি নাম তুলনা মূলক ভাবে কম প্রচলিত। তবে অর্থবহ ও সুন্দর অনেক নাম রয়েছে, যেগুলো সচেতন ভাবে বাছাই করা যায়।
উপসংহার
সন্তানের নাম একটি দোয়ার মতো, যা সারাজীবন তার সঙ্গে থাকে। তাই নাম নির্বাচনে তাড়াহুড়া না করে চিন্তাভাবনা, জ্ঞান ও ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয় করা অত্যন্ত জরুরি।
এই আর্টিকেলে আমরা গ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম অর্থসহ বিষয়টি বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরেছি, ইসলামে নামের গুরুত্ব থেকে শুরু করে নামের তালিকা, আধুনিক নাম, করণীয় বিষয় এবং সাধারণ প্রশ্নোত্তর পর্যন্ত।
আশা করা যায়, এই পূর্ণাঙ্গ গাইডটি আপনার সন্তানের জন্য একটি সুন্দর, অর্থবহ ও ইসলাম সম্মত নাম বেছে নিতে সহায়ক হবে। আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের সন্তানদের নেককার ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী করেন, আমিন।