ঈ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম অর্থসহ | আধুনিক, সুন্দর ও অর্থবহ নামের তালিকা
একটি সন্তানের জন্ম শুধু একটি পরিবারেই নয়, বরং একটি সমাজের জন্যও আশীর্বাদ স্বরূপ। ইসলাম সন্তানের প্রতিটি অধিকারকে গুরুত্ব দিয়েছে, জন্মের আগ মুহূর্ত থেকে শুরু করে তার নামকরণ পর্যন্ত। একটি সুন্দর, অর্থবহ ও ইসলাম সম্মত নাম শিশুর পরিচয়, ব্যক্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ চরিত্র গঠনে গভীর প্রভাব ফেলে।
বর্তমানে অনেক মুসলিম বাবা–মা সন্তানের জন্য অর্থসহ সুন্দর ইসলামিক নাম খুঁজছেন। বিশেষ করে যারা বাংলা বর্ণমালার নির্দিষ্ট অক্ষর দিয়ে নাম রাখতে চান, তাদের মধ্যে “ঈ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম” একটি জনপ্রিয় অনুসন্ধান। এই আর্টিকেলে আমরা ধাপে ধাপে ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে নামের গুরুত্ব, নাম রাখার প্রয়োজনীয়তা এবং কেন ‘ঈ’ দিয়ে নাম খোঁজা হয়, সে বিষয়গুলো বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করব।
ইসলাম অনুযায়ী নামের গুরুত্ব
ইসলামে নাম শুধু একটি ডাকনাম নয়; বরং এটি মানুষের পরিচয়, দোয়া এবং ভবিষ্যৎ আচরণের প্রতিফলন। হাদিসে এসেছে, কিয়ামতের দিন মানুষকে তার নাম ও পিতার নাম ধরে ডাকা হবে। তাই নামের অর্থ সুন্দর ও তাৎপর্যপূর্ণ হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজে ভালো অর্থপূর্ণ নাম পছন্দ করতেন এবং খারাপ অর্থযুক্ত নাম পরিবর্তন করে দিতেন। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, নাম মানুষের মনোজগৎ ও আচরণে প্রভাব ফেলে। একটি ভালো নাম শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং তার ব্যক্তিত্বে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে।
কেন ইসলামিক নাম রাখা জরুরি
ইসলামিক নাম রাখার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে:
১. ঈমানি পরিচয় বজায় রাখা:
একটি ইসলামিক নাম শিশুকে তার মুসলিম পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত রাখে। নাম শুনেই বোঝা যায় সে মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
২. দোয়া ও অর্থের প্রভাব:
ইসলামিক নামগুলোর বেশিরভাগই আল্লাহর গুণবাচক নাম, নবী–রাসূল বা সাহাবিদের নাম, কিংবা উত্তম গুণাবলির প্রতীক। এসব নাম শিশুর জন্য এক প্রকার দোয়ার মতো কাজ করে।
৩. সমাজে ইতিবাচক গ্রহণযোগ্যতা:
অর্থপূর্ণ ও সুন্দর ইসলামিক নাম সমাজে সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি করে। নামের অর্থ জানলে মানুষও শিশুটির প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে।
৪. সুন্নাহ অনুসরণ:
ইসলামিক নাম রাখা মূলত রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর সুন্নাহ অনুসরণ করা। এটি মুসলিম হিসেবে আমাদের দায়িত্বের অংশ।
কেন ‘ঈ’ দিয়ে নাম খোঁজা হয়
অনেক বাবা–মা সন্তানের নাম নির্দিষ্ট অক্ষর দিয়ে রাখতে পছন্দ করেন। এর পেছনে কিছু বাস্তব ও সাংস্কৃতিক কারণ রয়েছে:
১. পারিবারিক ঐতিহ্য:
অনেক পরিবারে দেখা যায়, নির্দিষ্ট বর্ণ দিয়ে নাম রাখার রীতি রয়েছে। পূর্ব পুরুষদের নামের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই তারা একই অক্ষর বেছে নেন।
২. জ্যোতিষ বা নামের মিল (সাংস্কৃতিক প্রভাব):
যদিও ইসলাম জ্যোতিষে বিশ্বাস সমর্থন করে না, তবে সমাজে প্রচলিত কিছু ধারণার কারণে অনেকে নির্দিষ্ট অক্ষর দিয়ে নাম খোঁজেন।
৩. ইউনিক ও কমন নয় এমন নামের চাহিদা:
‘ঈ’ বাংলা বর্ণমালার তুলনামূলক কম ব্যবহৃত একটি অক্ষর। তাই এই অক্ষর দিয়ে নাম রাখলে নামটি ইউনিক ও আলাদা পরিচিতি পায়।
৪. সুন্দর উচ্চারণ ও গভীর অর্থ:
‘ঈ’ দিয়ে শুরু হওয়া অনেক ইসলামিক নাম রয়েছে যেগুলোর উচ্চারণ মাধুর্যময় এবং অর্থ অত্যন্ত সুন্দর ও গভীর।
এই কারণেই বর্তমানে অনেকেই “ঈ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম” খুঁজে থাকেন, যাতে নামটি হয় ইসলাম সম্মত, অর্থবহ ও ব্যতিক্রমধর্মী।
ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে সন্তানের নাম রাখার নিয়ম
ইসলামে সন্তানের নাম রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতস্বরূপ কাজ। এটি শুধু সামাজিক রীতি নয়; বরং শরিয়ত সম্মত কিছু নীতিমালার আলোকে নাম নির্বাচন করতে হয়। নামের মাধ্যমে সন্তানের পরিচয় গড়ে ওঠে এবং তার জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে এই নাম বহন করতে হয়।
ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে নাম রাখার সময় যেসব নিয়ম অনুসরণ করা উচিত:
- নামের অর্থ অবশ্যই ভালো ও শালীন হতে হবে
- নামটি শিরক বা কুফরপূর্ণ অর্থ বহন করা যাবে না
- আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট গুণবাচক নাম (যেমন: আল-মালিক, আল-খালিক) “আব্দ” ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না
- নাম এমন হওয়া উচিত যা শুনলে ইসলামি পরিচয় স্পষ্ট হয়
এই নিয়মগুলো মানা হলে নামটি শুধু সুন্দরই নয়, বরং সওয়াবের কারণও হতে পারে।
কুরআন ও হাদিসের আলোকে ভালো নামের বৈশিষ্ট্য
ইসলাম ভালো নামের ব্যাপারে অত্যন্ত স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে। হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“তোমরা কিয়ামতের দিন তোমাদের নাম ও তোমাদের পিতার নাম দ্বারা ডাকা হবে। সুতরাং তোমরা সুন্দর নাম রাখো।”
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, নামের সৌন্দর্য ও অর্থ কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
ভালো ইসলামিক নামের কিছু বৈশিষ্ট্য:
- তাওহীদের বার্তা বহন করে
- ইবাদত ও নৈতিকতার দিকে উদ্বুদ্ধ করে
- নবী–রাসূল, সাহাবি বা নেককার ব্যক্তিদের স্মরণ করিয়ে দেয়
- মানবিক ও উত্তম গুণাবলির প্রতীক হয়
যেমন, সততা, ধৈর্য, নেতৃত্ব, দয়া, ন্যায়পরায়ণতা ইত্যাদি গুণ প্রকাশ পায় এমন নাম ইসলামি দৃষ্টিতে প্রশংসনীয়।
কোন ধরনের নাম রাখা উচিত
ইসলাম অনুযায়ী নিচের ধরনের নাম রাখা উত্তম:
১. ‘আব্দ’ যুক্ত নাম
যেমন: আব্দুল্লাহ, আব্দুর রহমান, এগুলো আল্লাহর প্রতি বান্দার সম্পর্ক প্রকাশ করে।
২. নবী–রাসূলদের নাম
যেমন: ইবরাহিম, মূসা, ঈসা (আ.), এসব নাম ঈমানি আদর্শ বহন করে।
৩. সাহাবি ও নেককার ব্যক্তিদের নাম
এই নামগুলো ইসলামের ইতিহাস ও ত্যাগের স্মারক।
৪. সুন্দর অর্থবোধক আরবি নাম
যেসব নাম কুরআন বা ইসলামি ভাষা আরবি থেকে এসেছে এবং অর্থ ইতিবাচক।
কোন ধরনের নাম এড়িয়ে চলা উচিত
ইসলামে কিছু নাম রাখা নিরুৎসাহিত বা নিষিদ্ধ:
১. খারাপ বা নেতিবাচক অর্থযুক্ত নাম
যেমন: দুঃখ, ধ্বংস, অহংকার বা হিংসা প্রকাশ করে এমন নাম।
২. শিরকপূর্ণ নাম
যেখানে আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর প্রতি ইবাদত বা অতিরঞ্জন প্রকাশ পায়।
৩. কাফির বা বিজাতীয় ধর্মীয় প্রতীকযুক্ত নাম
যা ইসলামি আকিদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
৪. অতিরিক্ত অহংকারমূলক নাম
যেমন: রাজাধিরাজ, সর্বশক্তিমান ইত্যাদি (যা কেবল আল্লাহর জন্য প্রযোজ্য)।
এই নীতি মালাগুলো জানা থাকলে “ঈ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম” নির্বাচন করাও সহজ হয়ে যায়। পরবর্তী অংশে আমরা সরাসরি নামের তালিকা ও অর্থ নিয়ে আলোচনা শুরু করব।

ঈ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নামের তালিকা (প্রথম অংশ)
এই অংশে আমরা “ঈ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম”–এর একটি বাছাইকৃত তালিকা উপস্থাপন করছি। প্রতিটি নামের সাথে থাকবে, নামের অর্থ, উৎস এবং সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা, যাতে বাবা–মা সহজেই অর্থবহ ও ইসলামসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
ঈমান (Īmān)
- অর্থ: বিশ্বাস, দৃঢ় আস্থা
- উৎস: আরবি / ইসলামিক
- ব্যাখ্যা: আল্লাহ, রাসূল ও আখিরাতের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাসকে বোঝায়। ঈমান নামটি সন্তানের মধ্যে ধর্মীয় দৃঢ়তা ও নৈতিকতা কামনা করে।
ঈসা (Īsā)
- অর্থ: আল্লাহর একজন মহান নবী
- উৎস: আরবি / কুরআনিক
- ব্যাখ্যা: নবী ঈসা (আ.)–এর নাম। কুরআনে বহুবার উল্লেখিত একটি সম্মানিত নাম, যা পবিত্রতা ও সত্যের প্রতীক।
ঈহসান (Īḥsān)
- অর্থ: উৎকর্ষতা, সুন্দরভাবে কাজ করা
- উৎস: আরবি / ইসলামিক
- ব্যাখ্যা: ইবাদত ও আচরণে সর্বোচ্চ সুন্দর মান বজায় রাখার শিক্ষা দেয়। হাদিসে ঈহসানের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ।
ঈমাদ (Īmād)
- অর্থ: ভরসা, স্তম্ভ
- উৎস: আরবি
- ব্যাখ্যা: পরিবার ও সমাজের জন্য নির্ভরযোগ্য ও শক্ত ভিত্তির প্রতীক হিসেবে এই নামটি ব্যবহৃত হয়।
ঈলিয়াস (Īlyās)
- অর্থ: একজন নবীর নাম
- উৎস: আরবি / কুরআনিক
- ব্যাখ্যা: নবী ঈলিয়াস (আ.)–এর নাম। ধৈর্য, তাওহীদ ও সত্যের পথে অবিচল থাকার প্রতীক।
ঈকবাল (Īqbāl)
- অর্থ: সৌভাগ্য, উন্নতি
- উৎস: আরবি
- ব্যাখ্যা: জীবনে উন্নতি, সম্মান ও আল্লাহর অনুগ্রহ কামনা করে এই নামটি রাখা হয়।
ঈহাব (Īhāb)
- অর্থ: দান করা, উপহার দেওয়া
- উৎস: আরবি
- ব্যাখ্যা: দানশীলতা ও উদারতার গুণ প্রকাশ করে। একজন সহানুভূতিশীল মানুষের পরিচায়ক।
ঈমরান (Īmrān)
- অর্থ: সমৃদ্ধি, উন্নয়ন
- উৎস: আরবি / কুরআনিক
- ব্যাখ্যা: কুরআনের একটি সূরার নাম (আলে ইমরান)। নেতৃত্ব ও সম্মান জনক বংশের প্রতীক।
ঈশতিয়াক (Īshtiyāq)
- অর্থ: গভীর আকাঙ্ক্ষা, আগ্রহ
- উৎস: আরবি
- ব্যাখ্যা: আল্লাহর নৈকট্য লাভের আগ্রহ ও কল্যাণের প্রতি আকর্ষণ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
ঈলহাম (Īlhām)
- অর্থ: অন্তরের প্রেরণা
- উৎস: আরবি / ইসলামিক
- ব্যাখ্যা: আল্লাহর পক্ষ থেকে অন্তরে আসা সঠিক চিন্তা ও প্রেরণার প্রতীক।
ঈনান (Īnān)
- অর্থ: লাগাম, নিয়ন্ত্রণ
- উৎস: আরবি
- ব্যাখ্যা: আত্মসংযম, নিয়ন্ত্রণ ও দায়িত্বশীলতার ভাব প্রকাশ করে।
ঈফান (Īfān)
- অর্থ: জ্ঞান, উপলব্ধি
- উৎস: আরবি
- ব্যাখ্যা: বুদ্ধিমত্তা ও গভীর উপলব্ধির প্রতীক হিসেবে এই নামটি ব্যবহৃত হয়।
ঈলম (Īlm)
- অর্থ: জ্ঞান
- উৎস: আরবি / ইসলামিক
- ব্যাখ্যা: ইসলামে জ্ঞানের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। এই নামটি জ্ঞানান্বেষণের অনুপ্রেরণা দেয়।
এই তালিকাটি ঈ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম–এর প্রথম অংশ। পরবর্তী অংশে আরও সুন্দর, আধুনিক ও অর্থবহ নাম উপস্থাপন করা হবে, যেখানে কিছু নাম বিশেষভাবে আধুনিক পছন্দ হিসেবে আলাদা করে উল্লেখ থাকবে।
ঈ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নামের তালিকা (দ্বিতীয় অংশ)
এই অংশে “ঈ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম”–এর আরও কিছু সুন্দর, অর্থবহ ও ইসলামসম্মত নাম তুলে ধরা হলো। এখানে বিশেষভাবে আধুনিক ও মাধুর্যময় নামগুলো আলাদা করে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাতে বর্তমান প্রজন্মের বাবা–মা সহজে পছন্দ করতে পারেন।
ঈনায়েত (Īnāyat)
- অর্থ: অনুগ্রহ, দয়া
- উৎস: আরবি
- ব্যাখ্যা: আল্লাহর দয়া ও করুণার প্রতীক। এই নামটি সন্তানের জীবনে রহমতের দোয়া হিসেবে বিবেচিত।
ঈহতেশাম (Īhteshām)
- অর্থ: মর্যাদা, সম্মান
- উৎস: আরবি
- ব্যাখ্যা: ব্যক্তিত্বে শালীনতা ও সম্মানবোধ প্রকাশ করে।
ঈলফাত (Īlfat)
- অর্থ: বন্ধুত্ব, সখ্যতা
- উৎস: আরবি
- ব্যাখ্যা: মানুষের সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার গুণ বোঝায়।
ঈশফাক (Īshfāq)
- অর্থ: স্নেহ, সহানুভূতি
- উৎস: আরবি
- ব্যাখ্যা: দয়া ও মানবিকতার গুণ প্রকাশ করে, একজন নরম হৃদয়ের মানুষের প্রতীক।
ঈসরার (Īsrār)
- অর্থ: দৃঢ় সংকল্প
- উৎস: আরবি
- ব্যাখ্যা: লক্ষ্যপূরণে দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাসের পরিচায়ক।
ঈব্রাহ (Ībrāḥ)
- অর্থ: শিক্ষা, উপলব্ধি
- উৎস: আরবি
- ব্যাখ্যা: জ্ঞান ও বোধশক্তির প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত একটি সংক্ষিপ্ত ও আধুনিক নাম।
ঈমতিয়াজ (Īmtiyāz)
- অর্থ: বিশেষত্ব, পার্থক্য
- উৎস: আরবি
- ব্যাখ্যা: ভিড়ের মধ্যে আলাদা পরিচয় ও গুণাবলির ইঙ্গিত দেয়।
ঈরফান (Īrfān)
- অর্থ: গভীর জ্ঞান, প্রজ্ঞা
- উৎস: আরবি / ইসলামিক
- ব্যাখ্যা: আধ্যাত্মিক জ্ঞান ও উপলব্ধির প্রতীক। ইসলামি পরিভাষায় অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ নাম।
ঈকতিদার (Īqtidār)
- অর্থ: ক্ষমতা, সামর্থ্য
- উৎস: আরবি
- ব্যাখ্যা: নেতৃত্ব, দায়িত্ব ও সক্ষমতার ভাব প্রকাশ করে।
ঈসার (Īsār)
- অর্থ: আত্মত্যাগ, অন্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া
- উৎস: আরবি / ইসলামিক
- ব্যাখ্যা: ইসলামে ঈসারের গুণ অত্যন্ত প্রশংসনীয়, নিজের চেয়ে অন্যের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
ঈহতিমাম (Īhtimām)
- অর্থ: যত্ন, গুরুত্ব দেওয়া
- উৎস: আরবি
- ব্যাখ্যা: দায়িত্ববোধ ও মনোযোগের প্রতীক।
ঈশতেহার (Īshtehār)
- অর্থ: পরিচিতি, সুনাম
- উৎস: আরবি
- ব্যাখ্যা: ভালো কাজের মাধ্যমে পরিচিতি লাভের ইঙ্গিত দেয়।
ঈলতিফাত (Īltifāt)
- অর্থ: সদয় দৃষ্টি, মনোযোগ
- উৎস: আরবি
- ব্যাখ্যা: নম্রতা, ভদ্রতা ও সৌজন্যের প্রতীক।
আধুনিক ও সুন্দর নাম (বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য)
বর্তমান সময়ে যেসব নাম উচ্চারণে আধুনিক, ছোট ও অর্থবহ, সেগুলো হলো:
ঈরফান, ঈসার, ঈমতিয়াজ, ঈসরার, ঈব্রাহ, ঈলফাত
এই নামগুলো একদিকে যেমন ইসলামসম্মত, অন্যদিকে তেমনি আধুনিক সমাজে ব্যবহার উপযোগী ও আকর্ষণীয়।
সন্তানের নাম রাখার সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখা উচিত
সন্তানের নাম একটি আজীবনের পরিচয়। তাই “ঈ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম” বাছাই করার সময় নিচের বিষয় গুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা জরুরি:
১. নামের অর্থ আগে জানুন
নাম সুন্দর শোনালেই যথেষ্ট নয়; তার অর্থ যেন ইতিবাচক, শালীন ও ইসলামসম্মত হয়। অর্থ অজানা থাকলে পরে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
২. কুরআন ও সুন্নাহর সঙ্গে সামঞ্জস্য
নবী–রাসূল, সাহাবি কিংবা কুরআনে উল্লেখিত নাম হলে তা অধিক মর্যাদাপূর্ণ হয়। একই সঙ্গে শিরক বা নিষিদ্ধ অর্থ বহন করে—এমন নাম এড়িয়ে চলতে হবে।
৩. উচ্চারণ ও বানান সহজ রাখুন
নাম যেন সহজে উচ্চারণযোগ্য ও লেখার সময় জটিল না হয়। এতে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক জীবনে সন্তানের সুবিধা হয়।
৪. আধুনিকতা ও ইসলামিক ভারসাম্য
আধুনিক নাম পছন্দ করা দোষের নয়, তবে আধুনিকতার নামে ইসলামবিরোধী বা অর্থহীন নাম বেছে নেওয়া ঠিক নয়।
৫. পরিবারের সঙ্গে পরামর্শ করুন
নাম রাখার আগে পরিবারে আলোচনা করলে ভুলের সম্ভাবনা কমে এবং নামটি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়।
ঈ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্নোত্তর
১. ঈ দিয়ে কি পর্যাপ্ত ইসলামিক নাম আছে?
উত্তর: হ্যাঁ। আরবি ও ইসলামিক উৎসে ‘ঈ’ দিয়ে শুরু হওয়া বহু সুন্দর, অর্থবহ ও কুরআনিক নাম রয়েছে।
২. ঈ দিয়ে রাখা নাম কি অবশ্যই আরবি হতে হবে?
উত্তর: ইসলামি দৃষ্টিতে নামের ভাষা নয়, অর্থ ও আকিদা গুরুত্বপূর্ণ। তবে আরবি নামগুলো কুরআন ও হাদিসের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হওয়ায় বেশি গ্রহণযোগ্য।
৩. আধুনিক নাম কি ইসলাম সম্মত হতে পারে?
উত্তর: অবশ্যই পারে, যদি নামের অর্থ ভালো হয় এবং ইসলামি আকিদার পরিপন্থী না হয়।
৪. নবীর নাম রাখা কি উত্তম?
উত্তর: হ্যাঁ। নবী–রাসূলদের নাম রাখা সুন্নাহসম্মত এবং তা শিশুর জন্য সম্মানের বিষয়।
৫. নাম পরিবর্তন করা কি জায়েজ?
উত্তর: যদি কারও নামের অর্থ খারাপ বা ইসলামবিরোধী হয়, তাহলে তা পরিবর্তন করা জায়েজ; বরং উত্তম।
উপসংহার
ইসলামে সন্তানের নাম রাখা কোনো সাধারণ বিষয় নয়; এটি একটি দায়িত্ব ও আমানত। একটি সুন্দর, অর্থবহ ও ইসলামসম্মত নাম শিশুর জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং তার ঈমানি পরিচয়কে দৃঢ় করে।
এই আর্টিকেলে আমরা ধাপে ধাপে “ঈ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম”–এর গুরুত্ব, নীতিমালা এবং অর্থসহ বিস্তৃত তালিকা তুলে ধরেছি, যাতে বাবা–মা সহজেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এমন নাম বেছে নেওয়ার তাওফিক দান করুন, যা সন্তানের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ বয়ে আনে, আমিন।